ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

অনলাইন ডেস্ক –

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ, তবে এবার বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি এসেছে ভিন্ন মহিমায়; ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে বাংলাদেশে।

সুদীর্ঘ আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তৎকালীন রেস কোর্সের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময়ে তুলে ধরে একাত্তরের সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমরা যখন মরতে শিখেছি; কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।

“রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। দিনটিকে বাঙালির ইতিহাসের অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা।

ভোরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ‌্য দিয়ে এ দিনের কর্মসূচি শুরু করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিযে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে আওয়ামী লীগের জনসভা; শেখ হাসিনা সেখানে সভাপতিত্ব করবেন।

ঐতিহাসিক এ দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।”

১৯৭১ সালের সাতই মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, “একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।”

বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা। এ ভাষণ বাঙালিকে উজ্জীবিত স্বাধীনতার স্বপ্নে। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে স্বাধীনতার জন্য এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতি। সাতই মার্চ তাই বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। পরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

৭ মার্চ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে সকাল ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান সহযোগী সংগঠনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ। বিকাল তিনটায় তবলছড়ি বাজার থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment