প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন


কাপেং ফাউন্ডেশনের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশিত

সংবাদ বিভাগ, শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

Kapeng

ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালে আদিবাসীদের উপর ৭টি সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত করেছে এবং তাদের বাড়ি এবং সম্পত্তি লুট করেছে। আদিবাসী নারী ৭ জনসহ মোট ১৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং অন্তত ১২৬ জন আদিবাসীকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় পাহাড়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অধিগ্রহণ হয়েছে প্রায় তিন হাজার ৯১১ একর জমি। পাশাপাশি সমতলে এক বছরে ১০২টি ক্ষুদ্রজাতি পরিবারকে ভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে,এবং ৮৮৬টি পরিবার উচ্ছেদের হুমকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ৮৪ হাজার ৬ শত ৪৭ একর ভূমি জবরদখল ও অধিগ্রহণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা কাপেং ফাউন্ডেশনের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর কমপক্ষে ১২২ জন ক্ষুদ্রজাতির নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসনসহ শান্তিচুক্তির মূল বিষয়গুলো গত ১৭ বছরেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি সরকার দিলেও এখন পর্যন্ত এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন রবীন্দ্রনাথ সরেন এর সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মেচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাজেরা সুলতানা এমপি; বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন চৈতালী ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনা করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের হিরন মিত্র চাকমা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান ও অক্সফামের সহযোগিতায় কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আদিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, সমতল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় আমি নিজে আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সরেজমিনে ঘুরে এসে এর সত্যতা পেয়েছি। তবে আশঙ্কা হয়, আদিবাসীদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর কোন বিচার হবে কিনা, শুধু তাই নয়, যারা আদিবাসীদের জন্য কাজ করে তাদের উপরও কোন ধরনের হামলা হলে তারও বিচার হবে কিনা।
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আদিবাসী, বাঙালি সকলে মিলে যে দেশ স্বাধীন করেছি আজ স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও আদিবাসীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি। বরং তাদের মানবাধিকারকে এই রাষ্ট্র ও কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ প্রতিনিয়ত পদদলিত করছে। তিনি পার্বত্য চট্ট্রগাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
হাজেরা সুলতানা এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আদিবাসীদের জীবন ভূমিকে নিয়ে, এখন যেভাবে আদিবাসীদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে তারা কিভাবে বাঁচবে? সরকার পার্বত্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন করছে, কিন্তু ভূমি বিষয়টা বাদ দিয়ে সরকারের কোন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে লাভ হবেনা। তিনি ভূমি বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, আদিবাসীদের জীবন প্রকৃতি নির্ভর। কিন্তু আজ তাদেরকে প্রকৃতি থেকে জোর করে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইকোপার্ক বা পর্যটন কেন্দ্রের নামে আদিবাসীদেরকে তাদের নিজ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি এর বিরুদ্ধে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানান এবং আদিবাসীর প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধারা এখন দেশত্যাগ করছে। কখন একজন মুক্তিযোদ্ধা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়? আদিবাসীদের উপর এভাবে নির্যাতন চলতে থাকলে আগামীতে আরো অনেক আদিবাসী দেশত্যাগ করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আদিবাসীদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে সরকার এবং  প্রশাসনকে বের হয়ে এসে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপার্সন চৈতালী ত্রিপুরা বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের বোঝা উচিত একটা জনগোষ্ঠী কতটা অধিকারহীন হলে দেশান্তরি হতে বাধ্য হয়।”
বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্ট ২০১৪ এর সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর মংসানু চৌধুরী ও কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। মানবাধিকার রিপোর্টের কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহ সাধারণ সম্পাদক বিনোতাময় ধামাই, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য পার্বতী রায়, ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী বাবলু চাকমা; আদিবাসী মানবাধিকার ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য সায়ন দেওয়ান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক মানিক সরেন, আদিবাসী মানবাধিকার ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য তন্ময় কিরন চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সিলভিয়া খিয়াং ও কাপেং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মঙ্গল কুমার চাকমা।
মানবাধিকার রিপোর্ট ২০১৪ এর সারাংশে বলা হয়, বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়া ৫৪টির অধিক আদিবাসী জাতি বসবাস করলেও সংবিধান এসব নৃ-তাত্ত্বিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদেরকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার আদিবাসীদেরকে “উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়” হিসেবে অভিহিত করেছে। সেই সাথে বাংলাদেশের জনগণকে জাতি হিসেবে বাঙাই পরিচিতি প্রদান করায় এসব আদিবাসী জাতিসমূহকেও ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অধিকন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত ‘আদিবাসী’ শব্দটির পরিবর্তে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আদিবাসীদেরকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও ট্রাইবাল হিসেবে অভিহিত করেছে।
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশের আদিবাসীদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের হার তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে। বাঙালি সেটলার এবং ভূমি দস্যুরা আদিবাসীদের উপর ৭টি সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত করেছে এবং তাদের বাড়ি এবং সম্পত্তি লুট করেছে। অন্তত ৮ জন আদিবাসীকে হত্যা করা হয়েছে (যৌন সহিংসতায় ৭ জন আদিবাসী নারী হত্যা ছাড়াও) এবং ৫ জন আদিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের সাজানো মামলায় আসামী বানানো হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১২৬জন আদিবাসীকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
ভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকার বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে চলেছে। এর ফলে শুধু আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে শুধু বাধাগ্রস্তই করা হচ্ছেনা, সেই সাথে ভূমিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই আদিবাসী ও বাঙালি ভূমিদস্যুদের মধ্যে সহিংসতা বাড়ছে। ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় তিন হাজার নয়শত ১১ একর ভূমি সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং সেখানে চুরাশি হাজার ছয়শত ৪৭ একর ভূমি জবরদখল ও অধিগ্রহণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদিবাসীদের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে সমতল অঞ্চলের ৮৯ টি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ৬৪ টি আদিবাসী পরিবার ভূমিদস্যু কর্তৃক সংঘটিত আক্রমণের শিকার হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত সাজানো মামলায় ১০ জন আদিবাসীকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১০৬ জন ও সমতল অঞ্চলে ৪৪ জনসহ মোট ১৫০ জন আদিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদিবাসী নারী ও শিশুদের অধিকারের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বলা হয়, আদিবাসীদের মধ্যে নারী সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়। ২০১৪ সালে ১২২ জন আদিবাসী নারী ও শিশু যৌন ও শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়। ২০১৪ সালে আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতার ঘটনা মোট ৭৫ টি ঘটেছে। ৭৫ টি ঘটনার মধ্যে ৫১ টি ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে ও বাকি ২৪ টি সমতলে। ২০১৩ সালে মোট ৬৭ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়। সেই বছরের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাপক মাত্রায় আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর যৌন হয়রানি বৃদ্ধি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
২০১৪ সালে ৭ জন আদিবাসী নারী ও শিশুকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২ জন এবং সমতল অঞ্চলে ৭ জনসহ মোট ২১ জন আদিবাসী নারী ও শিশু ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৬২ জন আদিবাসী নারী ও শিশু অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। তাছাড়া ২২ জন আদিবাসী নারী ও শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে বর্তমান অবস্থা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ পর্যালোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যকার ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৭ বছরে পদার্পন করেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আছে এবং ২০১৪ সালেও দ্বিতীয় বারের মত অাবার ক্ষমতায় থাকে । দীর্ঘ ৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
রিপোর্ট প্রকাশ ও উন্মোচন অনুষ্ঠানে যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে –
১) সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) ঘোষণা করেও অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চুড়ান্তকৃত ১৩ টি সংশোধনী প্রস্তাবের ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধন করা।
২) সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করে বেদখল হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধার করা।
৩) সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন বন্ধ  করা এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা।
৪) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।
৫) নিয়মিতভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
Print Friendly, PDF & Email

Add Comment