বাংলাদেশ গেজেট
অতিরিক্ত সংখ্যা
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

সোমবার, মার্চ ৬, ১৯৮৯
৫ম খন্ড- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ্যাক্ট, বিল ইত্যাদি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
ঢাকা, ২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫/৬ই মার্চ, ১৯৮৯

সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনগুলি ৬ই মার্চ, ১৯৮৯ (২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনগুলি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছে ঃ-
১৯৮৯ সনের ১৯ নং আইন
রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু রাংগামাটি পার্বত্য জেলা বিভিন্ন অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত একটি [জেলা] ; এবং

[যেহেতু উক্ত জেলার উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরি-উক্ত লক্ষ্যসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য রাংগামাটি পার্বত্য জেলা {**}  পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ১৯ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;]

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল ঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরনামা ও প্রবর্তন।-(১) এই আইন রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।

২। সংজ্ঞা।-বিষয় ও প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) “অ-উপজাতীয়” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন;
[(কক) “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার {পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং}  যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণতঃ বসবাস করেন;”]
(খ) “উপজাতীয়” অর্থ রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনচৈংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখু ও খেয়াং উপজাতির সদস্য;
(গ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(ঘ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;
[(ঘঘ) “নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন গঠিত নির্বাচন কমিশন;]
(ঙ) “পরিষদ” অর্থ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ;
(চ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(ছ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(জ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ;
(ঝ) “সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;
[(ঞ) “সার্কেল চীফ” অর্থ “চাকমা চীফ”] ।

৩। রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ স্থাপন।-(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় এই আইনের বিধান অনুযায়ী রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ নামে একটি পরিষদ স্থাপিত হইবে।
(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

৪। পরিষদের গঠন।-(১) নিম্নরূপ সদস্য-সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা ঃ-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) বিশ জন উপজাতীয় সদস্য;
(গ) দশ জন অ-উপজাতীয় সদস্য;
[(ঘ) তিনজন মহিলা সদস্য, যাহাদের দুইজন উপজাতীয় এবং একজন অ-উপজাতীয় মহিলা হইবেন।
ব্যাখ্যা ঃ- দফা (ঘ) তে উল্লিখিত উপজাতীয় মহিলা সদস্যগণের ক্ষেত্রে জেলার বিভিন্ন উপজাতির জন্য কোটা থাকিবে না।]
(২) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ জনসাধারণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন।
(৩) [উপ-ধারা ১ (খ) তে উল্লিখিত]  উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্যে-
(ক) দশ জন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে;
(খ) চার জন নির্বাচিত হইবেন মারমা উপজাতি হইতে;
(গ) দুই জন নির্বাচিত হইবেন তনচৈংগা উপজাতি হইতে;
(ঘ) এক জন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা উপজাতি হইতে;
(ঙ) এক জন নির্বাচিত হইবেন লুসাই উপজাতি হইতে;
(চ) এক জন নির্বাচিত হইবেন পাংখু উপজাতি হইতে;
(ছ) এক জন নির্বাচিত হইবেন খেয়াং উপজাতি হইতে।
(৪) চেয়ারম্যান উপজাতীয়গণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন।
[(৪ক) চেয়ারম্যান পদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা, এবং উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কোন উপজাতির জন্য নির্ধারিত সদস্যপদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা এবং উপ-ধারা ১(গ) তে উল্লিখিত অ-উপজাতীয় সদস্যপদের জন্য যে কোন অ-উপজাতীয় মহিলা, বিধির বিধান সাপেক্ষে, নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন।]
(৫) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হইলে তিনি কোন উপজাতির সদস্য তাহা [সার্কেল চীফ]  স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে [সার্কেল চীফের]  নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি উপজাতীয় হিসাবে চেয়ারম্যান বা কোন উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
[(৬) কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত, পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অ উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।]

৫। চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য না হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না।

৬। উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, রাংগামাটি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, কোন উপজাতির অন্তর্ভূক্ত হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি তাঁহার উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনে উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, অ উপজাতীয় হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসনে অ উপজাতীয়
সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় বা অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;
(খ) তাঁহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(ঘ) তিনি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাংগামাটি পার্বত্য জেলা ত্যাগ করেন;
(ঙ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(চ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;
(ছ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন;
(জ) তিনি পরিষদের কোন কাজ সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা পরিষদের কোন বিষয়ে তাঁহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের দোকানদার হন; অথবা
(ঝ) তাঁহার নিকট সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা বা কৃষি ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে।

৭। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ।- চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে [রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারকের]  সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন, যথা ঃ-

আমি, …………………….., পিতা বা স্বামী ………………….., রাংগামাটি পার্বত্য জেলা {**}  পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের  প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব।

৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা।- চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ [বিধি অনুসারে]  দাখিল করিবেন।
ব্যাখ্যা।- “পরিবারের সদস্য” বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁহার সংগে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে।

৯। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা।-চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
১০। পরিষদের মেয়াদ।- পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে [পাঁচ বৎসর] ঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নুতন পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

১১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ।- (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(২) পদত্যাগ গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

১২। চেয়ারম্যান ইত্যাদির অপসারণ।- (১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন;
(খ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা
(গ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহা আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় “অসদাচরণ” বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি না বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহূত পরিষদের বিশেষ সভায় মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ ভোটে তাঁহার অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয় ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হইলে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইয়া যাইবেন।
(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

১৩। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ শূন্য হওয়া।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি ধারা ৭ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সরকার যথার্থ কারণে ইহা বর্ধিত করিতে পারিবে;
(খ) তিনি ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে তাঁহার পদে থাকার অযোগ্য হইয়া যান;
(গ) তিনি ধারা ১১ এর অধীনে তাঁহার পদ ত্যাগ করেন;
(ঘ) তিনি ধারা ১২ এর অধীনে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হন;
(ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন কি না সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি পরিষদের সচিব কর্তৃক রাংগামাটি পার্বত্য জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে, এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্য অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদটি শূন্য হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে তাহা সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

১৪। অস্থায়ী চেয়ারম্যান।- চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নূতন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পূনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত [পরিষদের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত কোন উপজাতীয় সদস্য]  চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন।

১৫। আকস্মিক পদ শূন্যতা।- পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার ষাট দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

১৬। পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের সময়।-(১) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী ষাট দিনের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে ঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, যদি কোন বিশেষ কারণে এই উপ-ধারায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী [১৮২০]  দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।]
(২) পরিষদ বাতিল হইয়া গেলে, বাতিল থাকার মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে পরিষদ পুনর্গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
“[১৬ক। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ।- (১) ধারা ১৬ এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির তারিখে পরিষদ বাতিল হইয়া যাইবে এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের উপর পরিষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব ন্যস্ত হইবে।
(২) একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করিবে।
(৩) ধারা ১৬ এর অধীন নির্বাচিত নূতন পরিষদ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পরিষদের কার্য চালাইয়া যাইবে।
(৪) সরকার প্রয়োজনবোধে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মেয়াদান্তে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নূতন পরিষদ গঠিত হইবে উহার বা উহার পরবর্তী পরিষদের ক্ষেত্রে ধারা ১৬ এর শর্তাংশের কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধানাবলী কার্যকর হইবে।”]
[১৭। ভোটার হওয়ার যোগ্যতা {ও ভোটার তালিকা} ।- (১)  পরিষদের নির্বাচনের জন্য কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) অন্যূন আঠার বৎসর বয়স্ক হন;
(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত না হন; এবং
(ঘ) রাংগামাটি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।]
[(২) নির্বাচন কমিশন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করিবে।]

১৮। ভোটাধিকার।- কোন ব্যক্তির নাম, [ধারা ১৭ এর অধীন প্রণীত এবং আপাততঃ বলবৎ ভোটার তালিকায়]  লিপিবদ্ধ থাকিলে তিনি পরিষদের যে কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারিবেন।

১৯। দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ।- কোন ব্যক্তি একই সংগে চেয়ারম্যান এবং উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

২০। নির্বাচন পরিচালনা।- (১) [নির্বাচন কমিশন]  এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করিবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
[(ক) নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ;
(কক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;]
(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই ;
(গ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;
(ঘ) প্রার্থী পদ প্রত্যাহার;
(ঙ) প্রার্থীগণের এজেন্ট নিয়োগ;
(চ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি;
(ছ) ভোট গ্রহণের তালিকা, সময় ও স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;
(জ) ভোট দানের পদ্ধতি;
(ঝ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন;
(ঞ) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;
(ট) নির্বাচনী ব্যয়;
(ঠ) নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং উহার দন্ড;
(ড) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; এবং
(ঢ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষাংগিক অন্যান্য বিষয়।
(৩) উপ-ধারা (২) (ঠ) এর অধীন প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদন্ডের মেয়াদ দুই বৎসরের অধিক এবং অর্থদন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার অধিক হইবে না।

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ।- চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

২২। পরিষদের কার্যাবলী।- প্রথম তফসিলে উল্লেখিত কার্যাবলী পরিষদের কার্যাবলী হইবে, এবং পরিষদ উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী এই কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

২৩। সরকার ও পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর ইত্যাদি।- এই আইন অথবা আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার পরিষদের সম্মতিক্রমে-
(ক) পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম সরকারের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে; এবং
(খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে;
হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে।

২৪। নির্বাহী ক্ষমতা।- (১) এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করিবার ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।
(২) এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত হইবে এবং এই আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে।
(৩) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হইতে হইবে।

২৫। কার্যাবলী নিষ্পন্ন।- (১) পরিষদের কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হইবে।
(২) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান, এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য, সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্র“টি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশ গ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(৪) পরিষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
[২৬। পরিষদের সভায় চাকমা চীফ ও বোমাং চীফের যোগদানের অধিকার।- {চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফ}  ইচ্ছা করিলে বা আমন্ত্রিত হইলে পরিষদের যে কোন সভায় যোগদান করিতে পারিবেন এবং পরিষদের কোন আলোচ্য বিষয়ে তাঁহার মতামত ব্যক্ত করিতে পারিবেন।]
২৭। কমিটি।- পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও ইহার দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২৮। চুক্তি।- (১) পরিষদ কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-
(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে;
(খ) প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে।
(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন।
(৩) পরিষদ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং চেয়ারম্যান চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন।
(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন চুক্তির দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

২৯। নির্মাণ কাজ।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা এবং আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব প্রণয়ন করার বিধান করিবে;
(খ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং কি শর্তে প্রযুক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হইবে উহার বিধান করিবে;
(গ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয়ের হিসাব কাহার দ্বারা প্রণয়ন করা হইবে এবং উক্ত নির্মাণ কাজ কাহার দ্বারা সম্পাদন করা হইবে উহার বিধান করিবে।

৩০। নথিপত্র, প্রতিবেদন ইত্যাদি। -পরিষদ-
(ক) উহার কার্যাবলীর নথিপত্র প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;
(ক) প্রবিধানে উল্লিখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;
(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

[৩১। পরিষদের সচিব।-[সরকারের উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের সচিব হিসাবে থাকিবেন এবং এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় কর্মকর্তাদিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।]

৩২। পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ।-(১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের [অনুমোদনক্রমে,]  বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে :
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
[(৩) পরিষদের অন্যান্য পদে বিধি অনুযায়ী সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কর্মকর্তাগণকে সরকার অন্যত্র বদলী করিতে এবং বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।]

৩৩। ভবিষ্য তহবিল ইত্যাদি।-(১) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(২) পরিষদ ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ হইয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারবর্গকে [প্রবিধান অনুযায়ী]  গ্র্যাচুইটি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী সামাজিক বীমা প্রকল্প চালু করিতে পারিবে এবং উহাতে তাঁহাদিগকে চাঁদা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৫) পরিষদ উহার কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী বদান্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত গ্র্যাচুইটি এবং প্রবিধান অনুযায়ী অন্যান্য সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন গঠিত তহবিলে পরিষদ চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

৩৪। চাকুরী প্রবিধান।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে;
(গ) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও শাস্তির বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করিতে পারিবে ;
(ঘ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করিতে পারিবে।

৩৫। পরিষদের তহবিল গঠন।- (১) রাংগামাটি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ তহবিল নামে পরিষদের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) পরিষদের তহবিলে নিম্নলিখিত অর্থ জমা হইবে, যথা ঃ-
(ক) জেলা পরিষদের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য দাবী বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ;
(গ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা ;
(ঘ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুদান ;
(ঙ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ;
(চ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে মুনাফা ;
(ছ) পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ ;
(জ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

৩৬। পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ ইত্যাদি।-(১) পরিষদের তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন সরকারী ট্রেজারীতে বা সরকারী ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে [**]  রাখা হইবে।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ উহার তহবিলের কিছু অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদ ইচ্ছা করিলে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিবে।

৩৭। পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ।-(১) পরিষদের তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা যাইবে, যথা-
প্রথমতঃ পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;
দ্বিতীয়তঃ এই আইনের অধীন পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
তৃতীয়তঃ এই আইন বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;
চতুর্থতঃ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
পঞ্চমতঃ সরকার কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়।
(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চাকুরীতে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীর জন্য দেয় অর্থ;
(খ) সরকারের নির্দেশে পরিষদ সার্ভিসের রক্ষণাবেক্ষন, হিসাব-নিরীক্ষণ বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য দেয় অর্থ;
(গ) কোন আদালত বা ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ;
[(ঘ) বিধি দ্বারা দায়যুক্ত বলিয়া নির্ধারিত অন্য যে কোন ব্যয়।]
(৩) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সে ব্যক্তিকে সরকার, আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল হইতে, যতদূর সম্ভব, ঐ অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৩৮। বাজেট।- (১) প্রতি অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী, অতঃপর বাজেট বলিয়া উল্লিখিত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(২) কোন অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ ইহার বাজেট অনুমোদন করিতে না পারিেেল, সরকার উক্ত বৎসরের জন্য একটি আয়-ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করাইয়া উহা প্রত্যয়ন করিবে এবং এইরূপ প্রত্যয়নকৃত বিবরণী পরিষদের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে।
[(৩)]
[(৪) কোন অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় পরিষদ, প্রয়োজন মনে করিলে, সেই অর্থ বৎসরের জন্য প্রণীত বা অনুমোদিত বাজেট পুনঃপ্রণয়ন বা সংশোধন করিতে পারিবে এবং যথাশীঘ্র সম্ভব উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।]
(৫) এই আইন মোতাবেক গঠিত পরিষদ প্রথম বার যে অর্থ-বৎসরে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে সেই অর্থ-বৎসরের বাজেট উক্ত দায়িত্বভার গ্রহণের পর অর্থ-বৎসরটির বাকী সময়ের জন্য প্রনীত হইবে এবং উক্ত বাজেটের ক্ষেত্রেও এই ধারার বিধানাবলী, যতদূর
সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।

৩৯। হিসাব।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে রক্ষণ করা যাইবে।
(২) প্রতিটি অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পর পরিষদ একটি বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৩) উক্ত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের একটি অনুলিপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য পরিষদ কার্যালয়ের কোন বিশিষ্ট স্থানে স্থাপন করিতে হইবে এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে জনসাধারণের আপত্তি বা পরামর্শ পরিষদ বিবেচনা করিবে।

৪০। হিসাব নিরীক্ষা।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিরীক্ষিত হইবে।
(২) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ পরিষদের সকল হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল দেখিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে।
(৩) হিসাব-নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা :-
(ক) অর্থ আত্মসাৎ ;
(খ) পরিষদ তহবিলের লোকসান, অপচয় এবং অপপ্রয়োগ ;
(গ) হিসাব রক্ষণে অনিয়ম ;
(ঘ) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ ও অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম।

৪১। পরিষদের সম্পত্তি।- (১) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদের উপর ন্যস্ত বা উহার মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে;
(খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ-
(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন সাধন করিতে পারিবে ;
(খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে ;
(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা
হস্তান্তর করিতে পারিবে।

৪২। উন্নয়ন পরিকল্পনা।-(১) পরিষদ উহার এখতিয়ারভূক্ত যে কোন বিষয়ে উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) উক্ত পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত বিষয়ের বিধান থাকিবে, যথা ঃ-
(ক) কি পদ্ধতিতে পরিকল্পনার অর্থ যোগান হইবে এবং উহার তদারক ও বাস্তবায়ন হইবে;
(খ) কাহার দ্বারা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হইবে ;
(গ) পরিকল্পনা সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
[(২ক) পরিষদ সরকার হইতে প্রাপ্য অর্র্র্থে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।]
(৩) পরিষদ উহার উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অনুলিপি উহার বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
[(৪) পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত কোন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করিবে।]

৪৩। পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান ইত্যাদির দায়।-পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা উহার কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফেলতি বা অসদাচরণের কারনে পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাঁহার এই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাঁহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে তাঁহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে।

[৪৪। পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়।- পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত সকল অথবা যে কোন কর, রেট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত তফসিলে নির্ধারিত সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে রয়্যালটির অংশ বিশেষ আহরণ করিতে পারিবে।]

৪৫। কর সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপণ ইত্যাদি।-(১) পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপিত হইবে, এবং সরকার কর্তৃক ভিন্নরূপে নির্দেশ না দিলে, উক্ত আরোপের বিষয়টি আরোপের পূর্বে প্রকাশ করিতে হইবে।
(২) কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপের বা উহার পরিবর্তনের কোন প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে [পরিষদ]  যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে উহা কার্যকর হইবে।

৪৬। কর সংক্রান্ত দায়।- কোন ব্যক্তি বা জিনিষপত্রের উপর কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপ করা যাইবে কি না উহা নির্ধারণের প্রয়োজনে পরিষদ, নোটিশের মাধ্যমে, যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করিতে বা দলিলপত্র, হিসাব বহি বা জিনিষপত্র হাজির করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৪৭। কর আদায়।- এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা, নির্ধারিত ব্যক্তির দ্বারা এবং পদ্ধতিতে আদায় করা হইবে।
(২) পরিষদের প্রাপ্য অনাদায়ী সকল প্রকার কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

৪৮। কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি।- প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় এবং সময়ের মধ্যে পেশকৃত লিখিত দরখাস্ত ছাড়া অন্য কোন পন্থায় এই আইনের অধীন ধার্য কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস বা
এতদসংক্রান্ত কোন সম্পত্তির মূল্যায়ন অথবা কোন ব্যক্তির উহা প্রদানের দায়িত্ব সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।

৪৯। কর প্রবিধান।-(১) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত সকল কর, রেইট, টোল বা ফিস এবং অন্যান্য দাবী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য, আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে।
(২) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয় সম্পর্কিত প্রবিধানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কর দাতাদের করণীয় এবং কর ধার্যকারী ও আদায়কারী কর্মকর্তা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিধান থাকিবে।

[৫০। পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ।- (১) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য সাধনের, নিশ্চয়তা বিধানকল্পে সরকার প্রয়োজনে পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করিতে পারিবে।
(২) সরকার যদি এইরূপ প্রমাণ পায় যে, পরিষদ দ্বারা বা পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজকর্ম এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী, তাহা হইলে সরকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে, এবং পরামর্শ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, এবং পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ এবং পরামর্শ বা নির্দেশ বাস্তবায়ন করিবে।]

[৫১।]
[৫২।]
৫৩। পরিষদ বাতিলকরণ।- (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-
(ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;
(খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(গ) সাধারণতঃ এমন কাজ করে যাহা জনস্বার্থ বিরোধী;
(ঘ) অন্য কোনভাবে উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে;
তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত [আদেশ দ্বারা, পরিষদকে]  বাতিল করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ তাঁহাদের পদে বহাল থাকিবেন না ;
(খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ পালন করিবে।
(৩) [উক্ত বাতিলাদেশ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে]  এই আইন ও বিধি মোতাবেক পরিষদ পুনর্গঠিত হইবে।

৫৪। যুক্ত কমিটি।- পরিষদ অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহিত একত্রে উহাদের সাধারণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের জন্য যুক্ত কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ কমিটিকে উহার যে কোন ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।
৫৫। পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ।- পরিষদ এবং অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৫৬। অপরাধ।-তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন করণীয় কাজ না করা এবং করণীয় নয় এই প্রকার কাজ করা এই আইনের অধীন দন্ডনীয় অপরাধ হইবে।

৫৭। দন্ড।-এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে এবং এই অপরাধ যদি অনবরতভাবে ঘটিতে থাকে, তাহা হইলে প্রথম দিনের অপরাধের পর পরবর্তী প্রত্যেক দিনের জন্য অপরাধীকে অতিরিক্ত অনধিক পঁচিশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে।

৫৮। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ।- চেয়ারম্যান বা পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

৫৯। অভিযোগ প্রত্যাহার।- চেয়ারম্যান বা এতদুদ্দেশ্যে পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।

৬০। অবৈধভাবে পদার্পণ।- (১) জনপথ ও সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন ব্যক্তি কোন প্রকারে অবৈধভাবে পদার্পণ করিবেন না।
(২) উক্তরূপ অবৈধ পদার্পণ হইলে পরিষদ নোটিশ দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে পদার্পণকারী ব্যক্তিকে তাঁহার অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি তিনি এই নির্দেশ মান্য না করেন তাহা হইলে পরিষদ অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অবৈধ পদার্পণকারী কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হইলে সেইজন্য তাহাকে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইবে না।
(৩) অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করার প্রয়োজনে গৃহীত ব্যবস্থার জন্য যে ব্যয় হইবে তাহা উক্ত পদার্পণকারীর উপর এই আইনের অধীন ধার্য কর বলিয়া গণ্য হইবে।

৬১। আপীল।-এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে পরিষদ বা উহার চেয়ারম্যানের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন এবং এই আপীলের উপর সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৬২। জেলা পুলিশ।-(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের [**]  সাব-ইন্সপেক্টর ও তদ্নিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাঁহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে রাংগামাটি পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
(২) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যের চাকুরীর শর্তাবলী, তাঁহাদের প্রশিক্ষণ, সাজসজ্জা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং তাঁহাদের পরিচালনা অন্যান্য জেলা পুলিশের অনুরূপ হইবে এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল আইন, উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, তাঁহাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(৩) রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ তাঁহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যাপারে, [এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ,]  পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবেন।

৬৩। পুলিশের দায়িত্ব।- রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে ইহার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা এবং পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইহার কর্মকর্তাগণকে আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান করা সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হইবে।

[৬৪। ভূমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।- (১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন-
(ক) রাংগামাটি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা-জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয় বা অন্যবিধভাবে  হস্তান্তর করা যাইবে নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (জবংবৎাবফ) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানা ও [সরকারের]  নামে রেকর্ডকৃত জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
(২) হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ তত্ত্বাবধান ও  নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(৩) কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি (ঋৎরহমব খধহফ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।]

[৬৫। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়।-আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাংগাামাটি পার্বত্য জেলার এলাকাভূক্ত ভূমি বাবদ আদায়যোগ্য ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদে ন্যস্ত থাকিবে এবং আদায়কৃত কর পরিষদের তহবিলে জমা হইবে।]

৬৬। উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধান।- (১) রাংগামাটি পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি করিবেন।
(২) কার্বারী বা হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে [ক্ষেত্র বিশেষে চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফের]  নিকট আপীল করা যাইবে।
(৩) [চাকমা সার্কেলের চীফ এবং বোমাং সার্কেলের চীফের]  সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট আপীল করা যাইবে এবং তাঁহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, আপীল নিষ্পত্তির পূর্বে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতি হইতে তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন তিনজন উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তির সহিত পরামর্শ করিবেন।
(৪) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা এই ধারায় উল্লিখিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য-
(ক) বিচার পদ্ধতি,
(খ) বিচার প্রার্থী ও আপীলকারী কর্তৃক প্রদেয় ফিস, নির্ধারণ করিতে পারিবে।

[৬৭। পরিষদ ও সরকারী কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।- পরিষদ এবং সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, এতদবিষয়ে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করিতে পারিবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হইবে।]

৬৮। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।-[(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ;
(খ) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণ;
(গ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অন্য কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার পদ্ধতি ;
(ঘ) পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্ধতি;
(ঙ) পরিষদ পরিদর্শনের পদ্ধতি এবং পরিদর্শকের ক্ষমতা;
(চ) এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
[(৩) কোন বিধি প্রণীত হওয়ার পর পরিষদের বিবেচনায়, যদি উক্ত বিধি রাংগামাটি পার্বত্য জেলার জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর বলিয়া প্রতীয়মান হয় তাহা হইলে, পরিষদ সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা উহার প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন বিবেচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।]

৬৯। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।-(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ [**]  এই আইনের বা কোন বিধির বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে ঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরিষদকে পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে নিম্নরূপ সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা,
(খ) পরিষদের সভার কোরাম নির্ধারণ,
(গ) পরিষদের সভায় প্রশ্ন উত্থাপন,
(ঘ) পরিষদের সভা আহ্বান,
(ঙ) পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লিখন,
(চ) পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন,
(ছ) সাধারণ সীলমোহরের হেফাজত ও ব্যবহার,
[(জ)]
(ঝ) পরিষদের অফিসের বিভাগ ও শাখা গঠন এবং উহাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ,
(ঞ) কার্যনির্বাহ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়,
(ট) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃঙ্খলা,
(ঠ) কর, রেইট, টোল এবং ফিস ধার্য ও আদায় সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়,
(ড) পরিষদের সম্পত্তিতে অবৈধ পদার্পণ নিয়ন্ত্রণ,
(ঢ) গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীর বিক্রয় রেজিষ্ট্রীকরণ,
(ণ) এতিমখানা, বিধবা সদন এবং দরিদ্রদের ত্রাণ সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রীকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ,
(ত) জনসাধারণের ব্যবহার্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(থ) টীকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(দ) সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ,
(ধ) খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
(ন) সমাজের বা ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা বিরক্তিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(প) বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ,
(ফ) জনসাধারণের ব্যবহার্য ফেরীর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ব) গবাদি পশুর খোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ভ) ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
(ম) মেলা, প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলা ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণ,
(য) বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(র) ভিক্ষাবৃত্তি, কিশোর অপরাধ, পতিতাবৃত্তি ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(ল) কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রয়োজন হইবে এবং কি কি শর্তে উহা প্রদান করা হইবে তাহা নির্ধারণ,
(শ) এই আইনের অধীন প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
(৩) পরিষদের বিবেচনায় যে প্রকারে প্রকাশ করিলে কোন প্রবিধান সম্পর্কে জনসাধারণ ভালভাবে অবহিত হইতে পারিবে সেই প্রকারে প্রত্যেক প্রবিধান প্রকাশ করিতে হইবে।

[৭০।]  বিলুপ্ত।
৭১। পরিষদের পক্ষে ও বিপক্ষে মামলা।- (১) পরিষদের বিরুদ্ধে বা পরিষদ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ-
(ক) পরিষদের ক্ষেত্রে, পরিষদের কার্যালয়ে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে ;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে তাঁহার অফিস বা বাসস্থানে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে।
(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পৌঁছানোর পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না, এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পৌঁছানো হইয়াছে কিনা তাহার উল্লেখ থাকিতে হইবে।

৭২। নোটিশ এবং উহা জারীকরণ।- (১) এই আইন, বিধি বা প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা না করা হইতে বিরত থাকা যদি ব্যক্তির কর্তব্য হয় তাহা হইলে কোন সময়ের মধ্যে ইহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাঁহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্র“টির কারণে অবৈধ হইবে না।
(৩) ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে এই আইনের অধীন প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাঁহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাঁহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন বিশিষ্ট স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে।
(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৩। প্রকাশ্য রেকর্ড।- এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিষ্টার ঊারফবহপব অপঃ, ১৮৭২ (ও ড়ভ ১৮৭২)-তে যে অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে, প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে বিশুদ্ধ রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

৭৪। পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) গণ্য হইবেন।- পরিষদের চেয়ারম্যান ও উহার অন্যান্য সদস্য এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং পরিষদের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি চবহধষ ঈড়ফব (অপঃ ঢখঠ ড়ভ ১৮৬০) এর ঝবপঃরড়হ ২১ এ যে অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) বলিয়া গণ্য হইবেন।

৭৫। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ।- এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, পরিষদ বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

৭৬। রহিতকরণ ও হেফাজত।- (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী রাংগামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ স্থাপিত হইবার সংগে সংগে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সনের ২৯ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, রাংগামাটি পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে রহিত হইবে।
(২) উক্ত আইন উক্তরূপে রহিত হইবার পর,-
(ক) রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, অতঃপর উক্ত জেলা পরিষদ বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বা প্রণীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিধি, প্রবিধান ও বাই-ল, প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল আদেশ, জারীকৃত বা জারীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ এবং মঞ্জুরীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল লাইসেন্স ও অনুমতি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত, জারীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত সকল বাই-ল প্রবিধান বলিয়া গণ্য হইবে ;
(গ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধা, সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, বিনিয়োগ এবং উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কীয়, উহার যাবতীয় অধিকার বা উহাতে ন্যস্ত যাবতীয় স্বার্থ পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে ;
(ঘ) উক্ত জেলা পরিষদের যে সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব ছিল এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত যে সকল চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছিল তাহা পরিষদের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে ;
(ঙ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রণীত সকল বাজেট, প্রকল্প ও পরিকল্পনা বা তৎকর্তৃক কৃত মূল্যায়ন ও নির্ধারিত কর, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং পরিষদ কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রণীত, কৃত বা নির্ধারিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে ;
(চ) উক্ত জেলা পরিষদের প্রাপ্য সকল কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ এই আইনের অধীন পরিষদের প্রাপ্য বলিয়া গণ্য হইবে ;
(ছ) উক্ত আইন রহিত হইবার পূর্বে উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল ও ফিস এবং অন্যান্য দাবী, পরিষদ কর্তৃক, পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, একই হারে অব্যাহত থাকিবে ;
(জ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদে বদলী হইবেন ও উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং তাঁহারা উক্তরূপ বদলীর পূর্বে যে শর্তে চাকুরীরত ছিলেন, পরিষদ কর্তৃক পরিবর্তিত না হইলে, সেই শর্তেই তাঁহারা উহার অধীনে চাকুরীরত থাকিবেন ;
(ঝ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৭। নির্ধারিত পদ্ধতিতে কতিপয় বিষয়ের নিষ্পত্তি।- এই আইনে কোন কিছু করিবার জন্য বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি উহা কোন্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা কি পদ্ধতিতে করা হইবে তৎসম্পর্কে কোন বিধান না থাকে, তাহা হইলে উক্ত কাজ বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে করা হইবে।

৭৮। অসুবিধা দূরীকরণ।- এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

৭৯। কোন আইনের বিধান সম্পর্কে আপত্তি।- রাংগামাটি পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোন আইন পরিষদের বিবেচনায় উক্ত জেলার জন্য কষ্টকর হইলে বা উপজাতীয়দের জন্য আপত্তিকর হইলে, পরিষদ উহা কষ্টকর বা আপত্তিকর হওয়ার কারণ ব্যক্ত করিয়া আইনটির সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিল করিবার জন্য সরকারের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন [অনুযায়ী প্রতিকারমূলক]  পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

প্রথম তফসিল
পরিষদের কার্যাবলী
[ধারা ২২ দ্রষ্টব্য]

[১। জেলার আইন শৃংখলার {তত্ত্বাবধান,}  সংরক্ষণ ও উহার উন্নতি সাধন।
১ক। পুলিশ (স্থানীয়);
১খ। উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরোধের বিচার;]
২। জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন; ইহাদের প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ও হিসাব নিরীক্ষণ; উহাদিগকে সহায়তা, সহযোগিতা ও উৎসাহ দান।
৩। শিক্ষা-
(ক) প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) সাধারণ পাঠাগার স্থাপন ও রক্ষাণাবেক্ষণ;
(গ) ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা;
(ঘ) ছাত্রাবাস স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঙ) প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ;
(চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক মঞ্জুরী প্রদান;
(ছ) বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা;
(জ) শিশু ছাত্রদের জন্য দুগ্ধ সরবরাহ ও খাদ্যের ব্যবস্থা;
(ঝ) গরীব ও দুঃস্থ ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত মূল্যে পাঠ্য পুস্তক সরবরাহ;
(ঞ) পাঠ্য পুস্তক ও শিক্ষা সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
[(ট) বৃত্তিমূলক শিক্ষা;
(ঠ) মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা;
(ড) মাধ্যমিক শিক্ষা।]
৪। স্বাস্থ্য-
(ক) হাসপাতাল, ডাক্তারখানা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ডিসপেনসারী স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) ভ্রাম্যমান চিকিৎসক দল গঠন, চিকিৎসা সাহায্য প্রদানের জন্য সমিতি গঠনে উৎসাহ দান;
(গ) ধাত্রী প্রশিক্ষণ;
(ঘ) ম্যালেরিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ;
(ঙ) পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;
(চ) স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন;
(ছ) কম্পাউন্ডার, নার্স এবং অন্যান্য চিকিৎসা কর্মীর কার্য পরিদর্শন;
(জ) প্রাথমিক স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং তৎসম্পর্কিত কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষার প্রস্তাব
৬। কৃষি ও বন-
(ক) কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) সরকার কর্তৃক [**]  রক্ষিত নয় এই প্রকার বন সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ;
(গ) উন্নত কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয়করণ, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও কৃষকগণকে উক্ত যন্ত্রপাতি ধারে প্রদান;
(ঘ) পতিত জমি চাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঙ) গ্রামাঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ;
(চ) কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ প্রকল্পের কোন ব্যাঘাত না ঘটাইয়া, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং কৃষি কার্যে ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, জমানো ও নিয়ন্ত্রণ;
(ছ) কৃষি শিক্ষার উন্নয়ন;
(জ) ভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমির পানি নিষ্কাশন;
(ঝ) শষ্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ, ফসলের নিরাপত্তা বিধান, বপনের উদ্দেশ্যে বীজের ঋণ দান, রাসায়নিক সার বিতরণ এবং উহার ব্যবহার জনপ্রিয়করণ;
(ঞ) রাস্তার পার্শ্বে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষরোপণ ও উহার সংরক্ষণ।
৭। পশু পালন-
(ক) পশুপাখী উন্নয়ন;
(খ) পশুপাখীর হাসপাতাল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(গ) পশু খাদ্যের মজুদ গড়িয়া তোলা;
(ঘ) গৃহপালিত পশুসম্পদ সংরক্ষণ;
(ঙ) চারণ ভূমির ব্যবস্থা ও উন্নয়ন;
(চ) পশুপাখীর ব্যাধি প্রতিরোধ ও দূরীকরণ এবং পশুপাখীর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ;
(ছ) দুগ্ধ পল্লী স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসম্মত আস্তাবলের ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ;
(জ) গৃহপালিত পশু খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ;
(ঝ) হাঁস-মুরগী খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ;
(ঞ) গৃহপালিত পশু ও হাঁসমুরগী পালন উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ট) দুগ্ধ খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ।
৮। মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মৎস্য খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মৎস্য ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।
৯। সমবায় উন্নয়ন ও সমবায় জনপ্রিয়করণ এবং উহাতে উৎসাহ দান।
১০। শিল্প ও বাণিজ্য-
(ক) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন এবং উহাতে উৎসাহ দান;
(খ) স্থানীয় ভিত্তিক বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;
(গ) হাট বাজার স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঘ) গ্রামাঞ্চলে শিল্পসমূহের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত সামগ্রীর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা;
(ঙ) গ্রামভিত্তিক শিল্পের জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান;
(চ) গ্রাম বিপণী স্থাপন ও সংরক্ষণ।
১১। সমাজকল্যাণ-
(ক) দুঃস্থ ব্যক্তিদের জন্য কল্যাণ সদন, আশ্রয় সদন, অনাথ আশ্রম, এতিমখানা, বিধবা সদন এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) মৃত নিঃস্ব ব্যক্তিদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা;
(গ) ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, মাদকদ্রব্য সেবন, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ;
(ঘ) জনগণের মধ্যে সামাজিক, নাগরিক এবং দেশপ্রেমমূলক গূণাবলীর উন্নয়ন;
(ঙ) দরিদ্রদের জন্য আইনের সাহায্য (লিগ্যাল এইড) সংগঠন;
(চ) সালিশী ও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ছ) দুঃস্থ ও ছিন্নমূল পরিবারের সাহায্য ও পুনর্বাসন;
(জ) সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
১২। সংস্কৃতি-
(ক) সাধারণ ও উপজাতীয় সংস্কৃতিমূলক কর্মকান্ড সংগঠন ও উহাতে উৎসাহ দান;
(খ) জনসাধারণের জন্য ক্রীড়া ও খেলাধূলার উন্নয়ন;
(গ) জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে রেডিওর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঘ) যাদুঘর ও আর্ট-গ্যালারী স্থাপন ও প্রদর্শনীর সংগঠন;
(ঙ) পাবলিক হল ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং জনসভার জন্য স্থানের ব্যবস্থা;
(চ) নাগরিক শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য সমাজ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, গবাদি পশু প্রজনন সম্পর্কিত এবং জনস্বার্থ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের উপর তথ্য প্রচার;
(ছ) জাতীয় দিবস ও উপজাতীয় উৎসবাদি উদযাপন;
(জ) বিশিষ্ট অতিথিগণের অভ্যর্থনা;
(ঝ) শরীরচর্চার উন্নয়ন, খেলাধূলার উৎসাহ দান এবং সমাবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া ও খেলাধূলার ব্যবস্থা করা;
(ঞ) স্থানীয় এলাকার ঐতিহাসিক এবং আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ;
(ট) তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঠ) সংস্কৃতি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা।
১৩। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ, কালভার্ট ও ব্রীজের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন।
১৪। সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে নহে এমন খেয়াঘাট ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।
১৫। জনসাধারণের ব্যবহার্য উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ।
১৬। সরাইখানা, ডাকবাংলা এবং বিশ্রামাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
১৭। সরকার কর্তৃক পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
১৮। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
১৯। পানি নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, রাস্তা পাকাকরণ ও অন্যান্য জনহিতকর অত্যাবশ্যক কাজকরণ।
২০। স্থানীয় এলাকার উন্নয়নকল্পে নক্সা প্রণয়ন।
২১। স্থানীয় এলাকা ও উহার অধিবাসীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও আর্থিক উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
[২২। পুলিশ (স্থানীয়)।
২৩। উপজাতীয় রীতি-নীতি, প্রথা এবং সামাজিক বিচার।
২৪। ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।
২৫। কাপ্তাই হ্রদ ব্যতীত অন্যান্য নদী-নালা ও খাল-বিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা।
২৬। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
২৭। যুব কল্যাণ।
২৮। স্থানীয় পর্যটন।
২৯। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত ইমপ্র“ভমেন্ট ট্রাস্টও অন্যান্য স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান।
৩০। স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান।
৩১। জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ।
৩২। মহাজনী কারবার
৩৩। জুম চাষ।]

দ্বিতীয় তফসিল
পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর, রেইট, [টোল, ফিস এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়]
[ধারা ৪৪ দ্রষ্টব্য]
১। স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ।
২। বিজ্ঞাপনের উপর কর।
৩। পরিষদের রক্ষণাবেক্ষণাধীন রাস্তা, পুল ও ফেরীর উপর টোল।
৪। পরিষদ কর্তৃক জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য রেইট।
৫। পরিষদ কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত স্কুলের ফিস।
৬। পরিষদ কর্তৃক কৃত জনকল্যাণমূলক কাজ হইতে প্রাপ্ত উপকার গ্রহণের জন্য ফিস।
৭। পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত কোন বিশেষ সেবার জন্য ফিস।
[৮। অযান্ত্রিক যান-বাহনের রেজিস্ট্রেশন ফিস।
৯। পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর।
১০। ভূমি ও দালান কোঠার উপর হোল্ডিং কর।
১১। গৃহপালিত পশু বিক্রয়ের উপর কর।
১২। সামজিক বিচারের ফিস।
১৩। সরকারী ও বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর হোল্ডিং কর।
১৪। বনজ সম্পদের উপর রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৫। সিনেমা, যাত্রা সার্কাস ইত্যাদির উপর সম্পূরক কর।
১৬। খনিজ সম্পদ অন্বেষণ বা নিষ্কাশণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র বা পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৭। ব্যবসার উপর কর।
১৮। লটারীর উপর কর।
১৯। মৎস্য ধরার উপর কর।
২০। সরকার কর্তৃক পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আরোপিত কোন কর।]

তৃতীয় তফসিল
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ
[ধারা ৫৬ দ্রষ্টব্য]
১। পরিষদ কর্তৃক আইনানুগতভাবে ধার্যকৃত কর, টোল, রেইট ও ফিস ফাঁকি দেওয়া।
২। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন যে সকল বিষয়ে পরিষদ কোন তথ্য চাহিতে পারে সেই সকল বিষয়ে পরিষদের তলব
অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতা বা ভূল তথ্য সরবরাহ।
৩। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুযায়ী যে কার্যের জন্য লাইসেন্স বা অনুমতি প্রয়োজন হয় সে কার্য বিনা লাইসেন্সে বা বিনা অনুমতিতে সম্পাদন।
৪। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন জনপথে অবৈধ পদার্পণ।
৫। পানীয় জল দূষিত বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয় এমন কোন কাজ করা।
৬। জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হওয়ার সন্দেহে এই আইনের অধীন কোন উৎস হইতে পানি পান করা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, ঐ উৎস হইতে পানি পান করা।
৭। জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন পানীয় জলের উৎসের সন্নিকটে গবাদিপশু বা জীবজন্তুকে পানি পান করানো, পায়খানা-পেশাব করানো বা গোসল করানো।
৮। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন পুকুরে বা ডোবায় অথবা উহার সন্নিকটে শন, পাট বা অন্য কোন গাছপালা ডুবাইয়া রাখা।
৯। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা।
১০। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে মাটি খনন, পাথর বা অন্য কিছু খনন করা।
১১। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে ইটের ভাটি, চুন-ভাটি, কাঠ-কয়লা ভাটি ও মৃৎশিল্প স্থাপন।
১২। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে মৃত জীবজন্তুর দেহাবশেষ ফেলা।
১৩। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন জমি বা ইমারত হইতে আবর্জনা, জীবজন্তুর বিষ্ঠা, সার অথবা দুর্গন্ধযুক্ত অন্য কোন পদার্থ অপসারণে ব্যর্থতা।
১৪। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন শৌচাগার, প্রস্রাবখানা, নর্দমা, মলকুন্ড, পানি, আবর্জনা অথবা বর্জিত পদার্থ রাখিবার জন্য অন্যান্য স্থান বা পাত্র আচ্ছাদনে, অপসারণে, মেরামতে, পরিষ্কার করিতে, জীবাণুমুক্ত করিতে অথবা যথাযথভাবে রক্ষণ করিতে ব্যর্থতা।
১৫। এই আইনের অধীন কোন আগাছা, ঝোপঝাড় বা লতাগুল্ম জনস্বাস্থ্যের বা পরিবেশের জন্য প্রতিকুল ঘোষণা করা সত্ত্বেও, ইহা আপসারণ বা পরিষ্কার করিতে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বা দখলদারের ব্যর্থতা।
১৬। জনপথ সংলগ্ন কোন স্থানে জন্মানো কোন আগাছা, লতাগুল্ম বা গাছপালা জনপথের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া অথবা জনসাধারণের ব্যবহার্য পানির কোন পুকুর, কুয়া বা অন্য কোন উৎসের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও বা পানি দূষিত করা সত্ত্বেও অথবা উহা এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের হানিকর বলিয়া ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট স্থানের মালিক বা দখলদার কর্তৃক উহা কাটিয়া ফেলিতে, অপসারণ করিতে বা ছাঁটিয়া ফেলিতে ব্যর্থতা।
১৭। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন শষ্যের চাষ করা, সারের প্রয়োগ করা বা ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত পন্থায় জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা।
১৮। এই আইনের বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অবহেলাভরে পায়খানার গর্ত বা পায়খানার নালা হইতে মলমূত্র বা অন্য কোন ক্ষতিকর পদার্থ কোন জনপথ বা জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানের উপর ছড়াইয়া পড়িতে বা গড়াইয়া যাইতে দেওয়া বা এতদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নয় এই প্রকার কোন নর্দমা, খাল বা পয়ঃপ্রণালীর উপর পতিত হইতে দেওয়া।
১৯। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন কূপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের জন্য কোন উৎস পরিষ্কার করিতে, মেরামত করিতে, আচ্ছাদন করিতে বা উহা হইতে পানি নিষ্কাশন করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২০। এই আইনের বিধান অনুযায়ী নির্দেশিত হইয়া কোন জমি বা দালান হইতে কোন পানি বা আবর্জনা নিস্কাশনের জন্য যথোপযুক্ত পাইপ বা নর্দমার ব্যবস্থা করিতে জমি বা দালানের মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২১। চিকিৎসক হিসাবে কর্তব্যরত থাকাকালে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও পরিষদের নিকট তৎসম্পর্কে রিপোর্ট করিতে কোন চিকিৎসকের ব্যর্থতা।
২২। কোন দালানে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তৎসম্পর্কে কোন ব্যক্তির পরিষদকে খবর দিতে ব্যর্থতা।
২৩। সংক্রামক রোগজীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত কোন দালানকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২৪। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি কর্তৃক খাদ্য বা পানীয় বিক্রয় করা।
২৫। রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোন যানবাহনের মালিক বা চালক কর্তৃক উহাকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে ব্যর্থতা।
২৬। দুগ্ধের জন্য বা খাদ্যের জন্য রক্ষিত কোন প্রাণীকে ক্ষতিকর কোন দ্রব্য খাওয়ানো বা খাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
২৭। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোন স্থানে মাংস বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন প্রাণী জবাই করা।
২৮। ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ না করিয়া নিম্ন বা ভিন্ন মানের খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ করিয়া ক্রেতাকে ঠকানো।
২৯। ভিক্ষার জন্য বিরক্তিকর কাকুতি মিনতি করা বা শরীরের কোন বিকৃত বা গলিত অংশ বা নোংরা ক্ষতস্থান প্রদর্শন করা।
৩০। এতদুদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় পতিতালয় স্থাপন বা পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করা।
৩১। কোন বৃক্ষ বা উহার শাখা কর্তন বা কোন দালান বা উহার কোন অংশ নির্মাণ বা ভাংচুর এই আইনের অধীন জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক বা বিরক্তিকর বলিয়া ঘোষণা করা সত্ত্বেও উহার কর্তন, নির্মাণ বা ভাংচুর।
৩২। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন রাস্তা নির্মাণ।
৩৩। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কোন স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে কোন বিজ্ঞাপন, নোটিশ, প্ল্যাকার্ড বা অন্য কোন প্রকার প্রচারপত্র আঁটিয়া দেওয়া।
৩৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত পদ্ধতিতে কাঠ, ঘাস, খড় বা অন্য কোন দাহ্য বস্তু স্তুপিকৃত করা।
৩৫। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে কোন রাস্তার উপরে পিকেটিং করা, জীবজন্তু রাখা, যানবাহন জমা করিয়া রাখা, অথবা কোন রাস্তাতে যানবাহন বা জীবজন্তুকে থামাইবার স্থান হিসাবে অথবা তাবু খাটাইবার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা।
৩৬। গৃহপালিত জীবজন্তুকে ইতস্তত ঘুরিয়া বেড়াইতে দেওয়া।
৩৭। সূর্যাস্তের অর্ধঘন্টা পর হইতে সূর্যোদয়ের অর্ধঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন যানবাহনে যথাযথ বাতির ব্যবস্থা না করিয়া চালানো।
৩৮। যানবাহন চালানোর সময় সংগত কারণ ব্যতীত রাস্তার বাম পার্শ্বে না থাকা অথবা একই দিকগামী অন্য কোন যানবাহনের ডান পার্শ্বে না থাকা অথবা রাস্তার চলাচল সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি না মানা।
৩৯। এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন নিষেধাজ্ঞা ভংগ করিয়া রেডিও বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ঢাকঢোল পিটানো, ভেঁপু বাজানো, অথবা কাঁসা বা অন্য কোন জিনিসের দ্বারা আওয়াজ সৃষ্টি করা।
৪০। আগ্নেয়াস্ত্র, পটকা বা আতসবাজী এমনভাবে ছোড়া অথবা উহাদের লইয়া এমনভাবে খেলায় বা শিকারে রত হওয়া যাহাতে পথচারী বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বা কোন সম্পত্তির বিপদ বা ক্ষতি হয় বা হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৪১। পথচারীদের বা পার্শ্ববর্তী এলাকার বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বিপদ হয় বা বিপদ হইবার সম্ভাবনা থাকে এমনভাবে গাছ কাটা, দালান কোঠা নির্মাণ বা খনন কাজ পরিচালনা করা অথবা বিস্ফোরণ ঘটানো।
৪২। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে স্বীকৃত গোরস্থান বা শ্মশান ছাড়া অন্য কোথাও লাশ দাফন করা বা শবদাহ করা।
৪৩। হিংস্র কুকুর বা অন্য কোন ভয়ংকর প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণবিহীনভাবে ছাড়িয়া দেওয়া বা লেলাইয়া দেওয়া।
৪৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত কোন দালানকে ভাংগিয়া ফেলিতে বা উহাকে মজবুত করিতে ব্যর্থতা।
৪৫। এই আইনের অধীন মনুষ্য-বসবাসের অনুপযোগী বলিয়া ঘোষিত দালান-কোঠা বসবাসের জন্য ব্যবহার করা বা কাহাকেও উহাতে বসবাস করিতে দেওয়া।
৪৬। এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন দালান চুনকাম বা মেরামত করিবার প্রয়োজন হইলে তাহা করিতে ব্যর্থতা।
৪৭। এই আইন বা কোন বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ বা ঘোষণা বা জারীকৃত কোন বিজ্ঞপ্তির খেলাপ।
৪৮। এই তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ সংঘটনের চেষ্টা বা সহায়তা করা।

মোহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান
সচিব

বাংলাদেশ গেজেট
অতিরিক্ত সংখ্যা
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

সোমবার, মার্চ ৬, ১৯৮৯
৫ম খন্ড- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ্যাক্ট, বিল ইত্যাদি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
ঢাকা, ২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫/৬ই মার্চ, ১৯৮৯

সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনগুলি ৬ই মার্চ, ১৯৮৯ (২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনগুলি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছে ঃ-
১৯৮৯ সনের ২০ নং আইন
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিভিন্ন অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত একটি {জেলা} ; এবং

[যেহেতু উক্ত জেলার উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরি-উক্ত লক্ষ্যসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা {**}   পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ২০ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;]

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল ঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরনামা ও প্রবর্তন।-(১) এই আইন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।

২। সংজ্ঞা।-বিষয় ও প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) “অ-উপজাতীয়” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন;
[(কক) “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণতঃ বসবাস করেন”]
(খ) “উপজাতীয়” অর্থ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা উপজাতির সদস্য;
(গ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(ঘ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;
[(ঘঘ) ”নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন গঠিত নির্বাচন কমিশন;]
(ঙ) “পরিষদ” অর্থ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ;
(চ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(ছ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(জ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ;
(ঝ) “সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;
[(ঞ) “সার্কেল চীফ” অর্থ “মং চীফ”] ।

৩। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ স্থাপন।-(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এই আইনের বিধান অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ নামে একটি পরিষদ স্থাপিত হইবে।
(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

৪। পরিষদের গঠন।-(১) নিম্নরূপ সদস্য-সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) একুশ জন উপজাতীয় সদস্য;
(গ) নয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য;
[(ঘ) তিনজন মহিলা সদস্য, যাহাদের দুইজন উপজাতীয় এবং একজন অ-উপজাতীয় মহিলা হইবেন।
ব্যাখ্যাঃ দফা (ঘ) তে উল্লিখিত উপজাতীয় মহিলা সদস্যগণের ক্ষেত্রে জেলার বিভিন্ন উপজাতির জন্য কোটা থাকিবে না।]
(২) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ জনসাধারণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন।
(৩) [উপ-ধারা (১) (খ) তে উল্লিখিত]  উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্যে-
(ক) নয় জন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে;
(খ) ছয় জন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা উপজাতি হইতে;
(গ) ছয় জন নির্বাচিত হইবেন মারমা উপজাতি হইতে।
(৪) চেয়ারম্যান উপজাতীয়গণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন।
[“(৪ক) চেয়ারম্যান পদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা এবং উপধারা (৩) এ উল্লিখিত কোন উপজাতির জন্য নির্ধারিত সদস্য পদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা, এবং উপধারা (১) (গ) তে উল্লিখিত অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য যে কোন অ-উপজাতীয় মহিলা, বিধির বিধান সাপেক্ষে, নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন।”]
(৫) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হইলে তিনি কোন উপজাতির সদস্য তাহা [সার্কেল চীফ]  স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে [সার্কেল চীফের]  নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি উপজাতীয় হিসাবে চেয়ারম্যান বা কোন উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
[(৬) কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত, পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।]

৫। চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য না হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না।

৬। উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, কোন উপজাতির অন্তর্ভূক্ত হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি তাঁহার উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনে উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, অ-উপজাতীয় হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসনে অ উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় বা অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান ;
(খ) তাঁহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষনা করেন ;
(গ) তিনি দেওলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন ;
(ঘ) তিনি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ত্যাগ করেন ;
(ঙ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে ;
(চ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন ;
(ছ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন ;
(জ) তিনি পরিষদের কোন কাজ সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা পরিষদের কোন বিষয়ে তাঁহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের দোকানদার হন; অথবা
(ঝ) তাঁহার নিকট সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা, রূপালী ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা বা কৃষি ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে।

৭। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ।- চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে [রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারকের]  সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন, যথা ঃ-

“আমি, …………………….., পিতা বা স্বামী ………………….., খাগড়াছড়ি পার্বত্য [জেলা]  পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব”।

৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা।- চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ [বিধি অনুসারে]  দাখিল করিবেন।
ব্যাখ্যা।- “পরিবারের সদস্য” বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁহার সংগে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে।

৯। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা।-চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১০। পরিষদের মেয়াদ।-পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে [পাঁচ বৎসর] ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নুতন পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

১১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ।-(১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র যোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(২) পদত্যাগ গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

১২। চেয়ারম্যান ইত্যাদির অপসারণ।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন;
(খ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা
(গ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহা আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় “অসদাচরণ” বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি না বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহূত পরিষদের বিশেষ সভায় মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ ভোটে তাঁহার অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হইলে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইয়া যাইবেন।
(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

১৩। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ শূন্য হওয়া।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি ধারা ৭ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সরকার যথার্থ কারণে ইহা বর্ধিত করিতে পারিবে;
(খ) তিনি ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে তাঁহার পদে থাকার অযোগ্য হইয়া যান;
(গ) তিনি ধারা ১১ এর অধীনে তাঁহার পদ ত্যাগ করেন;
(ঘ) তিনি ধারা ১২ এর অধীনে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হন;
(ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন কি না সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি পরিষদের সচিব কর্তৃক খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে, এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্য অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদটি শূন্য হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে তাহা সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

১৪। অস্থায়ী চেয়ারম্যান।- চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নূতন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত  বা চেয়ারম্যান পূনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত [পরিষদের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত কোন উপজাতীয় সদস্য]  চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন।

১৫। আকস্মিক পদ শূন্যতা।- পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার ষাট দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

১৬। পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের সময়।-(১) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী ষাট দিনের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে ঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, যদি কোন বিশেষ কারণে এই উপ-ধারায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী [১৮২০]  দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।]
(২) পরিষদ বাতিল হইয়া গেলে, বাতিল থাকার মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে পরিষদ পুনর্গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

[১৬ক। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ।- (১) ধারা ১৬ এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির তারিখে পরিষদ বাতিল হইয়া যাইবে এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের উপর পরিষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব ন্যস্ত হইবে।
(২) একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করিবে।
(৩) ধারা ১৬ এর অধীন নির্বাচিত নূতন পরিষদ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পরিষদের কার্য চালাইয়া যাইবে।
(৪) সরকার প্রয়োজনবোধে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পূণর্গঠন করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মেয়াদান্তে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নূতন পরিষদ গঠিত হইবে উহার বা উহার পরবর্তী পরিষদের ক্ষেত্রে ধারা ১৬ এর শর্তাংশের কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধানাবলী কার্যকর হইবে।”]

[১৭। ভোটার হওয়ার যোগ্যতা {ও ভোটার তালিকা} ।- (১)  পরিষদের নির্বাচনের জন্য কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভূক্ত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) অন্যূন আঠার বৎসর বয়স্ক হন;
(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কতৃক মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত না হন; এবং
(ঘ) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।]
[(২) নির্বাচন কমিশন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করিবে।]

১৮। ভোটাধিকার।- কোন ব্যক্তির নাম, [ধারা ১৭ এর অধীন প্রণীত এবং আপাতত: বলবৎ ভোটার তালিকায়]  লিপিবদ্ধ থাকিলে তিনি পরিষদের যে কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারিবেন।

১৯। দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ।- কোন ব্যক্তি একই সংগে চেয়ারম্যান এবং উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

২০। নির্বাচন পরিচালনা।- (১) [নির্বাচন কমিশন]  এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করিবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
[(ক) নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ;
(কক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;]
(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই;
(গ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;
(ঘ) প্রার্থী পদ প্রত্যাহার;
(ঙ) প্রার্থীগণের এজেন্ট নিয়োগ;
(চ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং বিনা প্রতি;
(ঝ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন;
(ঞ) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;
(ট) নির্বাচনী ব্যয়;
(ঠ) নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং উহার দন্ড;
(ড) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; এবং
(ঢ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষাংগিক অন্যান্য বিষয়।
(৩) উপ-ধারা (২) (ঠ) এর অধীন প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদন্ডের মেয়াদ দুই বৎসরের অধিক এবং অর্থদন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার অধিক হইবে না।

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ।- চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

২২। পরিষদের কার্যাবলী।- প্রথম তফসিলে উল্লেখিত কার্যাবলী পরিষদের কার্যাবলী হইবে, এবং পরিষদ উহার তহবিলের
সংগতি অনুযায়ী এই কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

২৩। সরকার ও পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর ইত্যাদি।-এই আইন অথবা আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার পরিষদের সম্মতিক্রমে-
(ক) পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম সরকারের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে; এবং
(খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে;
হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে।

২৪। নির্বাহী ক্ষমতা।- (১) এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করিবার ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।
(২) এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত হইবে এবং এই আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে।
(৩) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হইতে হইবে।

২৫। কার্যাবলী নিষ্পন্ন।- (১) পরিষদের কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হইবে।
(২) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান, এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য, সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্র“টি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশ গ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(৪) পরিষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

[২৬। পরিষদের সভায় মং চীফ ও চাকমা চীফের যোগদান ইত্যাদি।- মং চীফ এবং চাকমা চীফ ইচ্ছা করিলে বা আমন্ত্রিত হইলে পরিষদের যে কোন সভায় যোগদান করিতে পারিবেন এবং পরিষদের কোন আলোচ্য বিষয়ে তাঁহার মতামত ব্যক্ত করিতে পারিবেন।]

২৭। কমিটি।- পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও ইহার দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২৮। চুক্তি।- (১) পরিষদ কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-
(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে;
(খ) প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে।
(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন।
(৩) পরিষদ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং চেয়ারম্যান চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন।
(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন চুক্তির দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

২৯। নির্মাণ কাজ।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা এবং আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব প্রণয়ন করার বিধান করিবে;
(খ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং কি শর্তে প্রযুক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হইবে উহার বিধান করিবে;
(গ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয়ের হিসাব কাহার দ্বারা প্রণয়ন করা হইবে এবং উক্ত নির্মাণ কাজ কাহার দ্বারা সম্পাদন করা হইবে উহার বিধান করিবে।

৩০। নথিপত্র, প্রতিবেদন ইত্যাদি।-পরিষদ-
(ক) উহার কার্যাবলীর নথিপত্র প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;
(খ) প্রবিধানে উল্লিখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;
(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

[৩১। পরিষদের সচিব।- সরকারের উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের সচিব হিসাবে থাকিবেন এবং এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় কর্মকর্তাদিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।]

৩২। পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ।-(১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের [অনুমোদনক্রমে,]  বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে :
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
[(৩) পরিষদের অন্যান্য পদে বিধি অনুযায়ী সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কর্মকর্তাগণকে সরকার অন্যত্র বদলী করিতে এবং বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।]

৩৩। ভবিষ্য তহবিল ইত্যাদি।-(১) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(২) পরিষদ ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ হইয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারবর্গকে [প্রবিধান অনুযায়ী]  গ্র্যাচুইটি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী সামাজিক বীমা প্রকল্প চালু করিতে পারিবে এবং উহাতে তাঁহাদিগকে চাঁদা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৫) পরিষদ উহার কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী বদান্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত গ্র্যাচুইটি এবং প্রবিধান অনুযায়ী অন্যান্য সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন গঠিত তহবিলে পরিষদ চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

৩৪। চাকুরী প্রবিধান।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে ;
(গ) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও শাস্তির বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করিতে পারিবে ;
(ঘ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করিতে পারিবে।

৩৫। পরিষদের তহবিল গঠন।- (১) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ তহবিল নামে পরিষদের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) পরিষদের তহবিলে নিম্নলিখিত অর্থ জমা হইবে, যথা ঃ-
(ক) জেলা পরিষদের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য দাবী বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ;
(গ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা ;
(ঘ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুদান ;
(ঙ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ;
(চ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে মুনাফা ;
(ছ) পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ ;
(জ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

৩৬। পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ ইত্যাদি।-(১) পরিষদের তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন সরকারী ট্রেজারীতে বা সরকারী ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে [**]  রাখা হইবে।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ উহার তহবিলের কিছু অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদ ইচ্ছা করিলে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিবে।
৩৭। পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ।-(১) পরিষদের তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা যাইবে, যথা-
প্রথমতঃ পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;
দ্বিতীয়তঃ এই আইনের অধীন পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
তৃতীয়তঃ এই আইন বা আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইন দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;
চতুর্থতঃ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
পঞ্চমতঃ সরকার কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়।
(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চাকুরীতে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীর জন্য দেয় অর্থ;
(খ) সরকারের নির্দেশে পরিষদ সার্ভিসের রক্ষণাবেক্ষন, হিসাব-নিরীক্ষণ বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য দেয় অর্থ;
(গ) কোন আদালত বা ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ;
[(ঘ) বিধি দ্বারা দায়যুক্ত বলিয়া নির্ধারিত অন্য যে কোন ব্যয়।]
(৩) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সে ব্যক্তিকে সরকার, আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল হইতে, যতদূর সম্ভব, ঐ অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৩৮। বাজেট।- (১) প্রতি অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী, অত:পর বাজেট বলিয়া উল্লিখিত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(২) কোন অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ ইহার বাজেট অনুমোদন করিতে না পারিেেল, সরকার উক্ত বৎসরের জন্য একটি আয়-ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করাইয়া উহা প্রত্যয়ন করিবে এবং এইরূপ প্রত্যয়নকৃত বিবরণী পরিষদের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে।
[(৩)]
[(৪) কোন অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় পরিষদ, প্রয়োজন মনে করিলে,সেই অর্থ বৎসরের জন্য প্রণীত বা অনুমোদিত বাজেট পুনঃপ্রণয়ন বা সংশোধন করিতে পারিবে এবং যথাশীঘ্র সম্ভব উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।]
(৫) এই আইন মোতাবেক গঠিত পরিষদ প্রথম বার যে অর্থ-বৎসরে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে সেই অর্থ-বৎসরের বাজেট উক্ত
দায়িত্বভার গ্রহণের পর অর্থ-বৎসরটির বাকী সময়ের জন্য প্রনীত হইবে এবং উক্ত বাজেটের ক্ষেত্রেও এই ধারার বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।

৩৯। হিসাব।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে রক্ষণ করা যাইবে।
(২) প্রতিটি অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পর পরিষদ একটি বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ-বৎসরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৩) উক্ত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের একটি অনুলিপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য পরিষদ কার্যালয়ের কোন বিশিষ্ট স্থানে স্থাপন করিতে হইবে এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে জনসাধারণের আপত্তি বা পরামর্শ পরিষদ বিবেচনা করিবে।

৪০। হিসাব নিরীক্ষা।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিরীক্ষিত হইবে।
(২) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ পরিষদের সকল হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল দেখিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে।
(৩) হিসাব-নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা ঃ-
(ক) অর্থ আত্মসাৎ;
(খ) পরিষদ তহবিলের লোকসান, অপচয় এবং অপপ্রয়োগ;
(গ) হিসাব রক্ষণে অনিয়ম;
(ঘ) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ ও অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম।

৪১। পরিষদের সম্পত্তি।- (১) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদের উপর ন্যস্ত বা উহার মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে ;
(খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ-
(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন সাধন করিতে পারিবে;
(খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে;
(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা
হস্তান্তর করিতে পারিবে।

৪২। উন্নয়ন পরিকল্পনা।-(১) পরিষদ উহার এখতিয়ারভূক্ত যে কোন বিষয়ে উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) উক্ত পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত বিষয়ের বিধান থাকিবে, যথা ঃ-
(ক) কি পদ্ধতিতে পরিকল্পনার অর্থ যোগান হইবে এবং উহার তদারক ও বাস্তবায়ন হইবে;
(খ) কাহার দ্বারা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হইবে;
(গ) পরিকল্পনা সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
[(২ক) পরিষদ সরকার হইতে প্রাপ্য অর্র্র্থে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।]
(৩) পরিষদ উহার উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অনুলিপি উহার বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
[(৪) পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত কোন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করিবে।]

৪৩। পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান ইত্যাদির দায়।-পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা উহার কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফেলতি বা অসদাচরণের কারনে পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাঁহার এই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাঁহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে তাঁহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে।

[৪৪। পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়।- পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত সকল অথবা যে কোন কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত তফসিলে নির্ধারিত সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে রয়্যালটির অংশ বিশেষ আহরণ করিতে পারিবে।]

৪৫। কর সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপণ ইত্যাদি।-(১) পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপিত হইবে, এবং সরকার কর্তৃক ভিন্নরুপে নির্দেশ না দিলে, উক্ত আরোপের বিষয়টি আরোপের পূর্বে প্রকাশ করিতে হইবে।
(২) কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপের বা উহার পরিবর্তনের কোন প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে [পরিষদ]  যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে উহা কার্যকর হইবে।

৪৬। কর সংক্রান্ত দায়।- কোন ব্যক্তি বা জিনিষপত্রের উপর কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপ করা যাইবে কি না উহা নির্ধারণের প্রয়োজনে পরিষদ, নোটিশের মাধ্যমে, যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করিতে বা দলিলপত্র, হিসাব বহি বা জিনিষপত্র হাজির করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৪৭। কর আদায়।- এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা, নির্ধারিত ব্যক্তির দ্বারা এবং পদ্ধতিতে আদায় করা হইবে।
(২) পরিষদের প্রাপ্য অনাদায়ী সকল প্রকার কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

৪৮। কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি।- প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় এবং সময়ের মধ্যে পেশকৃত লিখিত দরখাস্ত ছাড়া অন্য কোন পন্থায় এই আইনের অধীন ধার্য কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস বা এতদসংক্রান্ত কোন সম্পত্তির মূল্যায়ন অথবা কোন ব্যক্তির উহা প্রদানের দায়িত্ব সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।

৪৯। কর প্রবিধান।-(১) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত সকল কর, রেইট, টোল বা ফিস এবং অন্যান্য দাবী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য, আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে।
(২) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয় সম্পর্কিত প্রবিধানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, কর দাতাদের করণীয় এবং কর ধার্যকারী ও আদায়কারী কর্মকর্তা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিধান থাকিবে।

[৫০। পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ।- (১) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য সাধনের, নিশ্চয়তা বিধানকল্পে সরকার প্রয়োজনে পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করিতে পারিবে।
(২) সরকার যদি এইরূপ প্রমাণ পায় যে, পরিষদের দ্বারা বা পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজকর্ম এই  আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী, তাহা হইলে সরকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে, এবং পরামর্শ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, এবং পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ এবং পরামর্শ বা নির্দেশ বাস্তবায়ন করিবে।]

[৫১।]

[৫২।]

৫৩। পরিষদ বাতিলকরণ।- (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-
(ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;
(খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(গ) সাধারণতঃ এমন কাজ করে যাহা জনস্বার্থ বিরোধী;
(ঘ) অন্য কোনভাবে উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে;
তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত [আদেশ দ্বারা, পরিষদকে]  বাতিল করিতে পারিবে ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ তাঁহাদের পদে বহাল থাকিবেন না ;
(খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ পালন করিবে।
(৩) [উক্ত বাতিলাদেশ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে]  এই আইন ও বিধি মোতাবেক পরিষদ পুনর্গঠিত হইবে।

৫৪। যুক্ত কমিটি।- পরিষদ অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহিত একত্রে উহাদের সাধারণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের জন্য যুক্ত কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ কমিটিকে উহার যে কোন ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।

৫৫। পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ।- পরিষদ এবং অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৫৬। অপরাধ।-তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন করণীয় কাজ না করা এবং করণীয় নয় এই প্রকার কাজ করা এই আইনের অধীন দন্ডনীয় অপরাধ হইবে।

৫৭। দন্ড।-এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে এবং এই অপরাধ যদি অনবরতভাবে ঘটিতে থাকে, তাহা হইলে প্রথম দিনের অপরাধের পর পরবর্তী প্রত্যেক দিনের জন্য অপরাধীকে অতিরিক্ত অনধিক পঁচিশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে।

৫৮। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ।- চেয়ারম্যান বা পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যাক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

৫৯। অভিযোগ প্রত্যাহার।- চেয়ারম্যান বা এতদুদ্দেশ্যে পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।

৬০। অবৈধভাবে পদার্পণ।- (১) জনপদ ও সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন ব্যক্তি কোন প্রকারে অবৈধভাবে পদার্পণ করিবেন না।
(২) উক্তরূপ অবৈধ পদার্পণ হইলে পরিষদ নোটিশ দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে পদার্পণকারী ব্যক্তিকে তাঁহার অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি তিনি এই নির্দেশ মান্য না করেন তাহা হইলে পরিষদ অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অবৈধ পদার্পণকারী কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হইলে সেইজন্য তাহাকে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইবে না।
(৩) অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করার প্রয়োজনে গৃহীত ব্যবস্থার জন্য যে ব্যয় হইবে তাহা উক্ত পদার্পণকারীর উপর এই আইনের অধীন ধার্য কর বলিয়া গণ্য হইবে।

৬১। আপীল।-এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে পরিষদ বা উহার চেয়ারম্যানের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন এবং এই আপীলের উপর সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৬২। জেলা পুলিশ।-(১) আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পুলিশের [**]  সাব-ইন্সপেক্টর ও তদনিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাঁহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
(২) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যের চাকুরীর শর্তাবলী, তাঁহাদের প্রশিক্ষণ, সাজসজ্জা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং তাঁহাদের পরিচালনা অন্যান্য জেলা পুলিশের অনুরূপ হইবে এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল আইন, উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, তাঁহাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(৩) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ তাঁহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যাপারে, [এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ]  পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
৬৩। পুলিশের দায়িত্ব।- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে ইহার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা এবং পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইহার কর্মকর্তাগণকে আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান করা সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হইবে।

[৬৪।ভূমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।- (১) আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন-
(ক) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা-জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয়, বা অন্যবিধভাবে হস্তান্তর করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (জবংবৎাবফ) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানা ও সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
(২) হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ তত্ত্বাবধান ও  নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(৩) কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি (ঋৎরহমব খধহফ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।]

[৬৫। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়।-আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার এলাকাভূক্ত ভূমি বাবদ আদায়যোগ্য ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদে ন্যস্ত থাকিবে এবং আদায়কৃত কর পরিষদের তহবিলে জমা হইবে।]

৬৬। উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধান।- (১) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় কার্বারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতি অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি করিবেন।
(২) কার্বারী বা হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি মং চীফের নিকট আপীল করা যাইবে।
(৩) মং চীফের আপীল নিষ্পত্তির ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য একজন ত্রিপুরা এবং একজন চাকমা পরামর্শদাতা থাকিবেন এবং তাঁহারা সরকার কর্তৃক তিন বৎসরের জন্য মনোনীত হইবেন।
(৪) মং চীফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট আপীল করা যাইবে এবং তাঁহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
তবে, শর্ত থাকে যে, আপীল নিষ্পত্তির পূর্বে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতি হইতে তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন তিনজন উপজাতীয় বিজ্ঞ ব্যক্তির সহিত পরামর্শ করিবেন।
(৫) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা এই ধারায় উল্লিখিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য-
(ক) বিচার পদ্ধতি,
(খ) বিচার প্রার্থী ও আপীলকারী কর্তৃক প্রদেয় ফিস, নির্ধারণ করিতে পারিবে।

[৬৭। পরিষদ ও সরকারী কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।- পরিষদ এবং সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, এতদ্বিষয়ে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপণ করিতে পারিবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হইবে।]

৬৮। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।- [(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(খ) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণ;
(গ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অন্য কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার পদ্ধতি;
(ঘ) পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্ধতি ;
(ঙ) পরিষদ পরিদর্শনের পদ্ধতি এবং পরিদর্শকের ক্ষমতা ;
(চ) এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
[(৩) কোন বিধি প্রণীত হওয়ার পর, পরিষদের বিবেচনায়, যদি উক্ত বিধি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তাহা হইলে, পরিষদ সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা উহার প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন বিবেচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।]

৬৯। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।-(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ [**]  এই আইনের বা কোন বিধির বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে ঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরিষদকে পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে নিম্নরূপ সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা,
(খ) পরিষদের সভায় কোরাম নির্ধারণ,
(গ) পরিষদের সভায় প্রশ্ন উত্থাপন,
(ঘ) পরিষদের সভা আহ্বান,
(ঙ) পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লিখন,
(চ) পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন,
(ছ) সাধারণ সীলমোহরের হেফাজত ও ব্যবহার,
[(জ)]
(ঝ) পরিষদের অফিসের বিভাগ ও শাখা গঠন এবং উহাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ,
(ঞ) কার্যনির্বাহ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়,
(ট) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃঙ্খলা,
(ঠ) কর, রেইট, টোল এবং ফিস ধার্য ও আদায় সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়,
(ড) পরিষদের সম্পত্তিতে অবৈধ পদার্পণ নিয়ন্ত্রণ,
(ঢ) গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীর বিক্রয় রেজিষ্ট্রীকরণ,
(ণ) এতিমখানা, বিধবা সদন এবং দরিদ্রদের ত্রাণ সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রীকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ,
(ত) জনসাধারণের ব্যবহার্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(থ) টীকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(দ) সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ,
(ধ) খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
(ন) সমাজের বা ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা বিরক্তিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(প) বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ,
(ফ) জনসাধারণের ব্যবহার্য ফেরীর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ব) গবাদি পশুর খোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ভ) ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
(ম) মেলা, প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলা ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণ,
(য) বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(র) ভিক্ষাবৃত্তি, কিশোর অপরাধ, পতিতাবৃত্তি ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(ল) কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রয়োজন হইবে এবং কি কি শর্তে উহা প্রদান করা হইবে তাহা নির্ধারণ,
(শ) এই আইনের অধীন প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
(৩) পরিষদের বিবেচনায় যে প্রকারে প্রকাশ করিলে কোন প্রবিধান সম্পর্কে জনসাধারণ ভালভাবে অবহিত হইতে পারিবে সেই প্রকারে প্রত্যেক প্রবিধান প্রকাশ করিতে হইবে।

[৭০।]  বিলুপ্ত।

৭১। পরিষদের পক্ষে ও বিপক্ষে মামলা।- (১) পরিষদের বিরুদ্ধে বা পরিষদ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ-
(ক) পরিষদের ক্ষেত্রে, পরিষদের কার্যালয়ে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে ;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে তাঁহার অফিস বা বাসস্থানে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে।
(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পৌঁছানোর পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না, এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পৌঁছানো হইয়াছে কিনা তাহার উল্লেখ থাকিতে হইবে।

৭২। নোটিশ এবং উহা জারীকরণ।- (১) এই আইন, বিধি বা প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা না করা হইতে বিরত থাকা যদি ব্যক্তির কর্তব্য হয় তাহা হইলে কোন সময়ের মধ্যে ইহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাঁহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্র“টির কারণে অবৈধ হইবে না।
(৩) ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে এই আইনের অধীন প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাঁহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাঁহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন বিশিষ্ট স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে।
(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৩। প্রকাশ্য রেকর্ড।- এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিষ্টার ঊারফবহপব অপঃ, ১৮৭২ (ও ড়ভ ১৮৭২) -তে যে অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে, প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে বিশুদ্ধ রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

৭৪। পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) গণ্য হইবেন।- পরিষদের চেয়ারম্যান ও উহার অন্যান্য সদস্য এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং পরিষদের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি চবহধষ ঈড়ফব (অপঃ ঢখঠ ড়ভ ১৮৬০) এর ঝবপঃরড়হ ২১ এ যে অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) বলিয়া গণ্য হইবেন।

৭৫। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ।- এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, পরিষদ বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

৭৬। রহিতকরণ ও হেফাজত।- (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার  পরিষদ স্থাপিত হইবার সংগে সংগে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সনের ২৯ নং আইন), অত:পর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে রহিত হইবে।
(২) উক্ত আইন উক্তরূপে রহিত হইবার পর,-
(ক) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, অত:পর উক্ত জেলা পরিষদ বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বা প্রণীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিধি, প্রবিধান ও বাই-ল, প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল আদেশ, জারীকৃত বা জারীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ এবং মঞ্জুরীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল লাইসেন্স ও অনুমতি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত, জারীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত সকল বাই-ল প্রবিধান বলিয়া গণ্য হইবে;
(গ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধা, সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, বিনিয়োগ এবং উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কীয়, উহার যাবতীয় অধিকার বা উহাতে ন্যস্ত যাবতীয় স্বার্থ পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে;
(ঘ) উক্ত জেলা পরিষদের যে সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব ছিল এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত যে সকল চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছিল তাহা পরিষদের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;
(ঙ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রণীত সকল বাজেট, প্রকল্প ও পরিকল্পনা বা তৎকর্তৃক কৃত মূল্যায়ন ও নির্ধারিত কর, এই
আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং পরিষদ কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রণীত, কৃত বা নির্ধারিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(চ) উক্ত জেলা পরিষদের প্রাপ্য সকল কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ এই আইনের অধীন পরিষদের প্রাপ্য বলিয়া গণ্য হইবে;
(ছ) উক্ত আইন রহিত হইবার পূর্বে উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল ও ফিস এবং অন্যান্য দাবী, পরিষদ কর্তৃক, পরিবর্তিত না হাওয়া পর্যন্ত, একই হারে অব্যাহত থাকিবে;
(জ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদে বদলী হইবেন ও উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং তাঁহারা উক্তরূপ বদলীর পূর্বে যে শর্তে চাকুরীরত ছিলেন, পরিষদ কর্তৃক পরিবর্তিত না হইলে, সেই শর্তেই তাঁহারা উহার অধীনে চাকুরীরত থাকিবেন;
(ঝ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৭। নির্ধারিত পদ্ধতিতে কতিপয় বিষয়ের নিষ্পত্তি।- এই আইনে কোন কিছু করিবার জন্য বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি উহা কোন্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা কি পদ্ধতিতে করা হইবে তৎসম্পর্কে কোন বিধান না থাকে, তাহা হইলে উক্ত কাজ বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে করা হইবে।

৭৮। অসুবিধা দূরীকরণ।- এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

৭৯। কোন আইনের বিধান সম্পর্কে আপত্তি।- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোন আইন পরিষদের বিবেচনায় উক্ত জেলার জন্য কষ্টকর হইলে বা উপজাতীয়দের জন্য আপত্তিকর হইলে, পরিষদ উহা কষ্টকর বা আপত্তিকর হওয়ার কারণ ব্যক্ত করিয়া আইনটির সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিল করিবার জন্য সরকারের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন [অনুযায়ী প্রতিকারমূলক]  পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

প্রথম তফসিল
পরিষদের কার্যাবলী
[ধারা ২২ দ্রষ্টব্য]

[১। জেলার আইন শৃংখলার [তত্ত্বাবধান,}  সংরক্ষণ ও উহার উন্নতি সাধন;
১ক। পুলিশ (স্থানীয়);
১খ। উপজাতীয় রীতিনীতি অনুসারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও উপজাতীয় বিষয়ক বিরোধের বিচার;]
২। জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন; ইহাদের প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা ও হিসাব নিরীক্ষণ; উহাদিগকে সহায়তা, সহযোগিতা ও উৎসাহ দান।
৩। শিক্ষা-
(ক) প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) সাধারণ পাঠাগার স্থাপন ও রক্ষাণাবেক্ষণ;
(গ) ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা;
(ঘ) ছাত্রাবাস স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঙ) প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ;
(চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক মঞ্জুরী প্রদান ;
(ছ) বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা;
(জ) শিশু ছাত্রদের জন্য দুগ্ধ সরবরাহ ও খাদ্যের ব্যবস্থা;
(ঝ) গরীব ও দু:স্থ ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত মূল্যে পাঠ্য পুস্তক সরবরাহ;
(ঞ) পাঠ্য পুস্তক ও শিক্ষা সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
[(ট) বৃত্তিমূলক শিক্ষা;
(ঠ) মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা;
(ড) মাধ্যমিক শিক্ষা।]
৪। স্বাস্থ্য-
(ক) হাসপাতাল, ডাক্তারখানা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ডিসপেনসারী স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) ভ্রাম্যমান চিকিৎসক দল গঠন, চিকিৎসা সাহায্য প্রদানের জন্য সমিতি গঠনে উৎসাহ দান;
(গ) ধাত্রী প্রশিক্ষণ;
(ঘ) ম্যালেরিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ;
(ঙ) পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;
(চ) স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন;
(ছ) কম্পাউন্ডার, নার্স এবং অন্যান্য চিকিৎসা কর্মীর কার্য পরিদর্শন;
(জ) প্রাথমিক স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং তৎসম্পর্কিত কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষার প্রস্তাব
৬। কৃষি ও বন-
(ক) কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) সরকার কর্তৃক [**]  রক্ষিত নয় এই প্রকার বন সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ;
(গ) উন্নত কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয়করণ, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও কৃষকগণকে উক্ত যন্ত্রপাতি ধারে প্রদান;
(ঘ) পতিত জমি চাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঙ) গ্রামাঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ;
(চ) কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ প্রকল্পের কোন ব্যাঘাত না ঘটাইয়া, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং কৃষি কার্যে ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, জমানো ও নিয়ন্ত্রণ;
(ছ) কৃষি শিক্ষার উন্নয়ন;
(জ) ভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমির পানি নিষ্কাশন;
(ঝ) শষ্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ, ফসলের নিরাপত্তা বিধান, বপনের উদ্দেশ্যে বীজের ঋণ দান, রাসায়নিক সার বিতরণ এবং উহার ব্যবহার জনপ্রিয়করণ;
(ঞ) রাস্তার পার্শ্বে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষরোপণ ও উহার সংরক্ষণ।
৭। পশু পালন-
(ক) পশুপাখী উন্নয়ন;
(খ) পশুপাখীর হাসপাতাল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(গ) পশু খাদ্যের মজুদ গড়িয়া তোলা;
(ঘ) গৃহপালিত পশুসম্পদ সংরক্ষণ;
(ঙ) চারণ ভূমির ব্যবস্থা ও উন্নয়ন;
(চ) পশুপাখীর ব্যাধি প্রতিরোধ ও দূরীকরণ এবং পশুপাখীর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ;
(ছ) দুগ্ধ পল্লী স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসম্মত আস্তাবলের ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ;
(জ) গৃহপালিত পশু খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ;
(ঝ) হাঁস-মুরগী খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ;
(ঞ) গৃহপালিত পশু ও হাঁসমুরগী পালন উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ট) দুগ্ধ খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ।
৮। মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মৎস্য খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মৎস্য ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।
৯। সমবায় উন্নয়ন ও সমবায় জনপ্রিয়করণ এবং উহাতে উৎসাহ দান।
১০। শিল্প ও বাণিজ্য-
(ক) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন এবং উহাতে উৎসাহ দান;
(খ) স্থানীয় ভিত্তিক বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;
(গ) হাট বাজার স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঘ) গ্রামাঞ্চলে শিল্পসমূহের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত সামগ্রীর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা;
(ঙ) গ্রামভিত্তিক শিল্পের জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান;
(চ) গ্রাম বিপণী স্থাপন ও সংরক্ষণ।
১১। সমাজকল্যাণ-
(ক) দুঃস্থ ব্যক্তিদের জন্য কল্যাণ সদন, আশ্রয় সদন, অনাথ আশ্রম, এতিমখানা, বিধবা সদন এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(খ) মৃত নিঃস্ব ব্যক্তিদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা;
(গ) ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, মাদকদ্রব্য সেবন, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ;
(ঘ) জনগণের মধ্যে সামাজিক, নাগরিক এবং দেশপ্রেমমূলক গূণাবলীর উন্নয়ন;
(ঙ) দরিদ্রদের জন্য আইনের সাহায্য (লিগ্যাল এইড) সংগঠন;
(চ) সালিশী ও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ছ) দুঃস্থ ও ছিন্নমূল পরিবারের সাহায্য ও পুনর্বাসন;
(জ) সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
১২। সংস্কৃতি-
(ক) সাধারণ ও উপজাতীয় সংস্কৃতিমূলক কর্মকান্ড সংগঠন ও উহাতে উৎসাহ দান;
(খ) জনসাধারণের জন্য ক্রীড়া ও খেলাধূলার উন্নয়ন;
(গ) জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে রেডিওর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঘ) যাদুঘর ও আর্ট-গ্যালারী স্থাপন ও প্রদর্শনীর সংগঠন;
(ঙ) পাবলিক হল ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং জনসভার জন্য স্থানের ব্যবস্থা;
(চ) নাগরিক শিক্ষার প্রসার, এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য সমাজ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, গবাদি পশু প্রজনন সম্পর্কিত এবং জনস্বার্থ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের উপর তথ্য প্রচার;
(ছ) জাতীয় দিবস ও উপজাতীয় উৎসবাদি উদযাপন;
(জ) বিশিষ্ট অতিথিগণের অভ্যর্থনা;
(ঝ) শরীরচর্চার উন্নয়ন, খেলাধূলার উৎসাহ দান এবং সমাবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া ও খেলাধূলার ব্যবস্থা করা;
(ঞ) স্থানীয় এলাকার ঐতিহাসিক এবং আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ;
(ট) তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
(ঠ) সংস্কৃতি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা।
১৩। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ, কালভার্ট ও ব্রীজের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন।
১৪। সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে নহে এমন খেয়াঘাট ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।
১৫। জনসাধারণের ব্যবহার্য উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ।
১৬। সরাইখানা, ডাকবাংলা এবং বিশ্রামাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
১৭। সরকার কর্তৃক পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
১৮। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
১৯। পানি নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, রাস্তা পাকাকরণ ও অন্যান্য জনহিতকর অত্যাবশ্যক কাজকরণ।
২০। স্থানীয় এলাকার উন্নয়নকল্পে নক্সা প্রণয়ন।
২১। স্থানীয় এলাকা ও উহার অধিবাসীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও আর্থিক উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
[২২। পুলিশ (স্থানীয়)।
২৩। উপজাতীয় রীতি-নীতি, প্রথা এবং সামাজিক বিচার।
২৪। ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।
২৫। কাপ্তাই হ্রদ ব্যতীত অন্যান্য নদী-নালা ও খাল-বিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা।
২৬। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
২৭। যুব কল্যাণ।
২৮। স্থানীয় পর্যটন।
২৯। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত ইমপ্র“ভমেন্ট ট্রাস্টও অন্যান্য স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান।
৩০। স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান।
৩১। জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ।
৩২। মহাজনী কারবার
৩৩। জুম চাষ।]

দ্বিতীয় তফসিল
পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর, রেইট, [টোল, ফিস এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়]
[ধারা ৪৪ দ্রষ্টব্য]
১। স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ।
২। বিজ্ঞাপনের উপর কর।
৩। পরিষদের রক্ষণাবেক্ষণাধীন রাস্তা, পুল ও ফেরীর উপর টোল।
৪। পরিষদ কর্তৃক জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য রেইট।
৫। পরিষদ কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত স্কুলের ফিস।
৬। পরিষদ কর্তৃক কৃত জনকল্যাণমূলক কাজ হইতে প্রাপ্ত উপকার গ্রহণের জন্য ফিস।
৭। পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত কোন বিশেষ সেবার জন্য ফিস।
[৮। অযান্ত্রিক যান-বাহনের রেজিস্ট্রেশন ফিস।
৯। পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর।
১০। ভূমি ও দালান কোঠার উপর হোল্ডিং কর।
১১। গৃহপালিত পশু বিক্রয়ের উপর কর।
১২। সামজিক বিচারের ফিস।
১৩। সরকারী ও বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর হোল্ডিং কর।
১৪। বনজ সম্পদের উপর রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৫। সিনেমা, যাত্রা সার্কাস ইত্যাদির উপর সম্পূরক কর।
১৬। খনিজ সম্পদ অন্বেষণ বা নিষ্কাশণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র বা পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৭। ব্যবসার উপর কর।
১৮। লটারীর উপর কর।
১৯। মৎস্য ধরার উপর কর।
২০। সরকার কর্তৃক পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আরোপিত কোন কর।]

তৃতীয় তফসিল
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ
[ধারা ৫৬ দ্রষ্টব্য]

১। পরিষদ কর্তৃক আইনানুগভাবে ধার্যকৃত কর, টোল, রেইট ও ফিস ফাঁকি দেওয়া।
২। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন যে সকল বিষয়ে পরিষদ কোন তথ্য চাহিতে পারে সেই সকল বিষয়ে পরিষদের তলব অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতা বা ভূল তথ্য সরবরাহ।
৩। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুযায়ী যে কার্যের জন্য লাইসেন্স বা অনুমতি প্রয়োজন হয় সে কার্য বিনা লাইসেন্সে বা বিনা অনুমতিতে সম্পাদন।
৪। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন জনপথে অবৈধ পদার্পণ।
৫। পানীয় জল দূষিত বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয় এমন কোন কাজ করা।
৬। জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হওয়ার সন্দেহে এই আইনের অধীন কোন উৎস হইতে পানি পান করা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, ঐ উৎস হইতে পানি পান করা।
৭। জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন পানীয় জলের উৎসের সন্নিকটে গবাদিপশু বা জীবজন্তুকে পানি পান করানো, পায়খানা-পেশাব করানো বা গোসল করানো।
৮। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন পুকুরে বা ডোবায় অথবা উহার সন্নিকটে শন, পাট বা অন্য কোন গাছপালা ডুবাইয়া রাখা।
৯। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা।
১০। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে মাটি খনন, পাথর বা অন্য কিছু খনন করা।
১১। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে ইটের ভাটি, চুন-ভাটি, কাঠ-কয়লা ভাটি ও মৃৎশিল্প স্থাপন।
১২। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে মৃত জীবজন্তুর দেহাবশেষ ফেলা।
১৩। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন জমি বা ইমারত হইতে আবর্জনা, জীবজন্তুর বিষ্ঠা, সার অথবা দুর্গন্ধযুক্ত অন্য কোন পদার্থ অপসারণে ব্যর্থতা।
১৪। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন শৌচাগার, প্রস্রাবখানা, নর্দমা, মলকুন্ড, পানি, আবর্জনা অথবা বর্জিত পদার্থ রাখিবার জন্য অন্যান্য স্থান বা পাত্র আচ্ছাদনে, অপসারণে, মেরামতে, পরিষ্কার করিতে, জীবাণুমুক্ত করিতে অথবা যথাযথভাবে রক্ষণ করিতে ব্যর্থতা।
১৫। এই আইনের অধীন কোন আগাছা, ঝোপঝাড় বা লতাগুল্ম জনস্বাস্থ্যের বা পরিবেশের জন্য প্রতিকুল ঘোষণা করা সত্ত্বেও, ইহা আপসারণ বা পরিষ্কার করিতে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বা দখলদারের ব্যর্থতা।
১৬। জনপথ সংলগ্ন কোন স্থানে জন্মানো কোন আগাছা, লতাগুল্ম বা গাছপালা জনপথের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া অথবা জনসাধারণের ব্যবহার্য পানির কোন পুকুর, কুয়া বা অন্য কোন উৎসের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও বা পানি দূষিত করা সত্ত্বেও অথবা উহা এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের হানিকর বলিয়া ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট স্থানের মালিক বা দখলদার কর্তৃক উহা কাটিয়া ফেলিতে, অপসারণ করিতে বা ছাঁটিয়া ফেলিতে ব্যর্থতা।
১৭। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন শষ্যের চাষ করা, সারের প্রয়োগ করা বা ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত পন্থায় জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা।
১৮। এই আইনের বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অবহেলাভরে পায়খানার গর্ত বা পায়খানার নালা হইতে মলমূত্র বা অন্য কোন ক্ষতিকর পদার্থ কোন জনপথ বা জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানের উপর ছড়াইয়া পড়িতে বা গড়াইয়া যাইতে দেওয়া বা এতদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নয় এই প্রকার কোন নর্দমা, খাল বা পয়:প্রণালীর উপর পতিত হইতে দেওয়া।
১৯। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন কূপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের জন্য কোন উৎস পরিষ্কার করিতে, মেরামত করিতে, আচ্ছাদন করিতে বা উহা হইতে পানি নিষ্কাশন করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২০। এই আইনের বিধান অনুযায়ী নির্দেশিত হইয়া কোন জমি বা দালান হইতে কোন পানি বা আবর্জনা নিস্কাশনের জন্য যথোপযুক্ত পাইপ বা নর্দমার ব্যবস্থা করিতে জমি বা দালানের মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২১। চিকিৎসক হিসাবে কর্তব্যরত থাকাকালে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও পরিষদের নিকট তৎসম্পর্কে রিপোর্ট করিতে কোন চিকিৎসকের ব্যর্থতা।
২২। কোন দালানে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তৎসম্পর্কে কোন ব্যক্তির পরিষদকে খবর দিতে ব্যর্থতা।
২৩। সংক্রামক রোগজীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত কোন দালানকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২৪। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি কর্তৃক খাদ্য বা পানীয় বিক্রয় করা।
২৫। রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোন যানবাহনের মালিক বা চালক কর্তৃক উহাকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে ব্যর্থতা।
২৬। দুগ্ধের জন্য বা খাদ্যের জন্য রক্ষিত কোন প্রাণীকে ক্ষতিকর কোন দ্রব্য খাওয়ানো বা খাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
২৭। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোন স্থানে মাংস বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন প্রাণী জবাই করা।
২৮। ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ না করিয়া নিম্ন বা ভিন্ন মানের খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ করিয়া ক্রেতাকে ঠকানো।
২৯। ভিক্ষার জন্য বিরক্তিকর কাকুতি মিনতি করা বা শরীরের কোন বিকৃত বা গলিত অংশ বা নোংরা ক্ষতস্থান প্রদর্শন করা।
৩০। এতদুদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় পতিতালয় স্থাপন বা পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করা।
৩১। কোন বৃক্ষ বা উহার শাখা কর্তন বা কোন দালান বা উহার কোন অংশ নির্মাণ বা ভাংচুর এই আইনের অধীন জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক বা বিরক্তিকর বলিয়া ঘোষণা করা সত্ত্বেও উহার কর্তন, নির্মাণ বা ভাংচুর।
৩২। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন রাস্তা নির্মাণ।
৩৩। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কোন স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে কোন বিজ্ঞাপন, নোটিশ, প্ল্যাকার্ড বা অন্য কোন প্রকার প্রচারপত্র আঁটিয়া দেওয়া।
৩৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত পদ্ধতিতে কাঠ, ঘাস, খড় বা অন্য কোন দাহ্য বস্তু স্তুপিকৃত করা।
৩৫। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে কোন রাস্তার উপরে পিকেটিং করা, জীবজন্তু রাখা, যানবাহন জমা করিয়া রাখা, অথবা কোন রাস্তাতে যানবাহন বা জীবজন্তুকে থামাইবার স্থান হিসাবে অথবা তাবু খাটাইবার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা।
৩৬। গৃহপালিত জীবজন্তুকে ইতস্তত ঘুরিয়া বেড়াইতে দেওয়া।
৩৭। সূর্যাস্তের অর্ধঘন্টা পর হইতে সূর্যোদয়ের অর্ধঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন যানবাহনে যথাযথ বাতির ব্যবস্থা না করিয়া চালানো।
৩৮। যানবাহন চালানোর সময় সংগত কারণ ব্যতীত রাস্তার বাম পার্শ্বে না থাকা অথবা একই দিকগামী অন্য কোন যানবাহনের ডান পার্শ্বে না থাকা অথবা রাস্তার চলাচল সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি না মানা।
৩৯। এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন নিষেধাজ্ঞা ভংগ করিয়া রেডিও বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ঢাকঢোল পিটানো, ভেঁপু বাজানো, অথবা কাঁসা বা অন্য কোন জিনিসের দ্বারা আওয়াজ সৃষ্টি করা।
৪০। আগ্নেয়াস্ত্র, পটকা বা আতসবাজী এমনভাবে ছোড়া অথবা উহাদের লইয়া এমনভাবে খেলায় বা শিকারে রত হওয়া যাহাতে পথচারী বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বা কোন সম্পত্তির বিপদ বা ক্ষতি হয় বা হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৪১। পথচারীদের বা পার্শ্ববর্তী এলাকার বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বিপদ হয় বা বিপদ হইবার সম্ভাবনা থাকে এমনভাবে গাছ কাটা, দালান কোঠা নির্মাণ বা খনন কাজ পরিচালনা করা অথবা বিস্ফোরণ ঘটানো।
৪২। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে স্বীকৃত গোরস্থান বা শ্মশান ছাড়া অন্য কোথাও লাশ দাফন করা বা শবদাহ করা।
৪৩। হিংস্র কুকুর বা অন্য কোন ভয়ংকর প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণবিহীনভাবে ছাড়িয়া দেওয়া বা লেলাইয়া দেওয়া।
৪৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত কোন দালানকে ভাংগিয়া ফেলিতে বা উহাকে মজবুত করিতে ব্যর্থতা।
৪৫। এই আইনের অধীন মনুষ্য-বসবাসের অনুপযোগী বলিয়া ঘোষিত দালান-কোঠা বসবাসের জন্য ব্যবহার করা বা কাহাকেও উহাতে বসবাস করিতে দেওয়া।
৪৬। এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন দালান চুনকাম বা মেরামত করিবার প্রয়োজন হইলে তাহা করিতে ব্যর্থতা।
৪৭। এই আইন বা কোন বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ বা ঘোষণা বা জারীকৃত কোন বিজ্ঞপ্তির খেলাপ।
৪৮। এই তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ সংঘটনের চেষ্টা বা সহায়তা করা।

মোহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান
সচিব

বাংলাদেশ গেজেট
অতিরিক্ত সংখ্যা
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত

সোমবার, মার্চ ৬, ১৯৮৯

৫ম খন্ড- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এ্যাক্ট, বিল ইত্যাদি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
ঢাকা, ২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫/৬ই মার্চ, ১৯৮৯

সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনগুলি ৬ই মার্চ, ১৯৮৯ (২২শে ফাল্গুন, ১৩৯৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনগুলি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছে ঃ-
১৯৮৯ সনের ২১ নং আইন
বান্দরবান পার্বত্য জেলা {**}  পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু বান্দরবন পার্বত্য জেলা বিভিন্ন অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত একটি [জেলা] ; এবং

[যেহেতু উক্ত জেলার উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরি-উক্ত লক্ষ্যসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বান্দরবন পার্বত্য জেলা {**}  পরিষদ আইন, ১৯৮৯ (১৯৮৯ সনের ২১ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;]

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল ঃ-

১। সংক্ষিপ্ত শিরনামা ও প্রবর্তন।-(১) এই আইন বান্দরবন পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।

২। সংজ্ঞা।-বিষয় ও প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) “অ-উপজাতীয়” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন;
[(কক) “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং যিনি পার্বত্য জেলায় সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় সাধারণত: বসবাস করেন”]
(খ) “উপজাতীয়” অর্থ বান্দরবন পার্বত্য জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত মারমা, ম্রো (মুরুং), ত্রিপুরা, তনচৈংগা, বোম, চাকমা, খুমী, উচাই, চাক, খিয়াং, পাংখু ও লুসাই উপজাতির সদস্য;
(গ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(ঘ) “তফসিল” অর্থ এই আইনের তফসিল;
[(ঘঘ) “নির্বাচন কমিশন” অর্থ সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন গঠিত নির্বাচন কমিশন;]
(ঙ) “পরিষদ” অর্থ বান্দরবন পার্বত্য জেলা [**[  পরিষদ;
(চ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(ছ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(জ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ;
(ঝ) “সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;
[(ঞ) “সার্কেল চীফ” অর্থ  বোমাং চীফ] ।

৩। বান্দরবন পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ স্থাপন।-(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, বান্দরবন পার্বত্য জেলায় এই আইনের বিধান অনুযায়ী বান্দরবন পার্বত্য জেলা [*]  পরিষদ নামে একটি পরিষদ স্থাপিত হইবে।
(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

৪। পরিষদের গঠন।-(১) নিম্নরূপ সদস্য-সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) ঊনিশ জন উপজাতীয় সদস্য;
(গ) এগার জন অ-উপজাতীয় সদস্য;
[(ঘ) তিনজন মহিলা সদস্য, যাহাদের দুইজন উপজাতীয় এবং একজন অ-উপজাতীয় মহিলা হইবেন।
ব্যাখ্যা:- দফা (ঘ) তে উল্লিখিত উপজাতীয় মহিলা সদস্যগণের ক্ষেত্রে জেলার বিভিন্ন উপজাতির জন্য কোটা থাকিবে না।]
(২) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ জনসাধারণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে এই আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত হইবেন।
(৩) [উপ-ধারা (১) (খ) তে উল্লিখিত]  উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্যে-
(ক) দশ জন নির্বাচিত হইবেন মারমা ও খিয়াং উপজাতি হইতে;
(খ) তিন জন নির্বাচিত হইবেন ম্রো (মুরুং) উপজাতি হইতে;
(গ) এক জন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা ও উচাই উপজাতি হইতে;
(ঘ) এক জন নির্বাচিত হইবেন তনচৈংগ্যা উপজাতি হইতে;
(ঙ) এক জন নির্বাচিত হইবেন বোম, লুসাই ও পাংখু উপজাতি হইতে;
(চ) এক জন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে;
(ছ) এক জন নির্বাচিত হইবেন খুমী উপজাতি হইতে;
(জ) একজন নির্বাচিত হইবেন চাক উপজাতি হইতে।
(৪) চেয়ারম্যান উপজাতীয়গণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন।
[(৪ক) চেয়ারম্যান পদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা, এবং উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কোন উপজাতির জন্য নির্ধারিত সদস্য পদের জন্য যে কোন উপজাতীয় মহিলা এবং উপ-ধারা ১ (গ) তে উল্লিখিত অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য যে কোন অ উপজাতীয় মহিলা, বিধির বিধান সাপেক্ষে, নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন।]
(৫) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হইলে তিনি কোন উপজাতির সদস্য তাহা [সার্কেল চীফ]  স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে [সার্কেল চীফের]  নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি উপজাতীয় হিসাবে চেয়ারম্যান বা কোন উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
[(৬) কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত, পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।]

৫। চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য না হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না।

৬। উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।-(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, বান্দরবন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, কোন উপজাতির অন্তর্ভূক্ত হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি তাঁহার উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনে উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, বান্দরবন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, অ-উপজাতীয় হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসনে অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় বা অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;
(খ) তাঁহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষনা করেন;
(গ) তিনি দেওলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(ঘ) তিনি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বান্দরবন পার্বত্য জেলা ত্যাগ করেন;
(ঙ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(চ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;
(ছ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন;
(জ) তিনি পরিষদের কোন কাজ সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা পরিষদের কোন বিষয়ে তাঁহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের দোকানদার হন; অথবা
(ঝ) তাঁহার নিকট সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা, রূপালী ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা বা কৃষি ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে।

৭। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ।- চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে [রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারকের]  সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন, যথা ঃ-
“আমি, …………………….., পিতা বা স্বামী …………………., বান্দরবন পার্বত্য [জেলা]  পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব”।

৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা।- চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ [বিধি অনুসারে]*  দাখিল করিবেন।
ব্যাখ্যা।- “পরিবারের সদস্য” বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁহার সংগে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে।

৯। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা।-চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১০। পরিষদের মেয়াদ।-পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে [পাঁচ বৎসর] :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নুতন পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

১১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ।-(১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(২) পদত্যাগ গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

১২। চেয়ারম্যান ইত্যাদির অপসারণ।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন;
(খ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা
(গ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহা আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারায় “অসদাচরণ” বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি না
বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহূত পরিষদের বিশেষ সভায় মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন তিন-চতুর্থাংশ ভোটে তাঁহার অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয় ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হইলে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাঁহার পদ হইতে আপসারিত হইয়া যাইবেন।
(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

১৩। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ শূন্য হওয়া।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি ধারা ৭ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন:
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সরকার যথার্থ কারণে ইহা বর্ধিত করিতে পারিবে;
(খ) তিনি ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে তাঁহার পদে থাকার অযোগ্য হইয়া যান ;
(গ) তিনি ধারা ১১ এর অধীনে তাঁহার পদ ত্যাগ করেন ;
(ঘ) তিনি ধারা ১২ এর অধীনে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হন ;
(ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর ধারা ৫ বা ৬ এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন  কি না সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি পরিষদের সচিব কর্তৃক বান্দরবন পার্বত্য জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে, এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্য অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদটি শূন্য হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে তাহা সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

১৪। অস্থায়ী চেয়ারম্যান।- চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নূতন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পূনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত [পরিষদের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত কোন উপজাতীয় সদস্য]  চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন।

১৫। আকস্মিক পদ শূন্যতা।- পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার ষাট দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

১৬। পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের সময়।-(১) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী ষাট দিনের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে;
[তবে শর্ত থাকে যে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, যদি কোন বিশেষ কারণে এই উপ-ধারায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী [১৮২০]  দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।]
(২) পরিষদ বাতিল হইয়া গেলে, বাতিল থাকার মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে পরিষদ পুনর্গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
[১৬ক। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ।- (১) ধারা ১৬ এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলে উক্ত মেয়াদ সমাপ্তির তারিখে পরিষদ বাতিল হইয়া যাইবে এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের উপর পরিষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব ন্যস্ত হইবে।
(২) একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করিবে।
(৩) ধারা ১৬ এর অধীন নির্বাচিত নূতন পরিষদ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পরিষদের কার্য চালাইয়া যাইবে।
(৪) সরকার প্রয়োজনবোধে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পূণর্গঠন করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার অধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মেয়াদান্তে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নূতন পরিষদ গঠিত হইবে উহার বা উহার পরবর্তী পরিষদের ক্ষেত্রে ধারা ১৬ এর শর্তাংশের কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারার বিধানাবলী কার্যকর হইবে।”]

[১৭। ভোটার হওয়ার যোগ্যতা {ও ভোটার তালিকা}।- (১)পরিষদের নির্বাচনের জন্য কোন ব্যক্তি ভোটার তালিকাভূক্ত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) অন্যূন আঠার বৎসর বয়স্ক হন;
(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত না হন; এবং
(ঘ) বান্দরবন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হন।]
[(২) নির্বাচন কমিশন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করিবে।]

১৮। ভোটাধিকার।- কোন ব্যক্তির নাম, [ধারা ১৭ এর অধীনে প্রণীত এবং আপাততঃ বলবৎ ভোটার তালিকায়]  লিপিবদ্ধ থাকিলে তিনি পরিষদের যে কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারিবেন।

১৯। দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া নিষিদ্ধ।- কোন ব্যক্তি একই সংগে চেয়ারম্যান এবং উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

২০। নির্বাচন পরিচালনা।- (১) [নির্বাচন কমিশন]  এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করিবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
[(ক) নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ;
(কক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;]
(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই ;
(গ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ ;
(ঘ) প্রার্থী পদ প্রত্যাহার ;
(ঙ) প্রার্থীগণের এজেন্ট নিয়োগ ;
(চ) প্রতিদ্বন্দ্বীতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি ;
(ছ) ভোট গ্রহণের তালিকা, সময় ও স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;
(জ) ভোট দানের পদ্ধতি ;
(ঝ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন ;
(ঞ) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায় ;
(ট) নির্বাচনী ব্যয় ;
(ঠ) নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং উহার দন্ড ;
(ড) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি ; এবং
(ঢ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষাংগিক অন্যান্য বিষয়।
(৩) উপ-ধারা (২) (ঠ) এর অধীন প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থদন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, তবে কারাদন্ডের মেয়াদ দুই বৎসরের অধিক এবং অর্থদন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার অধিক হইবে না।

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ।- চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

২২। পরিষদের কার্যাবলী।- প্রথম তফসিলে উল্লেখিত কার্যাবলী পরিষদের কার্যাবলী হইবে, এবং পরিষদ উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী এই কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

২৩। সরকার ও পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর ইত্যাদি।-এই আইন অথবা আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার পরিষদের সম্মতিক্রমে-
(ক) পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম সরকারের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে; এবং
(খ) সরকার কর্তৃক পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্ম পরিষদের ব্যবস্থাপনায় ও নিয়ন্ত্রণে;
হস্তান্তর করার নির্দেশ দিতে পারিবে।

২৪। নির্বাহী ক্ষমতা।- (১) এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করিবার ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।
(২) এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত হইবে এবং এই আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে।
(৩) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হইতে হইবে।

২৫। কার্যাবলী নিষ্পন্ন।- (১) পরিষদের কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হইবে।
(২) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান, এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য, সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) পরিষদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্র“টি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশ গ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(৪) পরিষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

২৬। বোমাং চীফের পরিষদের সভায় যোগদানের অধিকার।- বান্দরবন বোমাং চীফ ইচ্ছা করিলে বা আমন্ত্রিত হইলে পরিষদের যে কোন সভায় যোগদান করিতে পারিবেন এবং পরিষদের কোন আলোচ্য বিষয়ে তাঁহার মতামত ব্যক্ত করিতে পারিবেন।

২৭। কমিটি।- পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও ইহার দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২৮। চুক্তি।- (১) পরিষদ কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-
(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে;
(খ) প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে।
(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন।
(৩) পরিষদ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং চেয়ারম্যান চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন।
(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন চুক্তির দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

২৯। নির্মাণ কাজ।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিতব্য সকল নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা এবং আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব প্রণয়ন করার বিধান করিবে ;
(খ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয় কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং কি শর্তে প্রযুক্তিগতভাবে এবং প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হইবে উহার বিধান করিবে;
(গ) উক্ত পরিকল্পনা ও ব্যয়ের হিসাব কাহার দ্বারা প্রণয়ন করা হইবে এবং উক্ত নির্মাণ কাজ কাহার দ্বারা সম্পাদন করা হইবে উহার বিধান করিবে।

৩০। নথিপত্র, প্রতিবেদন ইত্যাদি।-পরিষদ-
(ক) উহার কার্যাবলীর নথিপত্র প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে ;
(ক) প্রবিধানে উল্লিখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে ;
(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

[৩১। পরিষদের সচিব।-[সরকারের উপ-সচিব সমতুল্য একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের সচিব হিসাবে থাকিবেন এবং এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় কর্মকর্তাদিগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।]

৩২। পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ।-(১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের [অনুমোদনক্রমে,]  বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে :
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
[(৩) পরিষদের অন্যান্য পদে বিধি অনুযায়ী সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে, কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কর্মকর্তাগণকে সরকার অন্যত্র বদলী করিতে এবং বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।]
৩৩। ভবিষ্য তহবিল ইত্যাদি।-(১) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(২) পরিষদ ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ হইয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারবর্গকে [প্রবিধান অনুযায়ী]  গ্র্যাচুইটি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী সামাজিক বীমা প্রকল্প চালু করিতে পারিবে এবং উহাতে তাঁহাদিগকে চাঁদা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৫) পরিষদ উহার কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী বদান্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত গ্র্যাচুইটি এবং প্রবিধান অনুযায়ী অন্যান্য সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন গঠিত তহবিলে পরিষদ চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

৩৪। চাকুরী প্রবিধান।-পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে ;
(গ) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও শাস্তির বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করিতে পারিবে ;
(ঘ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করিতে পারিবে।

৩৫। পরিষদের তহবিল গঠন।- (১) বান্দরবন পার্বত্য জেলা [**]  পরিষদ তহবিল নামে পরিষদের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) পরিষদের তহবিলে নিম্নলিখিত অর্থ জমা হইবে, যথা ঃ-
(ক) জেলা পরিষদের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ ;
(খ) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য দাবী বাবদ প্রাপ্ত অর্থ ;
(গ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সকল সম্পত্তি হইতে প্রাপ্ত আয় বা মুনাফা ;
(ঘ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের অনুদান ;
(ঙ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান ;
(চ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে মুনাফা ;
(ছ) পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত অন্য যে কোন অর্থ ;
(জ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

৩৬। পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ ইত্যাদি।-(১) পরিষদের তহবিলে জমাকৃত অর্থ কোন সরকারী ট্রেজারীতে বা সরকারী ট্রেজারীর কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে [**]  রাখা হইবে।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ উহার তহবিলের কিছু অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদ ইচ্ছা করিলে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিবে।

৩৭। পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ।-(১) পরিষদের তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যয় করা যাইবে, যথা-
প্রথমতঃ পরিষদের কর্মকর্তা ওকর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;
দ্বিতীয়তঃ এই আইনের অধীন পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
তৃতীয়তঃ এই আইন বা আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইন দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;
চতুর্থতঃ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
পঞ্চমতঃ সরকার কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়।
(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চাকুরীতে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মচারীর জন্য দেয় অর্থ;
(খ) সরকারের নির্দেশে পরিষদ সার্ভিসের রক্ষণাবেক্ষন, হিসাব-নিরীক্ষণ বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য দেয় অর্থ;
(গ) কোন আদালত বা ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ;
[(ঘ) বিধি দ্বারা দায়যুক্ত বলিয়া নির্ধারিত অন্য যে কোন ব্যয়।]
(৩) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সে ব্যক্তিকে সরকার, আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল হইতে, যতদূর সম্ভব, ঐ অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৩৮। বাজেট।- (১) প্রতি অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী, অত:পর বাজেট বলিয়া উল্লিখিত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(২) কোন অর্থ-বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ ইহার বাজেট অনুমোদন করিতে না পারিেেল, সরকার উক্ত বৎসরের জন্য একটি আয়-ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করাইয়া উহা প্রত্যয়ন করিবে এবং এইরূপ প্রত্যয়নকৃত বিবরণী পরিষদের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে।
[(৩)]
[(৪) কোন অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় পরিষদ, প্রয়োজন মনে করিলে,সেই অর্থ বৎসরের জন্য প্রণীত বা অনুমোদিত বাজেট পুনঃপ্রণয়ন বা সংশোধন করিতে পারিবে এবং যথাশীঘ্র সম্ভব উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।]
(৫) এই আইন মোতাবেক গঠিত পরিষদ প্রথম বার যে অর্থ-বৎসরে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে সেই অর্থ-বৎসরের বাজেট উক্ত দায়িত্বভার গ্রহণের পর অর্থ-বৎসরটির বাকী সময়ের জন্য প্রনীত হইবে এবং উক্ত বাজেটের ক্ষেত্রেও এই ধারার বিধানাবলী, যতদূর
সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।

৩৯। হিসাব।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে রক্ষণ করা যাইবে।
(২) প্রতিটি অর্থ-বৎসর শেষ হইবার পর পরিষদ একটি বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ-বৎসরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৩) উক্ত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের একটি অনুলিপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য পরিষদ কার্যালয়ের কোন বিশিষ্ট স্থানে স্থাপন করিতে হইবে এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে জনসাধারণের আপত্তি বা পরামর্শ পরিষদ বিবেচনা করিবে।

৪০। হিসাব নিরীক্ষা।-(১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিরীক্ষিত হইবে।
(২) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ পরিষদের সকল হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল দেখিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে।
(৩) হিসাব-নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা ঃ-
(ক) অর্থ আত্মসাৎ ;
(খ) পরিষদ তহবিলের লোকসান, অপচয় এবং অপপ্রয়োগ ;
(গ) হিসাব রক্ষণে অনিয়ম ;
(ঘ) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ ও অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম।

৪১। পরিষদের সম্পত্তি।- (১) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদের উপর ন্যস্ত বা উহার মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে ;
(খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ-
(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন সাধন করিতে পারিবে ;
(খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে ;
(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবে।

৪২। উন্নয়ন পরিকল্পনা।-(১) পরিষদ উহার এখতিয়ারভূক্ত যে কোন বিষয়ে উহার তহবিলের সংগতি অনুযায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে।
(২) উক্ত পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত বিষয়ের বিধান থাকিবে, যথা ঃ-
(ক) কি পদ্ধতিতে পরিকল্পনার অর্থ যোগান হইবে এবং উহার তদারক ও বাস্তবায়ন হইবে ;
(খ) কাহার দ্বারা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হইবে ;
(গ) পরিকল্পনা সম্পর্কিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়।
[(২ক) পরিষদ সরকার হইতে প্রাপ্য অর্র্র্থে হস্তান্তরিত বিষয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবে ।]
(৩) পরিষদ উহার উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অনুলিপি উহার বাস্তবায়নের পূর্বে সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
[(৪) পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত কোন বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিষদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করিবে।]

৪৩। পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান ইত্যাদির দায়।-পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা উহার কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী
অথবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফেলতি বা অসদাচরণের কারনে পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাঁহার এই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাঁহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে তাঁহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে।

[৪৪। পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়।- পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লেখিত সকল অথবা যে কোন কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আরোপ করিতে পারিবে এবং উক্ত তফসিলে নির্ধারিত সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে রয়্যালটির অংশ বিশেষ আহরণ করিতে পারিবে।]

৪৫। কর সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন ইত্যাদি।-(১) পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপিত হইবে, এবং সরকার কর্তৃক ভিন্নরুপে নির্দেশ না দিলে, উক্ত আরোপের বিষয়টি আরোপের পূর্বে প্রকাশ করিতে হইবে।
(২) কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপের বা উহার পরিবর্তনের কোন প্রস্তাব অনুমোদিত হইলে [পরিষদ]  যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে উহা কার্যকর হইবে।

৪৬। কর সংক্রান্ত দায়।- কোন ব্যক্তি বা জিনিষপত্রের উপর কর, রেইট, টোল বা ফিস আরোপ করা যাইবে কি না উহা নির্ধারণের প্রয়োজনে পরিষদ, নোটিশের মাধ্যমে, যে কোন ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করিতে বা দলিলপত্র, হিসাব বহি বা জিনিষপত্র হাজির করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

৪৭। কর আদায়।- (১) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের সকল কর, রেইট, টোল এবং ফিস প্রবিধান দ্বারা, নির্ধারিত ব্যক্তির দ্বারা এবং পদ্ধতিতে আদায় করা হইবে।
(২) পরিষদের প্রাপ্য অনাদায়ী সকল প্রকার কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ) হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।

৪৮। কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি।- প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় এবং সময়ের মধ্যে পেশকৃত লিখিত দরখাস্ত ছাড়া অন্য কোন পন্থায় এই আইনের অধীন ধার্য কোন কর, রেইট, টোল বা ফিস বা এতদসংক্রান্ত কোন সম্পত্তির মূল্যায়ন অথবা কোন ব্যক্তির উহা প্রদানের দায়িত্ব সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।

৪৯। কর প্রবিধান।-(১) পরিষদ কর্তৃক ধার্যকৃত সকল কর, রেইট, টোল বা ফিস এবং অন্যান্য দাবী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ধার্য, আরোপ এবং নিয়ন্ত্রণ করা যাইবে।
(২) এই ধারায় উল্লিখিত বিষয় সম্পর্কিত প্রবিধানে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, কর দাতাদের করণীয় এবং কর ধার্যকারী ও আদায়কারী কর্মকর্তা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিধান থাকিবে।

[৫০। পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ।- (১) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য সাধনের, নিশ্চয়তা বিধানকল্পে সরকার প্রয়োজনে পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করিতে পারিবে।
(২) সরকার যদি এইরূপ প্রমাণ পায় যে, পরিষদের দ্বারা বা পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজকর্ম এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী, তাহা হইলে সরকার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে, এবং পরামর্শ বা নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, এবং পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ এবং পরামর্শ বা নির্দেশ বাস্তবায়ন করিবে।]
[৫১।]

[৫২।]

৫৩। পরিষদ বাতিলকরণ।- (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-
(ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;
(খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(গ) সাধারণতঃ এমন কাজ করে যাহা জনস্বার্থ বিরোধী;
(ঘ) অন্য কোনভাবে উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে;
তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত [আদেশ দ্বারা, পরিষদকে]  বাতিল করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ তাঁহাদের পদে বহাল থাকিবেন না ;
(খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ পালন করিবে।
(৩) [উক্ত বাতিলাদেশ সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে]  এই আইন ও বিধি মোতাবেক পরিষদ পুনর্গঠিত হইবে।

৫৪। যুক্ত কমিটি।- পরিষদ অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহিত একত্রে উহাদের সাধারণ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের জন্য যুক্ত কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং অনুরূপ কমিটিকে উহার যে কোন ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।

৫৫। পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ।- পরিষদ এবং অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৫৬। অপরাধ।-তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন করণীয় কাজ না করা এবং করণীয় নয় এই প্রকার কাজ করা এই আইনের অধীন দন্ডনীয় অপরাধ হইবে।
৫৭। দন্ড।-এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য অনধিক পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে এবং এই অপরাধ যদি অনবরতভাবে ঘটিতে থাকে, তাহা হইলে প্রথম দিনের অপরাধের পর পরবর্তী প্রত্যেক দিনের জন্য অপরাধীকে অতিরিক্ত অনধিক পঁচিশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাইবে।

৫৮। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ।- চেয়ারম্যান বা পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না।

৫৯। অভিযোগ প্রত্যাহার।- চেয়ারম্যান বা এতদুদ্দেশ্যে পরিষদ হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন।

৬০। অবৈধভাবে পদার্পণ।- (১) জনপথ ও সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানে কোন ব্যক্তি কোন প্রকারে অবৈধভাবে পদার্পণ করিবেন না।
(২) উক্তরূপ অবৈধ পদার্পণ হইলে পরিষদ নোটিশ দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে পদার্পণকারী ব্যক্তিকে তাঁহার অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে যদি তিনি এই নির্দেশ মান্য না করেন তাহা হইলে পরিষদ অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করিবার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে অবৈধ পদার্পণকারী কোন প্রকার ক্ষতিগ্রস্ত হইলে সেইজন্য তাহাকে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হইবে না।
(৩) অবৈধ পদার্পণ বন্ধ করার প্রয়োজনে গৃহীত ব্যবস্থার জন্য যে ব্যয় হইবে তাহা উক্ত পদার্পণকারীর উপর এই আইনের অধীন ধার্য কর বলিয়া গণ্য হইবে।

৬১। আপীল।-এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে পরিষদ বা উহার চেয়ারম্যানের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন এবং এই আপীলের উপর সরকারের [সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা বিভাগের]  সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

৬২। জেলা পুলিশ।-(১) আপাতত: বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বান্দরবন পার্বত্য জেলা পুলিশের [**]  সাব ইন্সপেক্টর ও তদনিম্ন স্তরের সকল সদস্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং পরিষদ তাঁহাদের বদলী ও প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তাঁহাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে বান্দরবন পার্বত্য জেলার উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার বজায় থাকিবে।]
(২) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত জেলা পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যের চাকুরীর শর্তাবলী, তাঁহাদের প্রশিক্ষণ, সাজসজ্জা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং তাঁহাদের পরিচালনা অন্যান্য জেলা পুলিশের অনুরূপ হইবে এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল আইন, উপ-ধারা (১) এর বিধান সাপেক্ষে, তাঁহাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(৩) বান্দরবন পার্বত্য জেলা পুলিশের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ তাঁহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যাপারে, [এতদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ]  পরিষদের নিকট দায়ী থাকিবেন।

৬৩। পুলিশের দায়িত্ব।- বান্দরবন পার্বত্য জেলায় কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে ইহার তথ্য পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা এবং পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইহার কর্মকর্তাগণকে আইনানুগ কর্তৃত্ব প্রয়োগে সহায়তা দান করা সকল পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হইবে।

[৬৪। ভূমি সংক্রান্ত বিশেষ বিধান।- (১) আপাতত:  বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন-
(ক) বান্দরবন পার্বত্য জেলার এলাকাধীন বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমিসহ যে কোন জায়গা-জমি, পরিষদের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, ইজারা প্রদান, বন্দোবস্ত, ক্রয়, বিক্রয়, বা অন্যবিধভাবে  হস্তান্তর করা যাইবে নাঃ

তবে শর্ত থাকে যে, রক্ষিত (জবংবৎাবফ) বনাঞ্চল, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ এলাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানা ও  সরকারের নামে রেকর্ডকৃত জমির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(খ) পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ও আওতাধীন কোন প্রকারের জমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল পরিষদের সহিত আলোচনা ও উহার সম্মতি ব্যতিরেকে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর করা যাইবে না।
(২) হেডম্যান, চেইনম্যান, আমিন, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যাদি পরিষদ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(৩) কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি (ঋৎরহমব খধহফ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমির মূল মালিকদেরকে বন্দোবস্ত দেওয়া হইবে।]
[৬৫। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়।-আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বান্দরবন পার্বত্য জেলার এলাকাভূক্ত ভূমি বাবদ আদায়যোগ্য ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের দায়িত্ব পরিষদে ন্যস্ত থাকিবে এবং আদায়কৃত কর পরিষদের তহবিলে জমা হইবে।]

৬৬। উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধান।- (১) বান্দরবন পার্বত্য জেলার বাসিন্দা এমন উপজাতীয়গণের মধ্যে কোন সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা উপজাতীয় বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় কারবারী বা হেডম্যানের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজাতীয়গণের মধ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি অনুযায়ী বিরোধের নিষ্পত্তি করিবেন।
(২) কার্বারীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হেডম্যান, হেডম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বান্দরবন বোমং চীফ এবং বোমং চীফের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনারের নিকট আপীল করা যাইবে এবং কমিশনারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(৩) বোমং চীফ বা কমিশনার কোন আপীল নিষ্পত্তির পূর্বে, সংশ্লিষ্ট উপজাতি হইতে তৎকর্তৃক মনোনীত অন্যূন তিন জন বিজ্ঞ ব্যক্তির সহিত পরামর্শ করিবেন।
(৪) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা এই ধারায় উল্লিখিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য-
(ক) বিচার পদ্ধতি,
(খ) বিচার প্রার্থী ও আপীলকারী কর্তৃক প্রদেয় ফিস, নির্ধারণ করিতে পারিবে।

[৬৭। পরিষদ ও সরকারী কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।- পরিষদ এবং সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, এতদ্বিষয়ে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করিতে পারিবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হইবে।]

৬৮। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা।-[(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ;
(খ) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণ ;
(গ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অন্য কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার পদ্ধতি ;
(ঘ) পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্ধতি ;
(ঙ) পরিষদ পরিদর্শনের পদ্ধতি এবং পরিদর্শকের ক্ষমতা ;
(চ) এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
[(৩) কোন বিধি প্রণীত হওয়ার পর, পরিষদের বিবেচনায়, যদি উক্ত বিধি বান্দরবন পার্বত্য জেলার জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর বলিয়া প্রতীয়মান হয়, তাহা হইলে, পরিষদ সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা উহার প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন বিবেচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।]

৬৯। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।-(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ,**]  এই আইনের বা কোন বিধির বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য না হয় এইরূপ, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে ঃ
[তবে শর্ত থাকে যে, প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরিষদকে পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।]
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরি-উক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে নিম্নরূপ সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা,
(খ) পরিষদের সভায় কোরাম নির্ধারণ,
(গ) পরিষদের সভায় প্রশ্ন উত্থাপন,
(ঘ) পরিষদের সভা আহ্বান,
(ঙ) পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লিখন,
(চ) পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন,
(ছ) সাধারণ সীলমোহরের হেফাজত ও ব্যবহার,
[(জ)]
(ঝ) পরিষদের অফিসের বিভাগ ও শাখা গঠন এবং উহাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ,
(ঞ) কার্যনির্বাহ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়,
(ট) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃঙ্খলা,
(ঠ) কর, রেইট, টোল এবং ফিস ধার্য ও আদায় সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়,
(ড) পরিষদের সম্পত্তিতে অবৈধ পদার্পণ নিয়ন্ত্রণ,
(ঢ) গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীর বিক্রয় রেজিষ্ট্রীকরণ,
(ণ) এতিমখানা, বিধবা সদন এবং দরিদ্রদের ত্রাণ সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের রেজিষ্ট্রীকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ,
(ত) জনসাধারণের ব্যবহার্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(থ) টীকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(দ) সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ,
(ধ) খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল প্রতিরোধ,
(ন) সমাজের বা ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর বা বিরক্তিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(প) বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ,
(ফ) জনসাধারণের ব্যবহার্য ফেরীর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ব) গবাদি পশুর খোয়াড়ের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ,
(ভ) ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
(ম) মেলা, প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলা ও জনসমাবেশ অনুষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণ,
(য) বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন,
(র) ভিক্ষাবৃত্তি, কিশোর অপরাধ, পতিতাবৃত্তি ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ,
(ল) কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রয়োজন হইবে এবং কি কি শর্তে উহা প্রদান করা হইবে তাহা নির্ধারণ,
(শ) এই আইনের অধীন প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
(৩) পরিষদের বিবেচনায় যে প্রকারে প্রকাশ করিলে কোন প্রবিধান সম্পর্কে জনসাধারণ ভালভাবে অবহিত হইতে পারিবে সেই প্রকারে প্রত্যেক প্রবিধান প্রকাশ করিতে হইবে।

[৭০।]  বিলুপ্ত।

৭১। পরিষদের পক্ষে ও বিপক্ষে মামলা।- (১) পরিষদের বিরুদ্ধে বা পরিষদ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ-
(ক) পরিষদের ক্ষেত্রে, পরিষদের কার্যালয়ে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে ;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে তাঁহার অফিস বা বাসস্থানে প্রদান করিতে হইবে বা পৌঁছাইয়া দিতে হইবে।
(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পৌঁছানোর পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না, এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পৌঁছানো হইয়াছে কিনা তাহার উল্লেখ থাকিতে হইবে।

৭২। নোটিশ এবং উহা জারীকরণ।- (১) এই আইন, বিধি বা প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা না করা হইতে বিরত থাকা যদি ব্যক্তির কর্তব্য হয় তাহা হইলে কোন সময়ের মধ্যে ইহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাঁহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্র“টির কারণে অবৈধ হইবে না।
(৩) ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে এই আইনের অধীন প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাঁহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাঁহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন বিশিষ্ট স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে।
(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে আঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৩। প্রকাশ্য রেকর্ড।- এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিষ্টার ঊারফবহপব অপঃ, ১৮৭২ (ও ড়ভ ১৮৭২) -তে যে অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে, প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে বিশুদ্ধ রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

৭৪। পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) গণ্য হইবেন।- পরিষদের চেয়ারম্যান ও উহার অন্যান্য সদস্য এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং পরিষদের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি চবহধষ ঈড়ফব (অপঃ ঢখঠ ড়ভ ১৮৬০) এর ঝবপঃরড়হ ২১ এ যে অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) কথাটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) বলিয়া গণ্য হইবেন।

৭৫। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ।- এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাঁহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, পরিষদ বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

৭৬। রহিতকরণ ও হেফাজত।- (১) এই আইনের বিধান অনুযায়ী বান্দরবন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ স্থাপিত হইবার সংগে সংগে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ (১৯৮৮ সনের ২৯ নং আইন), অত:পর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, বান্দরবান পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে রহিত হইবে।
(২) উক্ত আইন উক্তরূপে রহিত হইবার পর,-
(ক) বান্দরবন পার্বত্য জেলা পরিষদ, অত:পর উক্ত জেলা পরিষদ বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে।
(খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত বা প্রণীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিধি, প্রবিধান ও বাই-ল, প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল আদেশ, জারীকৃত বা জারীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ এবং মঞ্জুরীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য সকল লাইসেন্স ও অনুমতি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত, জারীকৃত বা মঞ্জুরীকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত সকল বাই-ল প্রবিধান বলিয়া গণ্য হইবে ;
(গ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধা, সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, তহবিল, নগদ ও
ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, বিনিয়োগ এবং উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কীয়, উহার যাবতীয় অধিকার বা উহাতে ন্যস্ত যাবতীয় স্বার্থ পরিষদের নিকট হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে ;
(ঘ) উক্ত জেলা পরিষদের যে সকল ঋণ, দায় ও দায়িত্ব ছিল এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত যে সকল চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছিল তাহা পরিষদের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহার দ্বারা বা উহার সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে ;
(ঙ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রণীত সকল বাজেট, প্রকল্প ও পরিকল্পনা বা তৎকর্তৃক কৃত মূল্যায়ন ও নির্ধারিত কর, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং পরিষদ কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রণীত, কৃত বা নির্ধারিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে ;
(চ) উক্ত জেলা পরিষদের প্রাপ্য সকল কর, রেইট, টোল, ফিস এবং অন্যান্য অর্থ এই আইনের অধীন পরিষদের প্রাপ্য বলিয়া গণ্য হইবে ;
(ছ) উক্ত আইন রহিত হইবার পূর্বে উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক আরোপিত সকল কর, রেইট, টোল ও ফিস এবং অন্যান্য দাবী, পরিষদ কর্তৃক, পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, একই হারে অব্যাহত থাকিবে ;
(জ) উক্ত জেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদে বদলী হইবেন ও উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন এবং তাঁহারা উক্তরূপ বদলীর পূর্বে যে শর্তে চাকুরীরত ছিলেন, পরিষদ কর্তৃক পরিবর্তিত না হইলে, সেই শর্তেই তাঁহারা উহার অধীনে চাকুরীরত থাকিবেন ;
(ঝ) উক্ত জেলা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে সকল মামলা-মোকদ্দমা চালু ছিল সেই সকল মামলা-মোকদ্দমা পরিষদ কর্তৃক বা উহার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বলিয়া গণ্য হইবে।

৭৭। নির্ধারিত পদ্ধতিতে কতিপয় বিষয়ের নিষ্পত্তি।- এই আইনে কোন কিছু করিবার জন্য বিধান থাকা সত্ত্বেও যদি উহা কোন্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা কি পদ্ধতিতে করা হইবে তৎসম্পর্কে কোন বিধান না থাকে, তাহা হইলে উক্ত কাজ বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে করা হইবে।

৭৮। অসুবিধা দূরীকরণ।- এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

৭৯। কোন আইনের বিধান সম্পর্কে আপত্তি।- বান্দরবন পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত কোন আইন পরিষদের বিবেচনায় উক্ত জেলার জন্য কষ্টকর হইলে বা উপজাতীয়দের জন্য আপত্তিকর হইলে, পরিষদ উহা কষ্টকর বা আপত্তিকর হওয়ার কারণ ব্যক্ত করিয়া আইনটির সংশোধন বা প্রয়োগ শিথিল করিবার জন্য সরকারের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন [অনুযায়ী প্রতিকারমূলক]  পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

প্রথম তফসিল
পরিষদের কার্যাবলী
[ধারা ২২ দ্রষ্টব্য]

১। জেলার আইন শৃংখলার [তত্ত্বাবধান,]  সংরক্ষণ ও উহার উন্নতি সাধন।
২। জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন; উহাদের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন, পর্যালোচনা ও হিসাব নিরীক্ষণ ঃ উহাদিগকে সহায়তা, সহযোগিতা ও উৎসাহ দান।
৩। শিক্ষা-
(ক) প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(খ) সাধারণ পাঠাগার স্থাপন ও রক্ষাণাবেক্ষণ ;
(গ) ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা ;
(ঘ) ছাত্রাবাস স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(ঙ) প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ;
(চ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক মঞ্জুরী প্রদান ;
(ছ) বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা ;
(জ) শিশু ছাত্রদের জন্য দুগ্ধ সরবরাহ ও খাদ্যের ব্যবস্থা ;
(ঝ) গরীব ও দুঃস্থ ছাত্রদের জন্য বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত মূল্যে পাঠ্য পুস্তক সরবরাহ ;
(ঞ) পাঠ্য পুস্তক ও শিক্ষা সামগ্রী বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ;
[(ট) বৃত্তিমূলক শিক্ষা;
(ঠ) মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা;
(ড) মাধ্যমিক শিক্ষা।]
৪। স্বাস্থ্য-
(ক) হাসপাতাল, ডাক্তারখানা, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ডিসপেনসারী স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(খ) ভ্রাম্যমান চিকিৎসক দল গঠন, চিকিৎসা সাহায্য প্রদানের জন্য সমিতি গঠনে উৎসাহ দান ;
(গ) ধাত্রী প্রশিক্ষণ ;
(ঘ) ম্যালেরিয়া ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ;
(ঙ) পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ;
(চ) স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শন ;
(ছ) কম্পাউন্ডার, নার্স এবং অন্যান্য চিকিৎসা কর্মীর কার্য পরিদর্শন ;
(জ) প্রাথমিক স্বাস্থ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫। জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং তৎসম্পর্কিত কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষার প্রস্তাব।
৬। কৃষি ও বন-
(ক) কৃষি উন্নয়ন ও কৃষি খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(খ) সরকার কর্তৃক [**]  রক্ষিত নয় এই প্রকার বন সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ;
(গ) উন্নত কৃষি পদ্ধতি জনপ্রিয়করণ, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও কৃষকগণকে উক্ত যন্ত্রপাতি ধারে প্রদান ;
(ঘ) পতিত জমি চাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ;
(ঙ) গ্রামাঞ্চলে বনভূমি সংরক্ষণ;
(চ) কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ প্রকল্পের কোন ব্যাঘাত না ঘটাইয়া, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং কৃষি কার্যে ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, জমানো ও নিয়ন্ত্রণ ;
(ছ) কৃষি শিক্ষার উন্নয়ন ;
(জ) ভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার এবং জলাভূমির পানি নিষ্কাশন ;
(ঝ) শষ্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ, ফসলের নিরাপত্তা বিধান, বপনের উদ্দেশ্যে বীজের ঋণ দান, রাসায়নিক সার বিতরণ এবং উহার ব্যবহার জনপ্রিয়করণ ;
(ঞ) রাস্তার পার্শ্বে ও জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বৃক্ষরোপণ ও উহার সংরক্ষণ।
৭। পশু পালন-
(ক) পশুপাখী উন্নয়ন ;
(খ) পশুপাখীর হাসপাতাল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(গ) পশু খাদ্যের মজুদ গড়িয়া তোলা ;
(ঘ) গৃহপালিত পশুসম্পদ সংরক্ষণ ;
(ঙ) চারণ ভূমির ব্যবস্থা ও উন্নয়ন ;
(চ) পশুপাখীর ব্যাধি প্রতিরোধ ও দূরীকরণ এবং পশুপাখীর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ;
(ছ) দুগ্ধ পল্লী স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসম্মত আস্তাবলের ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ ;
(জ) গৃহপালিত পশু খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ ;
(ঝ) হাঁস-মুরগী খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ ;
(ঞ) গৃহপালিত পশু ও হাঁসমুরগী পালন উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ ;
(ট) দুগ্ধ খামার স্থাপন ও সংরক্ষণ।
৮। মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, মৎস্য খামার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, মৎস্য ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।
৯। সমবায় উন্নয়ন ও সমবায় জনপ্রিয়করণ এবং উহাতে উৎসাহ দান।
১০। শিল্প ও বাণিজ্য-
(ক) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন এবং উহাতে উৎসাহ দান ;
(খ) স্থানীয় ভিত্তিক বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ;
(গ) হাট বাজার স্থাপন, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(ঘ) গ্রামাঞ্চলে শিল্পসমূহের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত সামগ্রীর বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা ;
(ঙ) গ্রামভিত্তিক শিল্পের জন্য শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ;
(চ) গ্রাম বিপণী স্থাপন ও সংরক্ষণ।
১১। সমাজকল্যাণ-
(ক) দুঃস্থ ব্যক্তিদের জন্য কল্যাণ সদন, আশ্রয় সদন, অনাথ আশ্রম, এতিমখানা, বিধবা সদন এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(খ) মৃত নিঃস্ব ব্যক্তিদের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা ;
(গ) ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি, জুয়া, মাদকদ্রব্য সেবন, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ;
(ঘ) জনগণের মধ্যে সামাজিক, নাগরিক এবং দেশপ্রেমমূলক গূণাবলীর উন্নয়ন ;
(ঙ) দরিদ্রদের জন্য আইনের সাহায্য (লিগ্যাল এইড) সংগঠন ;
(চ) সালিশী ও আপোষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ ;
(ছ) দুঃস্থ ও ছিন্নমূল পরিবারের সাহায্য ও পুনর্বাসন ;
(জ) সমাজকল্যাণ ও সমাজ উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
১২। সংস্কৃতি-
(ক) সাধারণ ও উপজাতীয় সংস্কৃতিমূলক কর্মকান্ড সংগঠন ও উহাতে উৎসাহ দান ;
(খ) জনসাধারণের জন্য ক্রীড়া ও খেলাধূলার উন্নয়ন ;
(গ) জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে রেডিওর ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(ঘ) যাদুঘর ও আর্ট-গ্যালারী স্থাপন ও প্রদর্শনীর সংগঠন ;
(ঙ) পাবলিক হল ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং জনসভার জন্য স্থানের ব্যবস্থা ;
(চ) নাগরিক শিক্ষার প্রসার, এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য সমাজ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, গবাদি পশু প্রজনন সম্পর্কিত এবং জনস্বার্থ সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়ের উপর তথ্য প্রচার ;
(ছ) জাতীয় দিবস ও উপজাতীয় উৎসবাদি উদযাপন ;
(জ) বিশিষ্ট অতিথিগণের অভ্যর্থনা ;
(ঝ) শরীরচর্চার উন্নয়ন, খেলাধূলার উৎসাহ দান এবং সমাবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া ও খেলাধূলার ব্যবস্থা করা ;
(ঞ) স্থানীয় এলাকার ঐতিহাসিক এবং আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণ ;
(ট) তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ;
(ঠ) সংস্কৃতি উন্নয়নমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা।
১৩। সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ, কালভার্ট ও ব্রীজের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন।
১৪। সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে নহে এমন খেয়াঘাট ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।
১৫। জনসাধারণের ব্যবহার্য উদ্যান, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও উদ্যানের রক্ষণাবেক্ষণ।
১৬। সরাইখানা, ডাকবাংলা এবং বিশ্রামাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
১৭। সরকার কর্তৃক পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
১৮। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন।
১৯। পানি নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, রাস্তা পাকাকরণ ও অন্যান্য জনহিতকর অত্যাবশ্যক কাজকরণ।
২০। স্থানীয় এলাকার উন্নয়নকল্পে নক্সা প্রণয়ন।
২১। স্থানীয় এলাকা ও উহার অধিবাসীদের ধর্মীয়, নৈতিক ও আর্থিক উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
[২২। পুলিশ (স্থানীয়)।
২৩। উপজাতীয় রীতি-নীতি, প্রথা এবং সামাজিক বিচার।
২৪। ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।
২৫। কাপ্তাই হ্রদ ব্যতীত অন্যান্য নদী- নালা ও খাল-বিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থা।
২৬। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
২৭। যুব কল্যাণ।
২৮। স্থানীয় পর্যটন।
২৯। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ ব্যতীত ইমপ্র“ভমেন্ট ট্রাস্ট ও অন্যান্য স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান।
৩০। স্থানীয় শিল্প-বাণিজ্যের লাইসেন্স প্রদান।
৩১। জন্ম-মৃত্যু ও অন্যান্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ।
৩২। মহাজনী কারবার
৩৩। জুম চাষ।]

দ্বিতীয় তফসিল
পরিষদ কর্তৃক আরোপনীয় কর, রেইট, [টোল, ফিস এবং সরকারের অন্যান্য সূত্র হইতে প্রাপ্ত আয়]
[ধারা ৪৪ দ্রষ্টব্য]
১। স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তরের উপর ধার্য করের অংশ।
২। বিজ্ঞাপনের উপর কর।
৩। পরিষদের রক্ষণাবেক্ষণাধীন রাস্তা, পুল ও ফেরীর উপর টোল।
৪। পরিষদ কর্তৃক জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য রেইট।
৫। পরিষদ কর্তৃক স্থাপিত বা পরিচালিত স্কুলের ফিস।
৬। পরিষদ কর্তৃক কৃত জনকল্যাণমূলক কাজ হইতে প্রাপ্ত উপকার গ্রহণের জন্য ফিস।
৭। পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত কোন বিশেষ সেবার জন্য ফিস।
[৮। অযান্ত্রিক যান-বাহনের রেজিষ্ট্রেশন ফিস।
৯। পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কর।
১০। ভূমি ও দালান কোঠার উপর হোল্ডিং কর।
১১। গৃহপালিত পশু বিক্রয়ের উপর কর।
১২। সামজিক বিচারের ফিস।
১৩। সরকারী ও বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর হোল্ডিং কর।
১৪। বনজ সম্পদের উপর রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৫। সিনেমা, যাত্রা সার্কাস ইত্যাদির উপর সম্পূরক কর।
১৬। খনিজ সম্পদ অন্বেষণ বা নিষ্কাশণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতিপত্র বা পাট্টা সূত্রে প্রাপ্ত রয়্যালটির অংশ বিশেষ।
১৭। ব্যবসার উপর কর।
১৮। লটারীর উপর কর।
১৯। মৎস্য ধরার উপর কর।
২০। সরকার কর্তৃক পরিষদকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আরোপিত কোন কর।]

তৃতীয় তফসিল
এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ
[ধারা ৫৬ দ্রষ্টব্য]

১। পরিষদ কর্তৃক আইনানুগভাবে ধার্যকৃত কর, টোল, রেইট ও ফিস ফাঁকি দেওয়া।
২। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের অধীন যে সকল বিষয়ে পরিষদ কোন তথ্য চাহিতে পারে সেই সকল বিষয়ে পরিষদের তলব অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে ব্যর্থতা বা ভূল তথ্য সরবরাহ।
৩। এই আইন, বিধি বা প্রবিধানের বিধান অনুযায়ী যে কার্যের জন্য লাইসেন্স বা অনুমতি প্রয়োজন হয় সে কার্য বিনা লাইসেন্সে বা বিনা অনুমতিতে সম্পাদন।
৪। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য কোন জনপথে অবৈধ পদার্পণ।
৫। পানীয় জল দূষিত বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয় এমন কোন কাজ করা।
৬। জনস্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হওয়ার সন্দেহে এই আইনের অধীন কোন উৎস হইতে পানি পান করা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, ঐ উৎস হইতে পানি পান করা।
৭। জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন পানীয় জলের উৎসের সন্নিকটে গবাদিপশু বা জীবজন্তুকে পানি পান করানো, পায়খানা-পেশাব করানো বা গোসল করানো।
৮। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন পুকুরে বা ডোবায় অথবা উহার সন্নিকটে শন, পাট বা অন্য কোন গাছপালা ডুবাইয়া রাখা।
৯। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে চামড়া রং করা বা পাকা করা।
১০। আবাসিক এলাকা হইতে এই আইনের অধীন নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে মাটি খনন, পাথর বা অন্য কিছু খনন করা।
১১। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে ইটের ভাটি, চুন-ভাটি, কাঠ-কয়লা ভাটি ও মৃৎশিল্প স্থাপন।
১২। আবাসিক এলাকা হইতে পরিষদ কর্তৃক নিষিদ্ধ দূরত্বের মধ্যে মৃত জীবজন্তুর দেহাবশেষ ফেলা।
১৩। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন জমি বা ইমারত হইতে আবর্জনা, জীবজন্তুর বিষ্ঠা, সার অথবা দুর্গন্ধযুক্ত অন্য কোন পদার্থ অপসারণে ব্যর্থতা।
১৪। এই আইনের অধীন নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও কোন শৌচাগার, প্রস্রাবখানা, নর্দমা, মলকুন্ড, পানি, আবর্জনা অথবা বর্জিত পদার্থ রাখিবার জন্য অন্যান্য স্থান বা পাত্র আচ্ছাদনে, অপসারণে, মেরামতে, পরিষ্কার করিতে, জীবাণুমুক্ত করিতে অথবা যথাযথভাবে রক্ষণ করিতে ব্যর্থতা।
১৫। এই আইনের অধীন কোন আগাছা, ঝোপঝাড় বা লতাগুল্ম জনস্বাস্থ্যের বা পরিবেশের জন্য প্রতিকুল ঘোষণা করা সত্ত্বেও, ইহা আপসারণ বা পরিষ্কার করিতে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বা দখলদারের ব্যর্থতা।
১৬। জনপথ সংলগ্ন কোন স্থানে জন্মানো কোন আগাছা, লতাগুল্ম বা গাছপালা জনপথের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া অথবা জনসাধারণের ব্যবহার্য পানির কোন পুকুর, কুয়া বা অন্য কোন উৎসের উপর ঝুলিয়া পড়িয়া চলাচলের বিঘœ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও বা পানি দূষিত করা সত্ত্বেও অথবা উহা এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের হানিকর বলিয়া ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট স্থানের মালিক বা দখলদার কর্তৃক উহা কাটিয়া ফেলিতে, অপসারণ করিতে বা ছাঁটিয়া ফেলিতে ব্যর্থতা।
১৭। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন শষ্যের চাষ করা, সারের প্রয়োগ করা বা ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত পন্থায় জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা।
১৮। এই আইনের বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অথবা অবহেলাভরে পায়খানার গর্ত বা পায়খানার নালা হইতে মলমূত্র বা অন্য কোন ক্ষতিকর পদার্থ কোন জনপথ বা জনসাধারণের ব্যবহার্য কোন স্থানের উপর ছড়াইয়া পড়িতে বা গড়াইয়া যাইতে দেওয়া বা এতদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নয় এই প্রকার কোন নর্দমা, খাল বা পয়:প্রণালীর উপর পতিত হইতে দেওয়া।
১৯। এই আইনের অধীন জনস্বাস্থ্যের জন্য বা পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলিয়া ঘোষিত কোন কূপ, পুকুর বা পানি সরবরাহের জন্য কোন উৎস পরিষ্কার করিতে, মেরামত করিতে, আচ্ছাদন করিতে বা উহা হইতে পানি নিষ্কাশন করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২০। এই আইনের বিধান অনুযায়ী নির্দেশিত হইয়া কোন জমি বা দালান হইতে কোন পানি বা আবর্জনা নিস্কাশনের জন্য যথোপযুক্ত পাইপ বা নর্দমার ব্যবস্থা করিতে জমি বা দালানের মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২১। চিকিৎসক হিসাবে কর্তব্যরত থাকাকালে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও পরিষদের নিকট তৎসম্পর্কে রিপোর্ট করিতে কোন চিকিৎসকের ব্যর্থতা।
২২। কোন দালানে সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তৎসম্পর্কে কোন ব্যক্তির পরিষদকে খবর দিতে ব্যর্থতা।
২৩। সংক্রামক রোগজীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত কোন দালানকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে উহার মালিক বা দখলদারের ব্যর্থতা।
২৪। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি কর্তৃক খাদ্য বা পানীয় বিক্রয় করা।
২৫। রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত কোন যানবাহনের মালিক বা চালক কর্তৃক উহাকে রোগজীবাণু মুক্ত করিতে ব্যর্থতা।
২৬। দুগ্ধের জন্য বা খাদ্যের জন্য রক্ষিত কোন প্রাণীকে ক্ষতিকর কোন দ্রব্য খাওয়ানো বা খাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
২৭। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থান ব্যতিরেকে অন্য কোন স্থানে মাংস বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোন প্রাণী জবাই করা।
২৮। ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ না করিয়া নিম্ন বা ভিন্ন মানের খাদ্য বা পানীয় সরবরাহ করিয়া ক্রেতাকে ঠকানো।
২৯। ভিক্ষার জন্য বিরক্তিকর কাকুতি মিনতি করা বা শরীরের কোন বিকৃত বা গলিত অংশ বা নোংরা ক্ষতস্থান প্রদর্শন করা।
৩০। এতদুদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ এলাকায় পতিতালয় স্থাপন বা পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করা।
৩১। কোন বৃক্ষ বা উহার শাখা কর্তন বা কোন দালান বা উহার কোন অংশ নির্মাণ বা ভাংচুর এই আইনের অধীন জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক বা বিরক্তিকর বলিয়া ঘোষণা করা সত্ত্বেও উহার কর্তন, নির্মাণ বা ভাংচুর।
৩২। পরিষদের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন রাস্তা নির্মাণ।
৩৩। এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত কোন স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে কোন বিজ্ঞাপন, নোটিশ, প্ল্যাকার্ড বা অন্য কোন প্রকার প্রচারপত্র আঁটিয়া দেওয়া।
৩৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত পদ্ধতিতে কাঠ, ঘাস, খড় বা অন্য কোন দাহ্য বস্তু স্তুপিকৃত করা।
৩৫। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে কোন রাস্তার উপরে পিকেটিং করা, জীবজন্তু রাখা, যানবাহন জমা করিয়া রাখা, অথবা কোন রাস্তাতে যানবাহন বা জীবজন্তুকে থামাইবার স্থান হিসাবে অথবা তাবু খাটাইবার স্থান হিসাবে ব্যবহার করা।
৩৬। গৃহপালিত জীবজন্তুকে ইতস্তত ঘুরিয়া বেড়াইতে দেওয়া।
৩৭। সূর্যাস্তের অর্ধঘন্টা পর হইতে সূর্যোদয়ের অর্ধঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন যানবাহনে যথাযথ বাতির ব্যবস্থা না করিয়া চালানো।
৩৮। যানবাহন চালানোর সময় সংগত কারণ ব্যতীত রাস্তার বাম পার্শ্বে না থাকা অথবা একই দিকগামী অন্য কোন যানবাহনের ডান পার্শ্বে না থাকা অথবা রাস্তার চলাচল সংক্রান্ত অন্যান্য বিধি না মানা।
৩৯। এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোন নিষেধাজ্ঞা ভংগ করিয়া রেডিও বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ঢাকঢোল পিটানো, ভেঁপু বাজানো, অথবা কাঁসা বা অন্য কোন জিনিসের দ্বারা আওয়াজ সৃষ্টি করা।
৪০। আগ্নেয়াস্ত্র, পটকা বা আতসবাজী এমনভাবে ছোড়া অথবা উহাদের লইয়া এমনভাবে খেলায় বা শিকারে রত হওয়া যাহাতে পথচারী বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বা কোন সম্পত্তির বিপদ বা ক্ষতি হয় বা হইবার সম্ভাবনা থাকে।
৪১। পথচারীদের বা পার্শ্ববর্তী এলাকার বসবাসকারী বা কর্মরত লোকজনের বিপদ হয় বা বিপদ হইবার সম্ভাবনা থাকে এমনভাবে গাছ কাটা, দালান কোঠা নির্মাণ বা খনন কাজ পরিচালনা করা অথবা বিস্ফোরণ ঘটানো।
৪২। এই আইনের অধীন প্রয়োজনীয় অনুমতি ব্যতিরেকে স্বীকৃত গোরস্থান বা শ্মশান ছাড়া অন্য কোথাও লাশ দাফন করা বা শবদাহ করা।
৪৩। হিংস্র কুকুর বা অন্য কোন ভয়ংকর প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণবিহীনভাবে ছাড়িয়া দেওয়া বা লেলাইয়া দেওয়া।
৪৪। এই আইনের অধীন বিপজ্জনক বলিয়া ঘোষিত কোন দালানকে ভাংগিয়া ফেলিতে বা উহাকে মজবুত করিতে ব্যর্থতা।
৪৫। এই আইনের অধীন মনুষ্য-বসবাসের অনুপযোগী বলিয়া ঘোষিত দালান-কোঠা বসবাসের জন্য ব্যবহার করা বা কাহাকেও উহাতে বসবাস করিতে দেওয়া।
৪৬। এই আইনের বিধান মোতাবেক কোন দালান চুনকাম বা মেরামত করিবার প্রয়োজন হইলে তাহা করিতে ব্যর্থতা।
৪৭। এই আইন বা কোন বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোন আদেশ, নির্দেশ বা ঘোষণা বা জারীকৃত কোন বিজ্ঞপ্তির খেলাপ।
৪৮। এই তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহ সংঘটনের চেষ্টা বা সহায়তা করা।

 

মোহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান
সচিব

পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করুন

download-pdf