বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

ঢাকা, ২৪শে মে, ১৯৯৮/১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪০৫
সংসদ কর্তৃক গৃহীত নিম্নলিখিত আইনটি ২৪শে মে, ১৯৯৮ (১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪০৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করিয়াছে এবং এতদ্বারা এই আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা যাইতেছেঃ-
১৯৯৮ সনের ১২ নং আইন
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল, এবং অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিধেয়; এবং
যেহেতু এই অঞ্চল উপজাতীয় অধিবাসীগণসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরাম্বিত করা প্রয়োজন; এবং
যেহেতু উপরিউক্ত লক্ষ্যসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে ; এবং
যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে তিনটি পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন এবং আনুষংগিক অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্ত একটি আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় ;
সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
১। সংক্ষিপ্ত শিরনামা ও প্রবর্তনঃ-

      (১) এই আইন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা , যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।

 

২। সংজ্ঞাঃ-  বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) ‘‘অ-উপজাতীয়” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন;
(খ) ‘‘অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপজাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং উক্ত জেলার কোন সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় তিনি              সাধারনতঃ বসবাস করেন;
(গ) ‘‘উপজাতীয়” অর্থ পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক উপজাতীয়  কোন সদস্য;
(ঘ) ‘‘চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;
(ঙ) ‘‘পরিষদ” অর্থ এই আইনের অধীনে স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ;
(চ) ‘‘পার্বত্য জেলা” অর্থ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা;
(ছ) ‘‘পার্বত্য জেলা পরিষদ” অর্থ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ;
(জ) ‘‘প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;
(ঝ) ‘‘বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
(ঞ) ‘‘সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;
(ট) ‘‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ কোন আইনের দ্বারা বা অধীনে গঠিত পার্বত্য জেলার কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।

 

৩। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনঃ- 

(১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ নামে একটি পরিষদ স্থাপিত হইবে।
(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারন সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।

 ৪। পরিষদের কার্যালয়, ইত্যাদিঃ-

(১) পরিষদের প্রধান কার্যালয় পার্বত্য জেলাসমূহের মধ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে থাকিবে।
(২) পরিষদ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, পার্বত্য জেলাসমূহে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

৫। পরিষদের গঠনঃ-

(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানসাপেক্ষে পরিষদ নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) বার জন উপ-জাতীয় সদস্য;
(গ) ছয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য;
(ঘ) দুই জন উপ-জাতীয় মহিলা সদস্য;
(ঙ) একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য;
(চ) তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পদাধিকারবলে ।
(২) চেয়ারম্যান উপজাতীয়গণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) (খ) তে উল্লিখিত উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্যে –
( ক) পাঁচজন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে;
(খ) তিনজন নির্বাচিত হইবেন মারমা উপজাতি হইতে;
(গ) দুইজন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা উপজাতি হইতে;
(ঘ) একজন নির্বাচিত হইবেন ম্রো ও তনচৈংগা উপজাতি হইতে;
(ঙ) একজন নির্বাচিত হইবেন লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং উপজাতি হইতে।
(৪) উপ-ধারা ১ (গ) তে উল্লিখিত অ-উপজাতীয় সদস্যগণ প্রতিটি পার্বত্য জেলা হইতে দুইজন করিয়া নির্বাচিত হইবেন।
(৫) উপ-ধারা ১ (ঘ) তে উল্লিখিত দুইজন উপজাতীয় মহিলা সদস্যগণের একজন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতির মহিলাগণের মধ্য হইতে এবং অপর একজন নির্বাচিত হইবেন অন্যান্য উপজাতির মহিলাগণের মধ্য হইতে।
(৬) উপ-ধারা ১ (ঙ) তে উল্লিখিত একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য পার্বত্য জেলা তিনটির
অ-উপজাতীয় মহিলাগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন।
(৭) উপ-ধারা (১) (চ) এ উল্লিখিত পরিষদের সদস্যগণের ভোটাধিকার থাকিবে।
(৮) কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটর ভিত্তিতে সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদ্বসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
(৯) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় কি না এবং হইলে তিনি কোন উপজাতির সদস্য তাহা সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদসম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি উপজাতীয় হিসাবে চেয়ারম্যান বা কোন উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

 

৬। চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যের নির্বাচনঃ–  ধারা ৫(১) (চ) তে উল্লিখিত সদস্যগণ ব্যতীত পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্য সকল সদস্য পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক বিধি অনুসারে নির্বাচিত হইবেন।

৭। চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতাঃ-(১) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্র্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য না হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না।

৮। উপজাতীয় ও অ-উপজাতীয় সসদ্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা:- (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, কোন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, কোন উপজাতীয় অন্তর্ভূক্ত হইলে এবং তাহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি তাহার উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনে উপজাতি সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(২)    কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, কোন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে,
অ-উপজাতীয় হইলে এবং তাহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত  বিধান সাপেক্ষে, তিনি অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসনে অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি উপজাতীয় বা অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না যদি –
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান ;
(খ) তাহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন ;
(গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন ;
(ঘ) তিনি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পার্বত্য জেলা ত্যাগ করেন।
(ঙ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধের দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(চ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;
(ছ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা পার্বত্য জেলার কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন;
(জ) তাহার নিকট সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা বা কৃষি ব্যাংক বা অন্য কোন তফসিলি ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে।
ব্যাখ্যা। – দফা (জ) এ উল্লিখিত “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

৯। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ।-চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারপতির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষনা করিবেন এবং শপথ পত্র বা ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন, যথা ঃ-
‘‘আমি………………………….. পিতা/স্বামী ……………………..পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান/সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ় ভাবে ঘোষনা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব”

১০। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা।-চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে তাঁহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ নির্বাচন বিধি অনুসারে দাখিল করিবেন।
ব্যাখ্যা : “পরিবারের সদস্য” বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁহার সঙ্গে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাহার ছেলেমেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাইবোনকে বুঝাইবে।
১১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ সুবিধা।-(১) চেয়ারম্যান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অনুরূপ পদ মর্যাদা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিবেন।
(২) অন্যান্য সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

১২। পরিষদের মেয়াদ।-৪১ ধারার বিধান অনুসারে বাতিল না হইলে, পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাাচিত নতুন পরিষদ প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

১৩। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ।-(১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যেকোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(২) পদত্যাগ গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

১৪। চেয়ারম্যান, ইত্যাদির অপসারণ।-(১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাহার পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন;
(খ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যরে কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা
(গ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী সাব্যস্ত হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহা আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।
ব্যাখ্যা ঃ এই উপ-ধারায় ‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি না বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহুত পরিষদের বিশেষ সভায় ধারা ৫ (১) (চ) এ উল্লেখিত সদস্য ব্যতীত অন্যান্য মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন তিন চতুর্থাংশ ভোটে তাঁহার অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয় ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হইলে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইয়া যাইবেন।
(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

১৫। চেয়ারম্যান ও সদস্যপদ শূন্য হওয়া। – (১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি ধারা ৯ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সরকার যথার্থ কারণে ইহা বর্ধিত করিতে পারিবে;
(খ) তিনি ধারা ৭ ও ৮ এর অধীনে তাহার পদে থাকার অযোগ্য হইয়া যান;
(গ) তিনি ধারা ১৩ এর অধীনে পদত্যাগ করেন;
(ঘ) তিনি ধারা ১৪ এর অধীনে তাহার পদ হইতে অপসারিত হন;
(ঙ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাহার নির্বাচনের পর ধারা ৭ বা ৮ এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন কি না সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক পরিষদের প্রধান কার্যালয় যে পার্বত্য জেলায় অবস্থিত সেই জেলার উপর এখতিয়ার সম্পন্ন জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্য অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদটি শূন্য হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীনে কোন প্রশ্ন জেলা জজের নিকট উত্তাপিত হইলে, উক্ত প্রশ্ন প্রাপ্তির অনধিক ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে জেলা জজ প্রশ্নটির উপর অভিমত প্রদান করিবেন।
(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে বিষয়টি, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য, উক্ত পদ শূন্য হইবার তারিখ উল্লেখক্রমে সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

১৬। অস্থায়ী চেয়ারম্যান।- চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের সদস্যগণ উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে একজনকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করিবেন এবং এইরুপ নির্বাচিত সদস্য চেয়ারম্যানরূপে  কার্য করিবেন।

১৭। উপনির্বাচন।- পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার অথবা, ক্ষেত্রমত, ধারা ১৫(২) এর অধীনে পদটি শূন্য হইয়াছে মর্মে জেলাজজ কর্তৃক অভিমত প্রদানের ষাট দিনের মধ্যে বিধি অনুসারে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে  নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

১৮। পরিষদের নির্বাচনের সময়।- (১) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী ষাট দিনের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) ৪১ ধারার বিাধান অনুসারে পরিষদ বাতিল হইয়া গেলে, ৪১(৩) ধারা মোতাবেক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

১৯। দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া যাইবে না।- কোন ব্যক্তি একই সংগে চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

২০। নির্বাচন পরিচালনা।- (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন অতঃপর, নির্বাচন কমিশন বলিয়া উল্লিখিত, এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করিবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ
(ক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্ণিং অফিসার, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(খ) ভোটার তালিকা প্রণয়ন;
(গ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই;
(ঘ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;
(ঙ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার;
(চ) প্রার্থীদের এজেন্ট নিয়োগ;
(ছ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি;
(জ) ভোট গ্রহণের সময় ও স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;
(ঝ) ভোট দান পদ্ধতি;
(ঞ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবন্টন;
(ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;
(ঠ) নির্বাচনী ব্যয়;
(ড) নির্বাচনে দ্নর্ুীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং  উহার দন্ড;
(ঢ) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; এবং
(ণ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষংগিক অন্যান্য বিষয়।
(৩) উপ-ধারা (২) (ড) এর অধীনে  প্রণীত বিধিতে কারাদন্ড, অর্থ দন্ড বা উভয়বিধ দন্ডের বিধান করা যাইবে, কারাদন্ডের মেয়াদ দুই বৎসরের অধিক এবং অর্থ দন্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার অধিক হইবে না।

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ।-চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশ্রীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

২২। পরিষদের কার্যাবলী।- পরিষদের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা ঃ –
(ক) পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ উহাদের আওতাধীন এবং উহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফা অনুসারে পরিষদ কর্তৃক তত্ত্বাবধান বা সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে, কোন বিষয়ে কোন পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আঞ্চলিক পরিষদের বা একাধিক পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে, পরিষদের সিদ্ধান্ত, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, চূড়ান্ত হইবে ঃ
(খ) পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;
(গ) ঈযরঃঃধমড়হম ঐরষষ ঞৎধপঃং উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইড়ধৎফ ঙৎফরহধহপব, ১৯৭৬ (খঢঢঠওও ড়ভ ১৯৭৬) দ্বারা স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর কার্যাবলীর সার্বিক তত্ত্বাবধান;
(ঘ) পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;
(ঙ) উপজাতীয় রীতি-নীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান;
(চ) জাতীয় শিল্প নীতির সহিত সংগতি রাখিয়া পার্বত্য জেলাসমূহে ভারী শিল্প স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান;
(ছ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং এনজিও কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।

২৩। নির্বাহী ক্ষমতা।-(১) এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।
(২) এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত হইবে এবং এই আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে।
(৩) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমানীকৃত বা সম্পাদিত হইতে হইবে।

২৪। কার্যাবলী নিষ্পন্ন।-(১) পরিষদের কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে  ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্তৃক নিষ্পন্ন করা হইবে।
(২) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কর্তৃক উপজাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) পরিষদের কোন সদস্য পদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্র“টি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশ গ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কোন কার্য বা কার্য ধারা অবৈধ হইবে না।
(৪) পরিষদের প্রত্যেক সভায় কার্যবিবরণীর একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

২৫। কমিটি।- পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও ইহার দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২৬। চুক্তি।-(১) পরিষদ কর্তৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-
(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে।
(খ) প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে।
(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন।
(৩) পরিষদ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং চেয়ারম্যান চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন।
(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন চুক্তির দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

২৭। নথি-পত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি। – পরিষদ –
(ক) উহার কার্যাবলীর নথি-পত্র প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;
(খ) প্রবিধানে উল্লিখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;
(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

২৮। পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা। – পরিষদের একজন মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং তিনি সরকারের যুগ্ম-সচিব পদ মর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজাতীয় কর্মকর্তাগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।

২৯।    পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ।-(১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই সব পদে নিয়োগে পার্বত্য জেলাসমূহের উপজাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।
(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদের অন্যান্য পদে বিধি অনুযায়ী সরকার পরিষদের পরামর্শক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এই সকল কর্মকর্তাকে সরকার অন্যত্র বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।

৩০। ভবিষ্য তহবিল, ইত্যাদি। – (১) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(২) পরিষদ ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ হইয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃত্যুবরণ করিলে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারবর্গকে প্রবিধান অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী সামাজিক বীমা প্রকল্প চালু করিতে পারিবে এবং উহাতে তাহাদিগকে চাঁদা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৫) পরিষদ উহার কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী বদান্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত গ্র্যাচুইটি এবং প্রবিধান অনুযায়ী অন্যান্য সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন গঠিত তহবিলে পরিষদ চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

৩১। চাকুরী প্রবিধান।- পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-
(ক) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে;
(খ) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে;
(গ) পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃংখলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও শাস্তির বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করিতে পারিবে;
(ঘ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করিতে পারিবে।

৩২। পরিষদের তহবিল, ইত্যাদি।-(১) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তহবিল নামে পরিষদের একটি তহবিল থাকিবে।
(২) পরিষদের তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা ঃ-
(ক) পার্বত্য জেলা পরিষদের তহবিল হইতে প্রদেয় অর্থ, যাহার পরিমাণ সময় সময়  সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে;
(খ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকর্তৃক পরিচালিত সম্পত্তি, যদি থাকে, হইতে প্রাপ্ত অর্থ বা মুনাফা;
(গ) সরকার বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান;
(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান;
(ঙ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত মুনাফা;
(চ) পরিষদ কর্তৃক প্রাপ্ত যে কোন অর্থ;
(ছ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

৩৩। পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ, ইত্যাদি।-(১) পরিষদের তহবিলের অর্থ কোন সরকারী ট্রেজারী বা উহার কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে রাখা হইবে।
(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ উহার তহবিলের অর্থ পরিষদের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) পরিষদ, ইচ্ছা করিলে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিবে।

৩৪। পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ।-(১) পরিষদের তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, ব্যয় করা যাইবে, যথা ঃ –
প্রথমতঃ পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;
দ্বিতীয়তঃ উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
তৃতীয়তঃ এই আইন দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;
চতুর্থতঃ সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;
পঞ্চমতঃ সরকার কর্তৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়।
(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরুপ হইবে, যথা ঃ –
(ক) পরিষদের চাকুরীতে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মকর্তা  ও কর্মচারীর জন্য দেয়  অর্থ;
(খ) সরকারের নিদের্শে পরিষদ সার্ভিসের রক্ষণাবেক্ষণ, হিসাব-নিরীক্ষা বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য দেয় অর্থ;
(গ) কোন আদালত বা ট্রাইবুন্যাল কর্তৃক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ;
(ঘ) বিধি দ্বারা দায়যুক্ত বলিয়া নির্ধারিত অন্য যে কোন ব্যয়;
(৩) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সে ব্যক্তিকে সরকার আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল হইতে ঐ অর্থ যতদুর সম্ভব, পরিশোধ করিবার জন্য নিদের্শ দিতে পারিবে।

৩৫। বাজেট।- (১) প্রতি অর্থ বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী, অতঃপর বাজেট বলিয়া উল্লিখিত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(২) কোন অর্থ বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ ইহার বাজেট অনুমোদন করিতে না পারিলে, সরকার উক্ত বৎসরের জন্য একটি আয়-ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করাইয়া উহা প্রত্যয়ন করিবে এবং এইরূপ প্রত্যয়নকৃত বিবরণী পরিষদের অনুমোদিত বাজেট বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) এই আইন মোতাবেক গঠিত পরিষদ প্রথমবার যে অর্থ বৎসরে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে সেই অর্থ বৎসরের বাজেট উক্ত দায়িত্বভার গ্রহণের পর অর্থ বৎসরটির বাকী সময়ের জন্য প্রণীত হইবে এবং উক্ত বাজেটের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী, যতদুর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
(৪) কোন অর্থ বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় পরিষদ প্রয়োজন মনে করিলে সেই অর্থ বৎসরের জন্য প্রণীত বা অনুমোদিত বাজেট পুনঃ প্রণয়ন বা সংশোধন করিতে পারিবে এবং যথাশীঘ্র সম্ভব উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

৩৬। হিসাব।- (১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে রক্ষা করা হইবে।
(২) প্রতিটি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পর পরিষদ একটি বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৩) উক্ত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের একটি অনুলিপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য পরিষদ কার্যালয়ের কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিতে হইবে এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে জনসাধারণের আপত্তি বা পরামর্শ পরিষদে বিবেচনা করিবে।

৩৭। হিসাব নিরীক্ষা।- (১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিরীক্ষিত হইবে।
(২) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ পরিষদের সকল হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে।
(৩) হিসাব-নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা ঃ –
(ক) অর্থ আত্মসাৎ;
(খ) পরিষদ-তহবিলের লোকসান, অপচয় এবং অপপ্রয়োগ;
(গ) হিসাবরক্ষণে অনিয়ম;
(ঘ) নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ বা অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম।

৩৮। পরিষদের সম্পত্তি। – (১) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা –
(ক) পরিষদের উপর ন্যস্ত বা উহার মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে;
(খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।
(২) পরিষদ-
(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন করিতে পারিবে;
(খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে ;
(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবে।

৩৯। পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান, ইত্যাদির দায়।-পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা উহার কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফেলতি বা অসদাচরণের কারণে পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে, উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাহার এই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (চঁনষরপ ফবসধহফ)  হিসাবে তাহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে।

৪০। পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ। – (১) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য বিধানকল্পে  সরকার, প্রয়োজনে, পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করিতে পারিবে।
(২) সরকার যদি নিশ্চিতভাবে এইরূপ প্রমাণ পায় যে, পরিষদের দ্বারা বা পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজ কর্ম সংবিধান বা এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী তাহা হইলে সরকার, লিখিতভাবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে এবং পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ করিবে বা পরামর্শ বাস্তবায়ন করিবে।

৪১। পরিষদ বাতিলকরণ।- (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ –
(ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;
(খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;
(গ) সাধারণত: এমন কাজ করে যাহা জনস্বার্থ বিরোধী;
(ঘ) অন্য কোন ভাবে উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে, তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, পরিষদকে বাতিল করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে-
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য তাহাদের পদে বহাল থাকিবেন না;
(খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কর্তৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ পালন করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলাদেশ সরকারী গেজেটে প্রকাশের নব্বই দিনের মধ্যে এই আইন ও বিধি মোতাবেক পরিষদ পূনর্গঠিত হইবে।

৪২। পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ। – পরিষদ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যতিরেকে অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে।

৪৩। আপীল। – এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে পরিষদ বা উহার চেয়ারম্যানের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি, উক্ত আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন এবং এই আপীলের উপর উক্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হইবে।

৪৪। পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।-পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে এতদবিষয়ে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করিতে পারিবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হইবে।

৪৫। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা। – (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যেকোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা ঃ –
(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(খ) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণ;
(গ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অন্য কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার পদ্ধতি;
(ঘ) পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্ধতি;
(ঙ) পরিষদ পরিদর্শনের পদ্ধতি এবং পরিদর্শকের ক্ষমতা;
(চ) এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এমন যে কোন বিষয়।
(৩) কোন বিধি প্রণয়নের পর পরিষদের বিবেচনায় যদি উক্ত বিধি পার্বত্য অঞ্চলের জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর বলিয়া প্রতীয়মান হয় তাহা হইলে পরিষদ সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা উহার প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন বিবেচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।

৪৬। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা।- (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে পরিষদ এই আইনের বা কোন বিধির বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুন্ন না করিয়া, অনুরুপ প্রবিধানে নিম্নরুপ সকল অথবা যে কোন বিষয়ের বিধান করা যাইবে, যথা ঃ-
(ক) পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা;
(খ) পরিষদের সভার কোরাম নির্ধারণ;
(গ) পরিষদের সভায় প্রশ্ন উত্থাপন;
(ঘ) পরিষদের সভা আহ্বান;
(ঙ) পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লিখন;
(চ) পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন;
(ছ) পরিষদের সাধারণ সীলমোহরের হেফাজত ও ব্যবহার;
(জ) পরিষদের অফিসের বিভাগ ও শাখা গঠন এবং উহাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ;
(ঝ) কার্যনির্বাহী সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়;
(ঞ) পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃঙ্খলা;
(ট) কোন কোন ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রয়োজন হইবে এবং কি কি শর্তে উহা প্রদান করা হইবে তাহা নির্ধারণ;
(ঠ) এই আইনের অধীন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।
(৩) পরিষদের বিবেচনায় যে প্রকারে প্রকাশ করিলে কোন প্রবিধান সম্পর্কে জনসাধারণ ভালভাবে অবহিত হইতে পারে সেই প্রকারে প্রত্যেক প্রবিধান প্রকাশ করিতে হইবে।
(৪) এই ধারার অধীনে প্রণীত প্রবিধান প্রণয়নের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পরিষদ উক্ত প্রবিধানের অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(৫) প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।

৪৭। পরিষদের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা।- (১) পরিষদের বিরুদ্ধে বা পরিষদ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরূদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ-
(ক) পরিষদের ক্ষেত্রে, পরিষদের প্রধান কার্যালয়ে প্রদান করিবেন বা পৌঁছাইয়া দিবেন;
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে বা তাহার অফিস বা বাসস্থানে প্রদান করিবেন, বা পৌঁছাইয়া দিবেন।
(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পৌঁছানোর পর ৩০ (ত্রিশ) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পৌঁছানো হইয়াছে কি না উহার উল্লেখ থাকিতে হইবে।

৪৮। নোটিশ এবং উহার জারীকরণ।- (১) এই আইন, বিধি বা প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা ইহা করা হইতে বিরত থাকা যদি কোন ব্যক্তির কর্তব্য হয়, তাহা হইলে কোন সময়ের মধ্যে উহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে।
(২) এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্র“টির কারণে অবৈধ হইবে না।
(৩) ভিন্নরুপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীন  প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে।
(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৪৯। প্রকাশ্য রেকর্ড।-এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিষ্টার ঊারফধহপব অপঃ, ১৮৭২ (ও ড়ভ ১৮৭২) তে যে অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) অভিব্যক্তিটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (চঁনষরপ ফড়পঁসবহঃ) বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে সঠিক রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

৫০। পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, ইত্যাদি জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) গণ্য হইবেন।- পরিষদের চেয়ারম্যান ও উহার অন্যান্য সদস্য এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং পরিষদের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি চবহধষ ঈড়ফব (অপঃ ঢখঠ ড়ভ ১৮৬০) এর ংবপঃরড়হ ২১ এ যে অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) অভিব্যক্তিটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (চঁনষরপ ঝবৎাধহঃ) বলিয়া গণ্য হইবেন।

৫১। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ। – এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, পরিষদ বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী-এর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

৫২। অসুবিধা-দূরীকরণ। – (১) এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৯ সনের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের (১৯৮৯ সনের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর আইন) যদি কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তবে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশক্রমে সেই অসঙ্গতি আইনের মাধ্যমে দূর করা হইবে।

৫৩। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরিষদের সহিত আলোচনা, ইত্যাদি। – (১) সরকার পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।
(২) তিনটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও উপজাতীয় জনগণের কল্যাণের পথে বিরূপ ফল হইতে পারে এই রূপ আইনের পরিবর্তন বা নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পরিষদ সরকারের নিকট আবেদন অথবা সুপারিশমালা পেশ করিতে পারিবে।

৫৪। ক্রান্তিকালীন বিধান।- (১) ধারা ৩ এর অধীনে পরিষদ স্থাপনের পর যতশীঘ্র সম্ভব সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ, অতঃপর অন্তর্বর্তী পরিষদ বলিয়া উল্লিখিত, গঠন করিবে।
(২) অন্তর্বর্তী পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং তাহাদের মনোনয়ন ক্ষেত্রে ধারা ৭ ও ৮ এ উল্লিখিত যোগ্যতা ও অযোগ্যতা প্রযোজ্য হইবে।
(৩) অর্ন্তবর্তী পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্য যে কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৪) অন্তর্বর্তী পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ এই আইনের ধারা ১১ এর বিধান অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিতে পারিবেন।
(৫) ধারা ৫ অনুুসারে পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী পরিষদ ধারা ২২ এ উল্লিখিত কার্যাবলী যতটুকু প্রযোজ্য হয়, এবং এই আইনের অধীন অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) ধারা ৯ অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যগণ বা তাহাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী পরিষদের অস্তিত্বও আপনা আপনি বিলুপ্ত হইবে।

খোন্দকার আবদুল হক
অতিরিক্ত সচিব
বা:স:মু:-৯৮/৯৯-২৭৫৭সি-৩০০-১৯৯৮।

 

 

পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করুন

 

download-pdf