পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৭ তম বর্ষপূর্তিতে জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা


পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো যুব সমাজের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জুম্ম জনগণকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে — দীপংকর তালুকদার

সংবাদ বিভাগ, আরএইচডিএএল, ০২.১২.২০১৪:

99
পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো উদীয়মান যুব সমাজ ও ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায় নয়, জুম্ম জনগনকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, অস্ত্রের মাধ্যমে কখনোই কোন দেশে শান্তি আসতে পারে না। অস্ত্র মানুষের মাঝে ঘৃণার জন্ম দেয়। তিনি বলেন, কোন সরকারকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কোন কিছু আদায় করা সম্ভব নয়। কোন সমস্যা হলে সরকারের সাথে থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। আজ মঙ্গলবার বিকালে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৭ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, চিংকিউ রোয়াজা, রুহুল আমিন, হাজী কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। পার্বত্য অঞ্চলে সরকার উন্নয়ন করতে চাইলে তিনি বলছেন করা যাবে না, স্কুল করতে চাইলে বলছেন করা যাবে না, সরকার মেডিকেল কলেজ করতে চাইলে তারা বলছেন করা যাবে না, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাইলে তারা বলছেন করা যাবে না। তাহলে কোন বিষয়টি তারা চান? তারা নিজেরাই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, আবার বলছেন সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না। তিনি জানান, তাদের কেউ কেউ বলছেন সরকার জেলা পরিষদ বিল পাশে তাদের সাথে আলোচনা করেনি। সরকার যদি তাদের সাথে আলোচনা না করে থাকে তাহলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ঊষাতন তালুকদার কি করেছেন, ঊষাতন তালুকদার কি তাদের প্রতিনিধি নয়? তিনি এই সকল মিথ্যাচারের মাধ্যমে জনগনকে বিভ্রান্ত না করার জন্য জনসংহতি সমিতির প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জন সংহতি সমিতির প্রতি জনগণের কোন সমর্থন নেই। তারা মিছিল মিটিং করে জনগণকে জিম্মি করে। স্কুলের ছেলে মেয়েদেরকে বাধ্য করে মিছিল মিটিংএ আসতে। তিনি বলেন, কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষক যদি ছেলে মেয়েদের মিটিংএ যেতে বারণ করেন তখন তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী দেয়া হয়। তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীদের ছাড়তে বাধ্য হন। আর ছেলেমেয়েরা প্রতিনিয়ত তাদের পিসিপিসহ অন্যান্য সংগঠন গুলোর ভয়ে থাকে। মিছিলে না আসলে তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয় নেতা-কর্মীরা।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হবে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করে, চাঁদাবাজি করে জনগনের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। বিগত নির্বাচনে যেভাবে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে এটাকে বিজয় বলা যায় না, এটাকে বলে ভোট ডাকাতি। তিনি বলেন, আসুন অস্ত্র নয়, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তনে ভালো কাজ করি।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment