সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী


ভেতরের অপশক্তিই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত

 

আরএইচডিএএল.কম : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :

 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াতসহ দেশের ভেতরের একটি অপশক্তি ব্যক্তিস্বার্থে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কেবল খুনি ও যুদ্ধাপরাধী নয়, এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিচারও একদিন বাংলার মাটিতে হবেই। আমি জাতির পিতার মেয়ে। সব হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্যই রাজনীতি করছি। জীবনের পরোয়া করি না। জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।’
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো: ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। দেশের আর কোনো ক্ষতিও কেউ করতে পারবে না। তিনি বলেন, কোনো পরাশক্তি নয়, দেশের ভেতরের কিছু অপশক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেমন এক ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদ মামলা করেও ফেরত না পেয়ে ব্যক্তিস্বার্থে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। দেশের ক্ষতি করছেন। তাঁরা ঘরের শত্রু বিভীষণ। তাঁরা দেশের মানুষ নন, কেবল ব্যক্তিস্বার্থের কথাই চিন্তা করেন। তবে দেশের মানুষ এখন সচেতন। ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে কেউ কখনো মাথা নত করবে না।
স্বতন্ত্র সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশেরই একজন যিনি এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী ও পরে বিরোধীদলীয় নেতা, এখন অবশ্য এর কিছুই নন- ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত লাগায় চিঠি দিয়ে ও একটি অখ্যাত পত্রিকায় আর্টিকেল ছাপিয়ে জিএসপির বিরোধিতা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীসহ মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিও অর্থ দিয়ে ও লবিস্ট নিয়োগ করে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। এটা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর। তাদের বিরোধিতার কারণে দেশের জিএসপি সুবিধা হয়তো স্থগিত হয়েছে। জিএসপি সুবিধা থাকলে হয়তো আমরা আরো অনেক বেশি ভালো করতে পারতাম। কিন্তু জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার পরও বাংলাদেশ থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ নতুন নতুন বাজার খুঁজে পাচ্ছে। রপ্তানিও করে যাচ্ছে। আমাদের বিনিয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে।’
আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি, রায়ও কার্যকর হচ্ছে। এই বিচারের সময় অনেক বড় বড় হোমরাচোমরাও ফোন করেছেন যেন রায় কার্যকর না হয়। অনেক ভালো কাজে ফোন না পেলেও এই কাজে ফোন পেয়েছি। কিন্তু ন্যায়-অন্যায় বোধ আছে বলেই অটল থেকেছি। মানবতা বিরোধীদের বিচার চলছে, চলবে। এই বিচার কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্ট কারো জন্মদিন হতেই পারে। কিন্তু যাঁর জন্মদিন নয়, অথচ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে মিথ্যা জন্মদিন ঘোষণা দিয়ে ও যত বয়স তত বড় কেক কেটে উৎসবে পরিণত করেছেন। অর্থাৎ খুনিদের উৎসাহিত করা, হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিকৃত মানসিকতাও দেখছি। তবে এই মিথ্যা জন্মদিন পালনের বিষয়টি দেশের মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে। এ ধরনের ঘটনাকে সাধারণ মানুষ ধিক্কারও দিচ্ছে।’
সরকারি দলের সদস্য আবদুল মতিন খসরুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। পঁচাত্তরের পর যারা জন্ম নিয়েছে, যারা ছোট ছিল তারা ভুল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার ফলে সেই ভ্রান্তি মানুষ ভুলে যেতে বসেছে, ধীরে ধীরে ভুলেও যাবে। এবার ১৫ আগস্ট যে ব্যাপকভাবে উদযাপন হয়েছে তা অভূতপূর্ব। এতেই বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু মানুষের মনের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন, চিরজাগ্রত রয়েছেন। আর কোনো চক্রান্তই পৃথিবীর কোথাও থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।’

জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সংসদে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রকে এ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। আর তারা বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল। একাত্তরেও তারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা আটকাতে পারেনি। তিনি বলেন, জিএসপি পুনর্বহাল করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্তসংবলিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৩’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে। তা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুতই জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment