মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে আবার কালক্ষেপণ


মেডিকেল কলেজের বিষয়ে ১০ দিনের সময় চাইলেন ঊষাতন তালুকদার

সংবাদ বিভাগ, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ;

CHT Meeting

 

গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিকেলে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে বৈঠক হয়। এটি ছিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মুলতবী হওয়া বৈঠকের তৃতীয় বৈঠক।

বৈঠকে আগামী মাসের প্রথম দিন থেকে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো: নাসিমের এমন বক্তব্যের পর রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ১০ দিনের সময় চেয়ে নিয়েছেন। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে ঊষাতন তালুকদার সভাকে অবহিত করেন।

সভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। কাজেই মেডিকেল কলেজ হবে কি হবে না সেটার বিষয় শেষ হয়ে গেছে। এখন আলোচনার বিষয়বস্তু হবে ক্লাস শুরু কীভাবে করা যায়। বারবার মিটিং সত্ত্বেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়াতে মেডিকেল কলেজের ক্লাস শুরু হচ্ছে না, এতে রাঙ্গামাটিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জেগে উঠছে।
আগামী ০৫ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ইতিবাচক কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলে পরদিন থেকেই মেডিকেল কলেজের ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় প্রতিষ্ঠা করা এই মেডিকেল কলেজ রাঙ্গামাটিতেই রাখার বিষয়ে সরকার অনড় রয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই কলেজের পাঠদান শুরুর বিষয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য ঊষাতন তালুকদার এমপি-র অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরকার আরো দশদিন সময় দিতে সম্মত হয়েছে। দশদিন অর্থাৎ আগামী ০৫ মার্চের মধ্যে কলেজ নিয়ে জন সংহতি সমিতির কোনো ইতিবাচক মতামত পাওয়া না গেলে ওইদিনই সরকার এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে তার অবস্থান জানাবে।
গত ১০ জানুয়ারি দেশের ১১ টি জেলায় মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনের পর একমাত্র রাঙ্গামাটি ছাড়া ইতিমধ্যে অন্য মেডিকেল কলেজ গুলোতে ক্লাস শুরু হয়। কিছু জটিলতার কারণে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে এটি নিয়ে সরকার পর পর তিনটি বৈঠকের আয়োজন করে। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে বিকাল ০২.১৫ টায় তৃতীয় বৈঠক শুরু হয়। ঘন্টাব্যাপী এ বৈঠকের শুরুতেই সভার সভাপতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এই কলেজের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি সভাকে জানান পিছিয়ে পড়া পার্বত্য জনগণের চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে উদ্যোগী হয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠা হলে চিকিৎসা শিক্ষার পাশপাশি পার্বত্যাঞ্চলের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও আরো গতিশীলতা আসবে। এর ধারাবাহিকতায়ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ জানুয়ারি সারা দেশের আরো ১১টি নব প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের সাথে এই কলেজটিও ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। ঐ দিন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনড় রয়েছেন বলে বৈঠকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অবশ্যই শুরু হবে, এ বিষয়ে কারো কোনো বক্তব্য থাকলে সরকার অবশ্যই তা বিবেচনায় নিবে। কারণ সকলের আস্থার মধ্যে থেকেই সরকার এই শুভ কাজটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আগামী মাস থেকেই এই কলেজের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরে বৈঠকে উপস্থিত সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার ও জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি কে এস মং সভাকে জানান, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের বিষয়ে জন সংহতি সমিতিসহ পাহাড়ের বেশ কয়েকটি সংগঠনের ভিন্নমত রয়েছে। তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করার জন্য কয়েকদিনের সময় প্রয়োজন। পরে সভার পক্ষ থেকে আলাপ আলোচনা করে মতামত জানানোর জন্য সাংসদ ঊষাতন তালুকদার-কে দশ দিনের সময় দেওয়া হয়। জন সংহতি সমিতির সাথে আলোচনা করে আগামী দশ দিনের মধ্যেই এই কলেজ সম্পর্কে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন এই সংসদ সদস্য। তবে দশদিনের মধ্যে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া না গেলে সরকার স্বাভাবিক গতিতেই মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উপর্যুপরি তিনটি বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে সন্তু লারমার আলোচনার পর জন সংহতি সমিতি তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে বলে গতকালকের বৈঠকে প্রতীয়মাণ হয়েছে।
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন, সহকারী পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: টিপু সুলতান, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা: শহীদ তালুকদার, সিভিল সার্জন ডা: স্নেহ কান্তি চাকমাসহ স্বাস্থ্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ওইদিন কলেজ স্থাপনের বিরুদ্ধে অবরোধের ডাক দিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয় জন সংহতি সমিতির সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সংঘাত সংঘর্ষের কারণে এক পর্যায়ে পরদিন রাঙ্গামাটিতে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ জারি করা হয়।

 

২৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশের মেডিকেল কলেজে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু ছাত্র ভর্তিসহ আনুসাঙ্গিক কার্যাদি সমাপ্ত করেও এই মেডিকেল কলেজের পাঠদান এখনো শুরু করা হয়নি। এতে খুব স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে এই কলেজে ভর্তি হওয়া নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের শিক্ষা জীবন।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment