রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্র লীগের সংবাদ সম্মেলন


মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার জোর দাবী

সংবাদ বিভাগ, রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ :

Pic SL

অবিলম্বে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার দাবী জানিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটিতে স্থাপিত না হলে সারা জেলায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আজ রোববার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা ছাত্র লীগের সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ উল্লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।

এ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’ -এর ভূমিকা প্রসঙ্গে সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (তৎকালীন স্থানীয় সরকার পরিষদ) প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ানের নেতৃত্বে কিছু জ্ঞানপাপী ব্যক্তি জেএসএস –এর মুখপাত্র হিসেবে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মো: শাহ এমরান রোকন। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইদুল।

রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তিন সাবেক চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান, মানিকলাল দেওয়ান ও জগৎ জ্যোতি দেওয়ানের সাম্প্রতিক ভূমিকায় ছাত্র লীগের নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা উচ্চ শিক্ষিত হয়ে কীভাবে এ জায়গায় উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিরোধিতা করতে পারেন আমাদের বোধগম্য নয়।

ছাত্র লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা অর্জন ও চিকিৎসা সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু পাহাড়ের কিছু স্বার্থাণ্বেষী মহল সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এমনকি তাদেরকে জিম্মি করে স্বীয় হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে।

সম্মলনে ছাত্র লীগের নেতৃবৃন্দ জেএসএস এবং তাদের সমর্থিত সহযোগী সংগঠনসমূহ এবং সুশীল ও নাগরিক সমাজসহ সকল পার্বত্যবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামে নয়, সারা দেশে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক সমস্যা আছে। শিক্ষা নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি পরিহার করে আসুন সমস্যাবলী চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য একযোগে সরকারের কাছে দাবী জানাই এবং পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করি। পার্বত্য এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চুক্তির স্বপক্ষীয় সব সংগঠন ও শক্তি মিলে কাজ করলে সফলতা আসবে।

নিম্নে সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য হুবহু প্রকাশ করা গেল –

রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অতিদ্রুত চালু করার দাবিতে-

সংবাদ সম্মেলন

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ রোববার, বিকাল ২.৩০ টা

স্থান : দলীয় কার্যালয়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগ

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আপনারা জানেন যে, বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে একটি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গুবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সারা দেশের ১১টি মেডিকেল কলেজসহ রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের পাঠদান কর্মসূচি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন। যা সারা বাংলাদেশের জন সাধারণ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগসহ পাঠদান কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। যার ফলে পার্বত্যবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ নিয়ে অত্র এলাকার জন সাধারণের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমরা দাবী জানাচ্ছি অতিদ্রুত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগসহ পাঠদান কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য।

আপনারা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন এই মহতী উদ্যোগকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য জেএসএস ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ হরতাল, অবরোধ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচী পালন করে আসছে। তাদের সাথে একই সুর মিলিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের ব্যানারে কেউ কেউ সংবাদ সম্মেলন করছেন তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অত্র এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বারবার বলে আসছি রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ উদ্বোধন হওয়ায় কেউ ভুমি থেকে উচ্ছেদ হয় নাই। অদূর ভবিষ্যতে কাউকে উচ্ছেদ না করে ভূমি অধিগ্রহণ করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাঙ্গামাটি জেলা শাখাসহ জেলা আওয়ামী লীগ সচেষ্ট থাকবে। দু-এক পরিবার উচ্ছেদ হলেও তাদেরকে সুবিধাজনক স্থানে পুনর্বাসনসহ দ্বিগুন বা ততোধিক ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারের কাছে দাবী জানাবে জেলা ছাত্রলীগসহ জেলা আওয়ামী লীগ। তাই যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে অপরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাই তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দাবী করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। পার্বত্য এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার জন্য এই ধরনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করার জন্যই এই সকল ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিচ্ছে। বর্তমান সরকার অত্র এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ যাতে তাদের স্ব-স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক পর্যায়ে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য যথাযথ উদ্যোগ সরকার ইতিমধ্যে হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চলতি বছর এই শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি, আগামী বছর থেকে শুরু করা হবে বলে আমরা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে অবহিত হয়েছি। এতেই বোঝা যায় সরকার অত্র এলাকার জনগণের কথা বিবেচনা করেই আন্তরিকতার সাথে এই সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ,

অত্র এলাকার জনগণ যাতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে না পারে সেজন্য গত ২০ ফ্রেব্র“য়ারি পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ এক সংবাদ সম্মেলন করে। আমরা মনে করি পার্বত্য এলাকার জনগণকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করার লক্ষ্যে একটি মহল বিভিন্ন ধরণের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, আমরা সচেতন সমাজ ও ছাত্র-জনতা এটা মেনে নিতে পারি না। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়ার অন্যতম কারণ বলা হচ্ছে পাহাড়িরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবে, বাঙালি পুনর্বাসন হবে। মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে তারা প্যারামেডিকেল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্ভট প্রস্তাব দিচ্ছেন। এগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে মেডিকেল কলেজের চাইতেও অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। কারণ এতে ভূমি যেমন অনেক বেশি লাগবে, তেমনি জনবলও অনেক বেশি লাগবে। সেই দক্ষ জনবল কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে নাই।

আমরা সরকারের কাছে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ অতিদ্রুত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবী জানাচ্ছি। দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতীক জননেতা দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের জনগণসহ ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হই।

অতিদ্রুত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষে পার্বত্যবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

মো: শাহ এমরান রোকন                                                                  সাইফুল আলম সাইদুল

সভাপতি                                                                                   সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ                                                                        বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখা                                                             রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শাখা

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment