রাঙ্গামাটিতে এসএমই মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু


রেল লাইন উপরে ফেলে, মানুষ ও বৃক্ষ হত্যা করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে বিরোধী দল

সংবাদ বিভাগ, আরএইচডিএএল, ২৬.১২.১৪

66
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, গণতন্ত্রের নামে রেল লাইন উপরে ফেলে, সারা দেশে মানুষ ও বৃক্ষ হত্যা করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত করার বিরোধী দলীয় ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সাথে জনগনকে সম্পৃক্ত করতে না পেরে তারা একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বর্তমান সরকার দেশকে খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে এবং দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে জোট বেঁধে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে বিরোধী দল।

55
তিনি বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্ষুধা ও দারিদ্র বিমোচন, ছিন্নমুল, অসহায় ও বৃদ্ধ পুনর্বাসনসহ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অর্থনেতিক উন্নয়নে শিল্পখাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এ খাতে এগিয়ে এসেছেন বিদেশী উদ্যোক্তারা। ফলে বিনিয়োগ বেড়েই চলেছে।

আজ রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘পার্বত্য অঞ্চলে এসএমই পণ্য মেলা-২০১৪’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন। সকাল ১১টায় শহরের রাজবাড়ি জিমনেসিয়াম চত্বরে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সৈয়দ এহসানুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটির সংরক্ষিত মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আনন্দজ্যোতি চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম নারী উদ্যোক্তা মঞ্জুলিকা চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত চার বছরে এসএমই খাতে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার উদ্যোক্তাকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৯০ হাজার নারী উদ্যোক্তা। ফলে দেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পখাত ক্রমেই সুসংহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সহজ করতে সরকার এসএমই ফাউন্ডেশন গঠন করেছে। এ খাতে এখনও পর্যন্ত ৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের আদিবাসী জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি জোর দিয়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা জরুরি। তাদের বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। দেশে পার্বত্য এলাকা ও সমতল ভূমি মিলে ৩৫ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। তাদের উন্নয়ন ও উৎপাদনের হাতিয়ারে পরিণত করে অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণ, শিল্পঋণ, বিপণন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ অঞ্চলে আলোকিত উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত শিল্প দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক গতিধারাকে আরও বেগবান করা হবে। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে শিল্প মন্ত্রণালয়।
সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ প্রতি পদে পদে বাধাগ্রস্ত। তারা জিম্মি অবৈধ অস্ত্রের কাছে। অবৈধ অস্ত্রের দ্বারা পার্বত্য অঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে কোনো উদ্যোগ সফল হবে না। তাই সবার আগে প্রয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার।
মহিলা এমপি ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পিছিয়ে পড়া পার্বত্য চট্টগ্রামকে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়নে এ অঞ্চলের নারীদের সম্পৃক্ত করে তাদেরকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং রাঙ্গামাটিতে বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা পার্বত্য অঞ্চলে উদ্যোক্তাদের মাঝে জামানত ছাড়া ২৫ লাখ ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ অঞ্চলকে বাদ দিয়ে দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখানকার উদ্যোক্তারা সফলভাবে ব্যবসা করতে পারে না। ব্যবসায়ী মহলকে মুক্তভাবে ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে তার প্রসারণ সম্ভব নয়।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment