প্রেস বিজ্ঞপ্তি


রাঙ্গামাটিতে জেলা উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভা

আরএইচডিএএল.কম : সোমবার ৩১ আগস্ট ২০১৫

RHDC Pic

জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় কোন কর্মকর্তা উপস্থিত না হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে তার সর্ম্পকে রিপোর্ট করা হবে সতর্ক করে দিয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, সরকার আমাদেরকে নিয়োগ দিয়েছেন জনগণের স্বার্থে জনগণের উন্নয়নে কাজ করার জন্যে। তিনি বলেন, প্রতিটি সভায় উপস্থিত থেকে জেলার সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত এবং সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে।

৩১ আগস্ট ২০১৫ সোমবার সকালে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আগস্ট মাসের জেলা উন্নয়ন কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে ডিডিএলজি উপ-সচিব মো: মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান-সহ জেলার বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, কমিটির সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ডিডিএলজি বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই লেকটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটিকে রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সরকার শিশুর জন্ম নিবন্ধন ও স্কুল পড়ুয়া যুবতীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়াতে নতুন ২টি প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এর একটি হলো সরকার শিশু জন্মের পর পরই মায়ের হাতে শিশু সুরক্ষা বিভিন্ন প্রসাধনী, স্যাভলন ও তোয়ালে প্রদান করবে। এতে জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে একই নিয়মে স্কুল পড়ুয়া যুবতীদের বয়ঃসন্ধিকালে তাদের হাতেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জিনিস প্রদান করা হবে। এতে করে স্কুল পড়ুয়া যুবতীদের স্কুলে উপস্থিতি অনেকাংশে বাড়বে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, লেক বেষ্টিত এলাকা রাঙ্গামাটি সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের মুখ্য সময় বলে জানান। এখন যদি পরিকল্পনা মাফিক ডিজাইন ও প্রকল্প গ্রহণ করা হয় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ রাঙ্গামাটিবাসীকে পোহাতে হবে না বলে তিনি জানান। এছাড়া জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সহযোগিতা ও যে কোন ধরনের ক্রাইম ঘটলে বা ঘটার আগে খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে অবগত করারও অনুরোধ জানান। তিনি কোরবানকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি, গরু ক্রয় বিক্রয়ের সময় জাল টাকা আদান প্রদানের বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি জানান, রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সিসি ভবনে বর্তমানে মেডিকেল কলেজের ক্লাস চালু হওয়ায় অনেক লোকজনের আসা-যাওয়া বেড়েছে। কিন্তু রাস্তার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। তিনি রাস্তাটি আরো প্রশস্ত করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের আশেপাশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের বিষয়েও চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি জানান, খুব শীঘ্রই রাঙ্গামাটিতে একটি হেলথ ক্যাম্প করা হবে এবং একজন শিশু বিশেযজ্ঞের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ৩ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই লেকে মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ও সঠিকভাবে চলছে।

হেডম্যান এসোসিয়েসনের সাধারণ সম্পাদক থোয়াইঅং মারমা জানান, বর্তমানে কাপ্তাই লেকে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা হওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় জনগণের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে রোগীদের হাসপাতালে যেতে ও ব্যবসায়ীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসণে তিনি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গালর্স গাইড এসোসিয়েমনের অতিঃ আঞ্চলিক কমিশনার জানান, রাঙ্গামাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গার্লস গাইড দল দেশের শ্রেষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয়ে মাননীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। এছাড়া আগামী মাসে তিনি রাঙ্গামাটি থেকে ৩৩ জন গার্লস গাইড নিয়ে গাজীপুরে ক্যাম্প করার উদ্দ্যেশে যাবেন।

জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে ভারত থেকে পেয়াজ আমদানী না হওয়াতে বাজারে পেয়াজের দাম একটু বেশী। অন্যান্য জিনিসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাউবির প্রতিনিধি জানান, এসএসসি ও এইচএসসির ভর্তি কার্যক্রম আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মসজিদ মন্দির পেগোদায় দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম যথারিতি চলছে।

পরিশেষে চেয়ারম্যান বলেন, কাপ্তাই হ্রদে সৃষ্ট কচুরীপানা যানজট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, কৃষকরা যদি স্ব স্ব উদ্যোগে কচুরীপানাকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করে তাহলে এটি সম্পদে পরিণত হবে। তিনি আরো বলেন, এ জেলার উন্নয়নে প্রত্যেকটি বিভাগকে একে অন্যের সহযোগী হয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়নের মনোভাব নিয়ে কাজ করলে এ জেলা একদিন দেশের একটি মডেল জেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করবে।

অরুনেন্দু ত্রিপুরা

জনসংযোগ কর্মকর্তা

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment