রাঙ্গামাটির লংগদুতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

লংগদু রিপোর্ট –

Longadu-767x340

পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি গোষ্ঠী জাত-পাতের কথা বলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের সকল উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। পাহাড়ে পূর্বের ন্যায় আবারও রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠতে চায় এই গোষ্ঠীটি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে এ অঞ্চলে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়কে এই গোষ্ঠীটির বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে বলে সাবধান করেছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গেলো ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বিজিবি রাজনগর জোন ও গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

লংগদু উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা পলাশ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লংগদু রাজনগর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল মো: তারেক বে-নজির, লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী কামাল উদ্দিন, লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বারেক সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জানে আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদের ডেপুটি কমান্ডার খোরশেদ আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ফয়জুল আজিম। স্বাগত বক্তব্য দেন লংগদু উপজেলার ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আব্দুর রহিম।

সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনতে জাত-পাত ভুলে যেমন সকল সম্প্রদায়ের লোক ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ঠিক তেমনি এ দেশের সার্বিক উন্নয়নে সকল সম্প্রদায়কে একযোগে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, ৭১-এ দেশের মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি, তখন ছিল খাদ্যের অভাব, ছিল দুর্ভিক্ষ। বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষ হওয়ার পরও দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও খাদ্য রপ্তানি করছে সরকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, অর্থনীতি উন্নয়নসহ সামগ্রিক উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে আজ দেশ। আর এসব সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানে।

তিনি আরো বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন, তখন বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থারা ঋণ না দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের টাকা দিয়েই এই সেতু নির্মাণ করা হবে। তাঁর দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৩০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি জননেত্রীর রূপকল্প ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে অঙ্গীকার তা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভাশেষে অতিথিবৃন্দ লংগদু উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও ৫৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে চাইল্ল্যাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি-র শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর ভাসান্যা আদাম ইসলামী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

Print Friendly, PDF & Email

Add Comment